• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮

 

নয় মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০৫ মে ২০১৮

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) ৬০ হাজার ১২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এ অর্থবছর শেষ হতে আরও তিন মাস বাকি রয়েছে। এই তিন মাসে আরও ১৫ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার বাড়ানোর পরেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেনি। ফলে সরকারের ‘ঋণের বোঝা’ বেড়েই চলেছে। এই বোঝা লাঘবে আবারও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান অর্থবছরের ৯ মাসে ৬০ হাজার ১২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হলেও সরকার এই সময়ে এখাত থেকে নিট ঋণ নিয়েছে ৩৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি মেটাতে এই খাত থেকে গোটা অর্থবছরে সরকারের ঋণ নেয়ার কথা ছিল ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ৯ মাসেই সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। যা গোটা অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১২১.৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৪১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। শুধু মুনাফা পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ তিন হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। গত মার্চ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার ২৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে থেকে মূল ও মুনাফা বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ফলে নিট ঋণ দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৮৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ৭৫ হাজার ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ায় এই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল। সে হিসাবে নয় মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার। পুঁজিবাজারের অস্থিরতা আর ব্যাংকে মেয়াদি হিসাবে সুদের হার কম থাকায় গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র সাধারণের কাছে ‘বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ হার কিছুটা বাড়ানোর পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রি খুব একটা কমেনি।

সরকারের ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে বলে গত বছরের মে মাসে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু বাজেট অধিবেশনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ অন্য মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর ওই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করায় শেষ পর্যন্ত আর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়নি। গত সোমবার আবারও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

ঢাকা চেম্বারের সঙ্গে এক প্রাক বাজেট আলোচনায় মুহিত বলেন, আমাদের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশ বেশি। সাধারণত ব্যাংকের আমানতের সুদের হারের চেয়ে এর হার ১ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের তার চেয়েও বেশি। আমরা এর আগেও একবার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু নানা বিষয় চিন্তা করে কমানো হয়নি। তবে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিষয়টি এখনও বিবেচনায় আছে। এটা পর্যালোচনা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে। পরিবার সঞ্চয়পত্র খাতে গত ৯ মাসে নিট ঋণ এসেছে ১৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, নিট ঋণ ১০ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ এসেছে তিন হাজার ১০৮ কোটি টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ এসেছে দুই হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া মেয়াদি হিসাবে জমাকৃত অর্থ রয়েছে পাঁচ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে নিট ঋণ আছে এক হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছে বা গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন এমন অর্থের পরিমাণ ছয় হাজার ৬০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জানুয়ারিতে এই অর্থের পরিমাণ ছিল আট হাজার ৬০ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এ অর্থবছরে এটাই সর্বোচ্চ। এ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়লেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মতো নভেম্বরেও সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যায়। কিন্তু ব্যাংক খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় জানুয়ারি থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ হার খানিকটা বাড়িয়েছে, কিন্তু মানুষ ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। নিরাপদ বিনিয়োগ ভেবে সঞ্চয়পত্রই কিনছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক আমানতের ওপর সুদের হার কম ছিল, ওই সময় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ে। এখন ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। ফলে ব্যাংক আমানতে সুদের হার বাড়লেও অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো ব্যাংক খাতে। যদিও ব্যাংক খাতে আমানতের সুদের হার এখন দুই অঙ্কে ছাড়িয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতে অনাস্থা আছে, আবার পুঁজিবাজারে এখনও আস্থা ফেরেনি। এসব কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হচ্ছে সঞ্চয়পত্রকেই।’ তিনি বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে পারে এমন ভাবনা থেকেও অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। ফলে ব্যাংক আমানতে সুদের হার বাড়লেও মানুষ সঞ্চয়পত্রকেই বেছে নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্রের দিকে মানুষের আগ্রহের বড় কারণ বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার ব্যাংকের কাছাকাছি হলেও এই খাতে বিনিয়োগ নিরাপদ। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বাড়ার পরও ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার এর চেয়ে বেশ কম।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে পাওয়া যায় ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার এখন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিক্রির লাগাম টেনে ধরতে এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল।

খেলাপি ঋণ কমাতে আইন সংস্কার ও এডিআরকে গুরুত্বারোপ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

খেলাপি ঋণ কমাতে আইন সংস্কার ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কে গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে

আসবাবপত্র রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশের বাইরে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশে তৈরি আসবাবপত্র ও গৃহস্থলী পণ্য। গত

সোনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলর দ্রুত সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

সোনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলর দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয়

sangbad ad

অধিকাংশ ব্যাংক কমায়নি সুদের হার

রোকন মাহমুদ

সিঙ্গেল ডিজিট বা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাংক এখনও কার্যকর করেনি। আবার যেসব ব্যাংক কমিয়েছে, তারা সব ক্ষেত্রে ৯ শতাংশে সুদহার

সিএজি হলেন মুসলিম চৌধুরী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক, অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। রোববার (১৫ জুলাই) সিএজি পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন

ইপিজেডের রপ্তানিকারকদেরও জাতীয় সম্মাননা দেয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

আগামীতে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (ইপিজেড) উদ্যোক্তাদেরও রপ্তানি ট্রফি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তির অভাব রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় আড়াইশ’ উন্নতমানের

এগার মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকা

অনলাইন বার্তা পরিবেশক, নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আমদানি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসে

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

অনলাইন বার্তা পরিবেশক,

image

বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিবেশে বিরাজ করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট

sangbad ad