• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ জুলাই ২০১৮

সংবাদ :
  • অনলাইন বার্তা পরিবেশক
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ তিন বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। মোবাইল ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রেমিটেন্স গ্রহণকারীর সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ কেবল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে নয় বরং এগিয়ে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও। গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচক-২০১৭ তে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিক্রমা জুলাই-২০১৮ সংখ্যায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যাংক পরিক্রমার চলতি সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচক-২০১৭-এ উল্লেখ করা হয়েছে, সারাবিশ্বে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বেড়ে দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে। এই সময়ে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে ১১ শতাংশ। গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচকের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় উল্লেখযোগ্য প্রসার হয়েছে সাব-সাহারা আফ্রিকায়। ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে যেখানে ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব রয়েছে, সেখানে সাব-সাহারা আফ্রিকায় রয়েছে ১২ শতাংশ লোকের।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে প্রতি তিন বছর পর বিশ্বব্যাংক এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। বিশ্বের ১৪০টি’রও বেশি দেশের ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি লোকের আর্থিক লেনদেনের ওপর জরিপ চালিয়ে এই ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডাটাবেজটি প্রণয়নের সময় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম বাধার কারণগুলোকেও।

গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচকের তথ্য বলছে, বিশ্বের ৬৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ অর্থাৎ ৩.৮ বিলিয়ন লোকের কোন না কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। বিভিন্ন দেশে গৃহীত সরকারি নীতি, ডিজিটাল পরিশোধ ব্যবস্থা, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নির্ভর তরুণ প্রজন্মকেই ২০১৭ সালের সূচকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক প্রযুক্তির এই ক্ষমতার দ্বারা সাব-সাহারা আফ্রিকায় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি যেখানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করছে মোট জনগোষ্ঠীর ১২ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১৪ সালে যেখানে ৪২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক টাকা পাঠানো বা ওঠানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করত এখন তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রতিদিনই বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক গড় লেনদেন হচ্ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ (মার্চ পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি এক লাখ ৫২ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৬২ হাজার। এসব গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১১ কোটি টাকা লেনদেন করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৬১০ জন।

গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচকের হিসাব বলছে, উন্নত বিশ্বের প্রায় সকল নাগরিকের (৯৪ শতাংশ) ব্যাংক হিসাব থাকলেও উন্নয়নশীল দেশে ব্যাংক হিসাব ৬৩ শতাংশ নাগরিকের। ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় হিসাব সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩২ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ভারতে হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ (৮০ শতাংশ) হয়েছে। ভারতে হিসাব সংখ্যা বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ২০১৪ সালে মোদি সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রধানমন্ত্রী জন-ধন-যোজনা প্রকল্প, যার ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগণ এবং নারীদের হিসাব সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাকিস্তান বা ইথিওপিয়ার মতো কিছু কিছু দেশে সামগ্রিকভাবে হিসাব সংখ্যা বাড়লেও নারীরা বাদ পড়ার ফলে গড় হিসাবে পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও রয়েছে এসব দেশেরই কাতারে যেখানে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এগিয়ে আছে। যদিও বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা ২০১১ (৩২ শতাংশ) সালের তুলনায় ২০১৭ সালে (৫০ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানা ধরনের কার্যক্রম। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে হতদরিদ্র, কৃষক, মুক্তিযোদ্ধা, গার্মেন্টসকর্মী, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য ব্যাংকে হিসাব খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। বিনা খরচার এ সব হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১১১টি ছিটমহলে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক এবং সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোররাও।

উল্লেখ্য, সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরের বছর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মোবাইল অপারেটরভিত্তিক হলেও বাংলাদেশে এ সেবা ব্যাংকভিত্তিক। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে। দেশের বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়েছে। তবে বর্তমানে কার্যক্রম আছে ১৮টি ব্যাংকের। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করলেও এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

রিহ্যাব পুরস্কার পেলেন ২৪ গণমাধ্যমকর্মী

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত বর্ষসেরা

সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ধার ৫ হাজার কোটি টাকা

রোকন মাহমুদ

image

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ এসেছে। এ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় থাই ব্যবসায়ীরা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। নিকটতম

sangbad ad

পুনর্মুদ্রণ হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থ পুনর্মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রন্থটিতে

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অর্ধেকেরও বেশি

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি (সাসটেন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়নে

ব্যাংক সেবার বাইরে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

ব্যাংক খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক এখনও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। অনেক

আরো এক কোটি ১৪ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশের পরিবারভিত্তিক দরিদ্র্য ও সুবিধাবঞ্চিতদের চিহ্নিত করতে ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ

অভ্যন্তরীনভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বলতে কিছু নেই

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে বলে মন্তব্য

প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশ সক্ষম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশ সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন

sangbad ad