• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮

 

একুশ শতকে ব্যবসায় শিক্ষা

এম. এ. কালাম, অধ্যক্ষ গুলশান কমার্স কলেজ প্রতিষ্ঠাতা, কমার্স পাবলিকেশন্স

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

বিশ্বায়নের অভিঘাত সামলাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে; বজায় রাখতে হবে আন্তর্জাতিক মান। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির মহা সরণি বেয়েই ব্যবসামনস্ক জাতি গঠনের মাধ্যমেই মুক্তবাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জকে করতে হবে মোকাবিলা

মানব সভ্যতার বিবর্তনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে শিক্ষাকে অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে পাওয়া যায়। শিক্ষাকে মানুষের মানবিক, দৈহিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণের ধারাবাহিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোর ভুবনে নিয়ে আসে শিক্ষা। বন্যদশা-গুহাবাস কাটিয়ে মানুষ উঠে আসে ফ্লাট বাড়িতে। সুখী ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য আয়ত্ত্ব করতে থাকে নিত্য নতুন কৌশল, প্রয়োজন অনুভব করে যূথবদ্ধতার, গড়ে তোলে সামাজিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য, বৈষয়িক প্রয়োজনে সৃষ্টি হয় বিনিময় প্রথার। মানুষ সময়ের তাগিদে প্রবেশ করে জ্ঞানের রাজ্যে। বিশ্ব পাঠশালায় শিক্ষানবিস হিসেবে প্রকৃতির রাজ্যে শুরু করে জ্ঞান অন্বেষায় অবাধ বিচরণ। জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াই শিক্ষা হিসেবে অভিহিত হয়; যা সৃষ্টি করে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার, মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হয় আচরণের স্থায়ী পরিবর্তন। জ্ঞানের আলোর ঝলকানিতে ঝলমল করে ওঠে পৃথিবীর দশদিক। পরশ পাথরের স্পর্শে জেগে উঠে প্রাণ, গড়ে ওঠে নগর-রাষ্ট্র গ্রিস, স্পার্টা, মেসোপটেমিয়া, পারস্য, সিন্ধু, ব্যবিলন, চৈনিক, মিশরীয়সহ আরও অনেক অঞ্চলে সৃষ্টি হয় নগর সভ্যতার। সামাজিক সাংস্কৃতিক বন্ধন সৃষ্টি হয় এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের। পাশাপাশি সূচিত হয় প্রতিযোগিতার মনোভাব। প্রয়োজনের তাগিদে বিকশিত হতে থাকে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব প্রকাশের জন্য যুদ্ধ-বিদ্যায় আগ্রহী হয় এবং আয়ত্ত করে নানারকম রণ-কৌশল। অন্যের সম্পদ ও অধিকৃত অঞ্চল আয়ত্তে আনার জন্য লিপ্ত হয় যুদ্ধ বিগ্রহে। অনেকেই নিজেদের যোদ্ধাজাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। অন্যের সম্পদ লুট করে নিজেরা হয় সম্পদশালী। এসবই হচ্ছে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাস্তবতা।

সময়ের বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় চিন্তার ক্ষেত্রেও সূচিত হয় পরিবর্তন। নিজেদেরকে ঐশ্বর্যশালী ও সম্পদশালী করার জন্য মানুষ বেছে নেয় ব্যবসায়ের পথ; ক্ষুদ্র পরিসরে যার প্রচলন পূর্বেই হয়েছিল। নিজের স্বার্থ সিদ্ধির তাগিদে বণিকেরা কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ ঘোড়ায় চড়ে, কেউবা জাহাজে করে বেড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে; তৈরি করে বাণিজ্য-বলয়। এমনি দুঃসাহসী অভিযাত্রায় পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো দা-গামা (১৪৯৮ সালে), আমেরিকার কলম্বাস, ম্যাগিলান সমুদ্র পথে বেড়িয়ে পড়ে জাহাজ নিয়ে; অজানা পথ পাড়ি দিয়ে আবিস্কার করে নতুন নতুন অঞ্চল। উন্মোচিত হয় ব্যবসায়-বাণিজ্যের দ্বার, উদঘাটিত হয় নতুন দিগন্ত, বাণিজ্যের জয়ডঙ্কা ধ্বনি, অনুরণিত হয় বিশ্বের সর্বত্র।

উপমহাদেশে বাণিজ্যের উর্বর ক্ষেত্র পেয়ে পূর্ণোদ্যমে ব্যবসায় নেমে পড়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। অতি মুনাফার লোভে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে এবং একপর্যায়ে সফল হয়। সে ইতিহাস আমাদের সবারই জানা।

‘হাজারে এক আরব্য রজনী’র নায়ক সিন্দদবাদের প্রেরণায় আরবীয় বণিকরাও মরুভূমির দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে ভারতবর্ষে। আঙ্গুর, আখরোট, কিছমিছ, খেজুর প্রভৃতি ফল খাইয়ে আমাদের রসনাকে তৃপ্ত করে। এছাড়াও পেয়ে যাই মমলের কারুকার্য খচিত ইরান-তুরান আফগানিন্তানের বাহারি পোশাক পরিচ্ছেদ, গালিচা-চাদর-মাদুর। আমরা তখনো বসে আলস্যে সময় কাটাই, যদিও চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গা নিয়ে বাণিজ্য যাত্রার গৌরব গাথা আমাদের রয়েছে।

যে কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গোটা জাতির গঠন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপনিবেশিক আমলে অর্থাৎ ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে মানবিক অনুষদের অধীনে বাণিজ্য শিক্ষা উচ্চতর পর্যায়ে চালু হয়। ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশিকায় (এন্ট্রান্স বা ম্যাট্রিক) ব্যবসায় শিক্ষার কোনো কোর্স পড়ানো হতো না। যদিও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাণিজ্য বিভাগ চালু ছিল। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাউন্টিং ও ম্যনেজমেন্ট ২টি বিষয় নিয়ে বাণিজ্য অনুষদ যাত্রা করে; ১৯৭৪ সালে এসে মার্কেটিং ও ফাইন্যান্স বিভাগ যুক্ত হয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪টিতে। এভাবে ৪টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ৮টি কোর্স চালু আছে। সারাদেশের সবগুলো পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা চালু আছে। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বায়নের অভিঘাত সামলাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে; বজায় রাখতে হবে আন্তর্জাতিক মান। এক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির মহা সরণি বেয়েই ব্যবসায় মনষ্ক জাতি গঠনের মাধ্যমেই মুক্তবাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জকে করতে হবে মোকাবেলা। হেরে গেলে স্বনির্ভর জাতি হিসেবে টিকে থাকার সম্ভাবনা বিনষ্ট হবে।

বিশ্বায়ন রাষ্ট্রীয় সীমানাকে উঠিয়ে এক বৈশ্বিক পটভূমি রচনা করছে; যাতে বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল ও মানুষ একটি সর্বব্যাপী বিশ্বব্যবস্থার অধীন, যাকে বলে Global village। এটি একটি সার্বক্ষণিক ও চলমান প্রক্রিয়া। একবিংশ শতকের ব্যবসায় শিক্ষা সম্পূর্ণটাই প্রযুক্তি নির্ভর। ইন্টারনেট বিপ্লবের ফলে বই খাতার পাঠ চুকে যেতে বসেছে। দিন বদলের সুবাতাস বইছে শিক্ষাখাতে। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার। শ্রেণীকক্ষ রূপান্তরিত হচ্ছে ডিজিটাল ল্যাবে। পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনায় রেখে ব্যবসায় শিক্ষা এগিয়ে চলেছে। ব্যবসায় যারা সাফল্য অর্জন করছে; তারাই এখন অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে (economic superpower) রূপান্তরিত হয়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনৈতিক জোট। এই জোটের মাধ্যমে বহুজাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এমন এক সময় ছিল যখন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় ছিল যুদ্ধের হুমকি এবং অস্ত্রের মহড়া কিন্তু বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মহোৎসব চলছে।

ব্যবসায় শিক্ষার ডিগ্রি অর্জনে প্রাণান্ত প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে বিশ্বের সর্বত্র। সারা বিশ্ব এখন ব্যবসায়ীদের করতলগত। রাজনীতি-সমাজনীতি ও অর্থনীতি সবই পরিচালিত হয় ব্যবসায়ীদের দ্বারা। ব্যবসায় শিক্ষার ডিগ্রি এখন সবার প্রথম পছন্দ। সাধারণ ডিগ্রির মান এখন অনেকটাই নিম্নগামী। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন ক্ষুদ্র-মাঝারি-বৃহৎ উদ্যোক্তায় পরিপূর্ণ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার জন্যই বোঝা না হয়ে, হয়েছে পুঁজি। আমাদের শুধু তাকিয়ে দেখলেই চলবে না; শ্রমকে পুঁজিতে রূপান্তর করে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন করছি শিক্ষার্থীদের।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) নিশ্চিত করার জন্য বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক পুঁজি সবরাহ করে আসছে। দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য যা সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষক ও শিক্ষাদ্যোক্তা হিসেবে নতুন প্রজন্মের যারা ব্যবসায় শিক্ষায় আগ্রহী, তাদের একুশ শতকের সর্বোন্নত ব্যবসায় শিক্ষার সুযোগ তৈরির চেষ্টায় নিয়োজিত। একই সঙ্গে আমরা পুঁজির সুষ্ঠু ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছি।

আমাদের রূপকল্প-স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি। যে লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য উদ্যোগ নিচ্ছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যূনতম ব্যয়ে সর্বোৎকৃষ্ট সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। খোলা জানালা দিয়ে বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করছি।

পড়ার বিষয় : সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ

image

আজকাল শিক্ষিত উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত কারোরই জীবনে মিডিয়ার অনুপস্থিতি

জেনে রাখা : সেন্ট হেলেনা দ্বীপ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপ সেন্ট হেলেনা। দ্বীপের নাম দেওয়া হয়

জানা-অজানা : নিষিদ্ধ নগরী

image

নিষিদ্ধ ছিল চীনা সাম্রাজ্যিক প্রাসাদ যা মিং রাজবংশ থেকে চিং রাজবংশের শেষ পর্যন্ত ছিল। এটি চীনের বেইজিং শহরের মাঝে অবস্থিত। বর্তমানে

sangbad ad

জেনে রাখা : দেশের প্রথম জাদুঘর

image

বরেন্দ্র জাদুঘর রাজশাহী শহরে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। এটি প্রতœ সংগ্রহে

জানা-অজানা : কৃষ্ণ সাগর

image

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়া মহাদেশের মধ্যবর্তী কৃষ্ণ সাগর। ৪৪ ডিগ্রি উত্তর

জানা-অজানা : আল্পস পর্বতমালা

image

আল্পস পর্বতমালা ইউরোপে অবস্থিত পর্বতমালাদের মধ্যে অন্যতম। আল্পস পর্বতমালা পূর্বে

জানা-অজানা : জোয়ার-ভাটা কী?

image

পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয় শক্তির (বিশেষ করে চাঁদের) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি নিয়মিত বিরতিতে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা

জানা-অজানা : শূন্য সংখ্যা (০)

image

০ (উচ্চারণ: শূন্য) হলো একাধারে একটি সংখ্যা এবং অঙ্ক। এটি এককভাবে মানের অস্তিত্বহীনতা ও অন্যান্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও তথ্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৭ সালের ‘গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ডিপ্লোমা কোর্সের’

sangbad ad