• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

 

জাতিসংঘের দৃষ্টিতে বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প ‘বিপজ্জনক’

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

মায়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের কারণে সেখানে জনগোষ্ঠীর মানবিক আর্তনাদ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক ১৩টি মানবাধিকার সংগঠনের নেটওয়ার্ক ডিজেস্টার ইমার্জেন্সি কমিটি। সম্প্রতি প্রচার হওয়া বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের এক ভিডিওতে পৃথিবীর সব থেকে বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর মানবিক আর্তনাদ ধরা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনের নেটওয়ার্ক ডিজেস্টার ইমার্জেন্সি কমিটি চলতি মাসেই ভিডিওটি ধারণ করে। কমিটির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, কক্সবাজারের বালুখালি সীমান্তে ভিডিওটিতে ধারণ করা বিপন্ন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবিক আর্তনাদের চিত্র উঠে এসেছে। এখনও মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি, ফসল ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়ায় সেখানে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে আরও রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসবে। জাতিসংঘের মতে, আগামী ছয় মাসে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ পালিয়ে আসতে পারে। নিজ দেশে নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন। খাদ্য সংকট দিনকে দিন প্রকট হচ্ছে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সেখানে সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে শরণার্থী শিবিরগুলোতে কলেরাসহ পানিবাহিত অন্যান্য রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় পড়ে থাকা খালি বসতবাড়িগুলো পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও বাজারগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ধ্বংস করা হচ্ছে মজুদ থাকা চালের গুদাম ও দোকান। গ্রামের নলকূপ থেকে শুরু করে পুকুরের পানিও নষ্ট করে দিচ্ছে মায়ানমার সেনা সদস্যরা। এতে করে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন সেখানে আত্মগোপনে থাকা রোহিঙ্গারা।

দু’দিন আগে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াংমং এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। তারা জানিয়েছেন, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাণ বাজি রেখে রাখাইনেই লুকিয়েছিলেন তারা। কিন্তু, খাওয়ার মতো কিছু ছিল না। বিশুদ্ধ পানি থেকে শুরু করে কোন ধরনের খাদ্য সামগ্রী নেই সেখানে।

রাখাইনের শিলখালী গ্রামের আবুল কালাম জানান, যারা পাহাড়ের কিনারায় বসবাস করছিলেন, তারা এতদিন বাংলাদেশে না এসে পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু, এখন আর সেখানে থাকার কোন সুযোগ নেই। খালি পড়ে থাকা বসতবাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাটবাজার ও চালের গুদামগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। ধ্বংস করছে কোটি টাকার সম্পদ।

গত শুক্রবার জুমার দিনে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ওইদিন রাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে মংডুর উত্তরে ডাংগার ডেইল বাজারে। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। একইভাবে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ঢেঁকিবনিয়া, তুমব্রু, কুমিরখালী, শিলখাল, কিয়াংমং, বলিবাজার, বুচিডং, নাফপুরাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে টেকনাফের লেদা, উনচিপ্রাং, উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু।

জাতিসংঘের মতে, এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অভিযান চালাচ্ছে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সেই বিপন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জেনেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে চলে আসবে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। রাখাইনে অবশিষ্ট তিন লাখ রোহিঙ্গাও যদি চলে আসে, তাহলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে তারা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াকিনস বলেন, কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গারা খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। তাদের অনেকেই এখনও সেই বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের বসবাসও করতে হচ্ছে মানবেতর পরিস্থিতিতে। আমাদের লক্ষ্য ১২ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের জন্য প্রস্তুত থাকা। কারণ, ইতোমধ্যে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বাংলাদেশে। আর আগামী ছয় মাসে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশ ও আস্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই বিশাল সংখ্যার রোহিঙ্গাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এরই মধ্যে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘ, ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্যাতনকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। তবে মায়ানমার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে তারা। গত বছর অক্টোবরেও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিল রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের সশস্ত্র এই বিদ্রোহী সংগঠনটি। সেই সময়েও ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

গত ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পূর্বের চার লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবমিলে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশের আশ্রয়ে। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াকিনস আগামী ৬ মাসে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন ক’দিন আগেই। রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তিনি।

বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প ‘বিপজ্জনক’ হবে জাতিসংঘ
মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশে যে বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা ‘বিপজ্জনক’ হবে বলে মনে করেছে জাতিসংঘ। একটি বড় শিবিরে লাখ লাখ শরণার্থীকে রাখার পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট ওয়াটকিনস। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে ওই মহাপরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেছেন ঢাকায় জাতিসংঘের এই আবাসিক সমন্বয়ক। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানান, সব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অন্যান্য সব ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে শনিবার ঢাকায় রবার্ট ওয়াটকিনস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন বিপুলসংখ্যক মানুষ একটি সুনির্দিষ্ট সংকীর্ণ স্থানে থাকবে, আর সেই মানুষগুলো যদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে, তাহলে তাকে বিপজ্জনক বলতেই হবে।’

রবার্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এক স্থানে মাত্রাতিরিক্ত মানুষ বসবাসের ফলে নানা ধরনের মরণঘাতী রোগ দ্রুত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সেখানে আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। বাংলাদেশ বলছে, একটি বড় ক্যাম্পে সব রোহিঙ্গাকে রাখা গেলে ত্রাণ ও নিরাপত্তা দেয়া সহজ হবে। তবে রবার্ট ওয়াটকিনসের মন্তব্য, একটি ক্যাম্পে গাদাগাদি করে মানুষ রাখার চেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্প বানালে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলার কাজটা অনেক বেশি সহজ হবে।’

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

‘শর্ত ছাড়াই’ উ. কোরিয়াকে আলোচনায় বসার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

সংবাদ ডেস্ক

image

কোন পূর্বশর্ত ছাড়াই ‘যে কোন সময়’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে

অভিযুক্ত হচ্ছে সেই প্যালেস্টাইনি কিশোর

সংবাদ ডেস্ক

image

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে আটক কিশোর ফাউজি আল জুনাইদির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের

জেরুজালেমকে প্যালেস্টাইনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিন

সংবাদ ডেস্ক

image

অধীকৃত জেরুজালেমকে প্যালেস্টাইনের রাজধানীর দাবি থেকে মুসলিম বিশ্বকে ‘কোনভাবেই সরে যাওয়া যাবে

sangbad ad

বাবার মৃত্যুর পর থেকে ধর্মের প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ দেখা যেতে থাকে আকায়েদের মধ্যে

image

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে আকায়েদের মধ্যে উগ্রবাদ বা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কোনও লক্ষণ কখনও দেখা যায়নি। নিউ

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বিস্ফোরণকারী এক বাংলাদেশী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালের বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক এক বাংলাদেশির নাম আকায়েদ উল্লাহ

উত্তর কোরিয়ার মিসাইল পরীক্ষা অকার্যকর করার এক নতুন মিসাইল

image

মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিকে পাত্তা না দিয়েই একের পর এক মিসাইল পরীক্ষা চালিয়ে

নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ

image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার

রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা

image

নেহেরু-গান্ধী পরিবারের তরুন সদস্য রাহুল গান্ধীকে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে

প্যালেস্টাইনিদের ‘ক্ষোভ দিবসে’ সংঘর্ষে নিহত ২

সংবাদ ডেস্ক

image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার

sangbad ad