• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮

 

ব্যবস্থাপনায় মধ্যম সারির কর্মশক্তি সৃজনে এমসিসিআই’র ‘অগ্রগামী’

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

দেশের মধ্যম সারির ব্যবস্থাপনার সিংহভাগ জনশক্তি এখন বিদেশি। প্রতি বছর দেশের ২২ জন প্রবাসী আয় করে যা দেশে পাঠান তা দেশের বাইরে চলে যায় একজন বিদেশি কর্মকর্তার আয়ের মাধ্যমে। তাই মধ্যম সারির ব্যবস্থাপনার চাহিদা যাতে দেশের কর্মকর্তা দিয়েই পূরণ করা যায় সে প্রত্যয়ে কাজ করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। এর অংশ হিসেবে যুব উন্নয়নে কর্মসূচি পালন করে থাকে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি। বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করছে ইয়ুথ লিডারশিপ প্রোগ্রাম। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘অগ্রগামী’। এমসিসিআই মনে করছে, পুঁথিগতবিদ্যার পাশাপাশি বাস্তবজ্ঞান থাকলে একাডেমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। যা দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণ করবে। তাই প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠতে সাহায্য করবে। কেননা তরুণদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পরও কাক্সিক্ষত মানের দক্ষতার ঘাটতি দেখা যায়।

রোববার (১৩ মে) সন্ধ্যায় ‘অগ্রগামী’র চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এসব কথাই জোর দিয়ে বলেন। একই সঙ্গে এসডিজি বাস্তবায়নেও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, চার দিকে আজ সুযোগের হাতছানি। আমরা চাই সেই হাতছানি বাংলাদেশ থেকেও অনেক প্রবলভাবে আসুক। তরুণদের মাধ্যমেই আমরা দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সমতাসহ অন্য এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে চাই। আজ বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের দরকার হবে এক দল মেধাবী তরুণকে। আমরা চাই তারা এখন থেকেই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে পারদর্শী হয়ে উঠুক।

বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের সফলতার পিছনের গল্প বলেন এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও কেদারপুর টি কোম্পানির চেয়ারম্যান লায়লা কবির, এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস-উদ-দৌলা, এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুরসহ আরও অনেকে। এতে প্রেরণামূলক বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন ও স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আটটি গ্রুপের প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এ সময় তারা রাজধানীর যানজন নিরসনে স্বল্পভাড়ায় সাইকেল প্রচলন, সেনিটেশন সমস্যায় পাঁচস্তরের সমাধান, শারীরিকভাবে অক্ষম জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের সমাধান তুলে ধরেন। অগ্রগামী ২০১৭-তে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০০ ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যান। এতে তাদের পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞানও অর্জন হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতায় তুলে ধরেন। আটটি গ্রুপের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন গ্রুপের হাতে ১ লাখ টাকা ও রানার্সআপ গ্রুপের হাতে ৭৫ হাজার চেক তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে লায়লা কবির বলেন, আমি যখন বাংলাদেশে আসি তখন ছোট একটা চায়ের বাগান কিনেছিলাম। কিন্তু সেখানে তেমন চাষ হতো না। কারণ সেখানে অর্গানিক মেটারের অভাব ছিল। পরে আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই চায়ের বাগানের উৎপাদন বাড়িয়েছি। বাগানের মাঝখানে গাছ লাগিয়ে অগ্রানিকমেটারের অভাব পূরণ করেছি। এই পদ্ধতি এদেশে এটিই ছিল প্রথম। আজ আমাদের অনেকগুলো চা বাগান। এভাবেই চা শিল্পের আমার অবদান বেড়েছে।

ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, অগ্রগামীর সঙ্গে আমি আরও একটা শব্দ যোগ করতে চাই তা হলো- সবাইকে অগ্রগামী হতে হবে। এটি একা কেউ পারবে না। এক সঙ্গে হতে হবে। আমি দেখেছি গ্রামের মানুষকে কিভাবে দারিদ্র্যের কষাঘাত কষ্ট দেয়। অথচ সেখানে অসাম্প্রদায়িকতা ও সহযোগিতার মনোভাব বেশি। তাই আমার মতে তাদের নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবশ্যিকভাবে তিন মাসের একটি কোর্স থাকা দরকার, যে সময়গুলো তারা গ্রামে কাটাবে। সেখানকার সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে আনবে। বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবে। গ্রামের কৃষকরা কষ্ট করে ফসল ফালায় আর মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের কাছ থেকে কম দামে সেই ফসল কিনে। আমাদের কাছে বেশি দাবে বিক্রি করে। কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ও সরকারি চাকরিজীবীদের কারণে দেশের কৃষক ঠকছেন বলেও মন্তব্য করেন।

ফজলে হাসান আবেদ তার সফলতার গল্প বলতে গিয়ে ব্র্যাক গঠনের ইতিহাস তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণের সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি যখন ব্র্যাক গঠন করি তখন প্রতি উপজেলায় দুইজন করে লোক দিয়েছিলাম, সঙ্গে দিয়েছিলাম একটি মোটরসাইকেল। তারা গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষকে ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে। যা তাদের সাবলম্বী করেছে। এছাড়া বিলগেস্টকে আমি যখন বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম তখন তিনি এদেশের দরিদ্র মানুষের সঞ্চয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তারপর আমি প্রতিষ্ঠা করলাম ‘বিকাশ’। এতে সাধারণ মানুষ তাদের আয় সঞ্চয় করতে পারে একই সঙ্গে পরিবারের কাছে দ্রুত টাকা পাঠাতে পারে।

আনিস উদ দৌলা বলেন, একজন যুবক বেশ কয়েক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তার মধ্যে বাস্তব কাজের দক্ষতার ঘাটতি দেখা যায়। অনেক কিছুই সে পারে না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান খুবই দরকার।

নাসিম মঞ্জুর বলেন, ছেড়ে দেয়ার কথা বলা সহজ। কিন্তু মনোবল ধরে রাখাই বড় বিষয়। এক দল মানুষ ব্যবসার হাল শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন বলেই আজ বাংলাদেশ এতো দূরে। আজ যারা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বড় গ্রুপের মালিক তারা এক সময় হাল না ধরলে এতবড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠতো না। অনেকে বলে এইমলেস কিন্তু আমি দেখি এক দল আশাবাদী ছাত্রছাত্রী।

নিহাদ কবির অগ্রগামীর বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, অগ্রগামী ২০১৭ নামের এই কার্যক্রমটি আমরা গত বছর আয়োজন করেছি। শিক্ষা সেই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হওয়ার পর কর্মক্ষেত্রে সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের বেলায় আমরা কিছুটা অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করে আসছি। কিন্তু আমরা দেখতে চাইছি তরুণরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অন্য দেশের তরুণদের সঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। ২০১৪ সালে এমসিসিআই এর ১১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের কাছ থেকে আমরা তরুণদের নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই। সেই বছর থেকেই আমরা নিয়ম করে প্রতিবছর তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আজ এই ফিনালে হচ্ছে সে ধারাবাহিকতার ফল।

আমাদের এবারের কার্যক্রম অন্য বছরের তুলনায় একটু ভিন্ন ছিল। অগ্রগামী ২০১৭ ছিল ছাত্র নেতৃত্বে দক্ষতা ও আস্থা বিকাশে একটি চার দিনব্যাপী লিডারশিপ প্রোগ্রাম। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শহরের নেতা এবং সংগঠনগুলোর সংযোগ স্থাপন ঘটিয়ে ও পরিস্থিতি বুঝিয়ে কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নেতৃত্বগুণ রপ্ত করতে সাহায্য করাই ছিল এই প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য। এবারের মূল থিম ছিল কিভাবে আমরা ঢাকাকে একটি স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আটটি দলে ভাগ হয়ে ছাত্রছাত্রীরা আটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধান তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ছাত্রছাত্রীদের মতামতগুলো পুরোপুরি বের করে আনা এবং সবার দেয়া সমাধান দেখে আমাদের মনে হয়েছে যে সে ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা হলেও সফল হয়েছি।

খেলাপি ঋণ কমাতে আইন সংস্কার ও এডিআরকে গুরুত্বারোপ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

খেলাপি ঋণ কমাতে আইন সংস্কার ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কে গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে

আসবাবপত্র রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশের বাইরে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশে তৈরি আসবাবপত্র ও গৃহস্থলী পণ্য। গত

সোনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলর দ্রুত সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

সোনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলর দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয়

sangbad ad

অধিকাংশ ব্যাংক কমায়নি সুদের হার

রোকন মাহমুদ

সিঙ্গেল ডিজিট বা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাংক এখনও কার্যকর করেনি। আবার যেসব ব্যাংক কমিয়েছে, তারা সব ক্ষেত্রে ৯ শতাংশে সুদহার

সিএজি হলেন মুসলিম চৌধুরী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক, অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। রোববার (১৫ জুলাই) সিএজি পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন

ইপিজেডের রপ্তানিকারকদেরও জাতীয় সম্মাননা দেয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

আগামীতে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (ইপিজেড) উদ্যোক্তাদেরও রপ্তানি ট্রফি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তির অভাব রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় আড়াইশ’ উন্নতমানের

এগার মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকা

অনলাইন বার্তা পরিবেশক, নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আমদানি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসে

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিবেশে বিরাজ করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট

sangbad ad