• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

 

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল পরিচালনায় নতুন নিবন্ধন বিধিমালা কার্যকর

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

অবশেষে কার্যকর হতে যাচ্ছে বিদেশী কারিকুলামে পরিচালিত নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নিবন্ধন বিধিমালা। স্কুলের বেতন ও ফি নির্ধারনে আনা হচ্ছে নিয়ন্ত্রন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টিউশন ফি বাড়ানো যাবে। তবে নিবন্ধন ছাড়া স্কুল পরিচালনা করলে কী শাস্তি হবে সে সর্ম্পকে নিবন্ধন বিধিমালায় স্পষ্ট করে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত মাসে ‘বিদেশি শিক্ষাক্রমে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় (ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল) নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৭’ জারি করে।

শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো ১৯৬২ সালের বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পরিচালনার কথা থাকলেও তা মানছে না প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুনঃভর্তির নামে ফি আদায় বন্ধ হলেও রাজধানীর কিছু ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল নানা কৌশলে টিউশন ফি বাড়িয়ে ওই টাকা আদায় করছে। এর আগে ২০০৭ সালেও একটি বিধিমালা করা হয়েছিল তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান সংবাদকে বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিধিমালা কার্যকরের কাজ শুরু করেছি। সারাদেশে এ ধরনের স্কুলের তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। এখন থেকে সকল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আসা বাধ্যতামূলক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন চাইলেই কেউ ইচ্ছেমতো বেতন ও ফি বাড়াতে পারবে না। বাড়াতে হলে শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে আবেদন করে এডিসি‘র (শিক্ষা) অনুমোদন নিতে হবে। তারা অনুমোদন করলেই কেবল বেতন ও ফি বাড়ানো যাবে।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব ইংলিম মিডিয়াম স্কুল এখনো বিবন্ধিত হয়নি তাদের নতুন বিধিমালা অনুসারে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রায় চার বছর ধরে আটকে ছির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বিধিমালা প্রণয়ন কাজ। নীতিমালা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে ফ্রি স্টাইলে চলছে স্কুলগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাদের গাফিলতির কারণে এতদিন এ স্কুলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলনা শিক্ষা বোর্ডগুলো।

জানা গেছে, ২০১২ সালে একবার শিক্ষা বোর্ডগুলো অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্কুলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা। দেশে পরিচালিত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের জন্য একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালে উচ্চ আদালত নির্দেশনাও দিয়েছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিশেষ উদ্যোগে আলোর মূখ দেখে বিধিমালা। বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত নিয়ে খসড়া প্রণয়ন হয়। এরপর বিধিমালা চুড়ান্ত হয়।

গত মাসে আদালদের আদেশ অনুসারেই বিধিমালা চুড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। যদিও ইংরেজী মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও কিছু আমলার কারসাজিতে বিধিমালা কার্যকর না করার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করেন। সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন অনুসারে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয় বার্তা। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা গেছে বিধিমালা বাস্তবায়নকারি মূল সংস্থা সকল শিক্ষা বোর্ডের কাছেও।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এটিএম মঈনুল হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন বিধিমালা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। এখন সকলকে নিবন্ধন করতেই হবে। যারা ২০০৭ সালের বিধিমালা অনুসারে নিবন্ধন করেনি তাদের নতুন বিধিমালা অনুসারে নিবন্ধিত হতে হবে।’

নতুন বিধিমালায় ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের ওপর সরকারি তদারকি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, ‘আমরা সকল স্কুল নিয়মিত মনিটরিং করবো। কিভাবে প্রতিষ্ঠান চলছে, কারা চালাচ্ছেন। তাদেরও নিয়মিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে দিতে হবে।’

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাময়িক নিবন্ধনপ্রাপ্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল একশ’রও কম। ২০১১ সালের শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বেনবেইস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে তিন ক্যাটাগরিতে ১৫৯টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ও লেভেল ৬৪টি এবং এ লেভেল স্কুল ৫৪টি এবং জুনিয়র লেভেলের আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আছে ৪১টি।

এই মুহুর্তে সারাদেশে এই ধরণের প্রতিষ্ঠান কতটি আছে তা জানা নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার। আন্ত:শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, যদি কেউ সাময়িক নিবন্ধনের জন্য আসে তবে সেই প্রতিষ্ঠানেরই হিসাব থাকে তাদের কাছে। অন্যদের কোন হিসাব নেই বোর্ড, মন্ত্রনালয় কারো কাছে। দু'একটি ছাড়া সাময়িক নিবন্ধনপ্রাপ্ত বাকি সব স্কুলই সাময়িক অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে মানছে না। উন্নত শিক্ষা বিস্তারের নামে এসব প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া শিক্ষা বাণিজ্যে লিপ্ত বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

বিধিমালায় নানা শর্তের কথা বলা হলেও সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন না নিয়ে স্কুল চালালে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা বিধিমালায় নেই। বিধিমালা অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে ৬ জন থাকবেন উদ্যোক্তা সদস্য, ২জন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ২জন অভিভাবক প্রতিনিধি। প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন। কমিটি বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ ৬টি কাজ সম্পন্ন করবে। এগুলো হচ্ছে- টিউশন ফি নির্ধারণ, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ, স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা, অবকাঠামো, শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা অন্যতম।

সংরক্ষিত ও সাধারণ- দুই নামে স্কুলের দুটি তহবিল থাকবে। সংরক্ষিত তহবিল সঞ্চয়পত্র আকারে বা তফসিলি ব্যাংকে আমানত রাখতে হবে। বিধিমালা বলা হয়েছে- প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডার গার্ডেন বা প্রাথমিক স্কুলের জন্য মেট্রোপলিটনে তিন লাখ, জেলা সদরে আড়াই লাখ, জেলা সদরের বাইরে দুই লাখ টাকা থাকতে হবে।

অন্যদিকে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুলের সংরক্ষিত তহবিল মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য চার লাখ, জেলা সদরে তিন লাখ, জেলার বাইরে দুই লাখ টাকা থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই তহবিল মেট্রোপলিটনে পাচঁ লাখ, জেলা সদরে চার লাখ, জেলার বাইরে তিন লাখ টাকা হবে। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই অর্থ কোনোভাবেই তোলা বা ভাঙানো যাবে না। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সরকারি বিধি অনুসরণ করতে হবে। স্কুলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কারিকুলামে লেখাপড়া করানো যাবে। তবে সরকার নির্ধারিত পাঠ্যবই থাকবে।

ভাড়া বাড়িতে স্কুল প্রতিষ্ঠার সুযোগ:
ভাড়া বাড়ি এবং স্থায়ী অবকাঠামোতে স্কুল পরিচালনা করা যাবে। ভাড়া বাড়িতে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হলে কমপক্ষে ৫ বছরের চুক্তি থাকতে হবে। ৫ বছর পর স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। এতে ভাড়া বাড়িতে কোনো ধরনের স্কুলের জন্য কতটুকু জায়গা লাগবে তা বলা আছে। বিধিমালায় বিভিন্ন বিষয়ে ১৭টি মূল ধারাসহ বেশকিছু উপধারা ও ৪টি ফরম আছে।

পড়ার বিষয় : সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ

image

আজকাল শিক্ষিত উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত কারোরই জীবনে মিডিয়ার অনুপস্থিতি

জেনে রাখা : সেন্ট হেলেনা দ্বীপ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপ সেন্ট হেলেনা। দ্বীপের নাম দেওয়া হয়

জানা-অজানা : নিষিদ্ধ নগরী

image

নিষিদ্ধ ছিল চীনা সাম্রাজ্যিক প্রাসাদ যা মিং রাজবংশ থেকে চিং রাজবংশের শেষ পর্যন্ত ছিল। এটি চীনের বেইজিং শহরের মাঝে অবস্থিত। বর্তমানে

sangbad ad

জেনে রাখা : দেশের প্রথম জাদুঘর

image

বরেন্দ্র জাদুঘর রাজশাহী শহরে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। এটি প্রতœ সংগ্রহে

জানা-অজানা : কৃষ্ণ সাগর

image

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়া মহাদেশের মধ্যবর্তী কৃষ্ণ সাগর। ৪৪ ডিগ্রি উত্তর

জানা-অজানা : আল্পস পর্বতমালা

image

আল্পস পর্বতমালা ইউরোপে অবস্থিত পর্বতমালাদের মধ্যে অন্যতম। আল্পস পর্বতমালা পূর্বে

জানা-অজানা : জোয়ার-ভাটা কী?

image

পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয় শক্তির (বিশেষ করে চাঁদের) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি নিয়মিত বিরতিতে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা

জানা-অজানা : শূন্য সংখ্যা (০)

image

০ (উচ্চারণ: শূন্য) হলো একাধারে একটি সংখ্যা এবং অঙ্ক। এটি এককভাবে মানের অস্তিত্বহীনতা ও অন্যান্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও তথ্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৭ সালের ‘গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ডিপ্লোমা কোর্সের’

sangbad ad