• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

জনমিতির লভ্যতার লক্ষে সর্বক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষিত রেখে দূর করতে হবে মজুরি বৈষম্য

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ০৯ মে ২০১৮

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

আগামী চার দশক জনমিতির লভ্যতার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট) সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে। এসময় শ্রমবাজারে নারীর পর্যাপ্ত অংশগ্রাহণই এই সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু এখনকার তথ্য এক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক নয়। গ্রাম ও শহরে নারী এবং পুরুষের মজুরি বৈষম্য রয়েছে ৮-১৪ শতাংশ। গত চার বছরে পুরুষের তুলনায় নারীর আয় কমেছে আড়াই শতাংশ। নিশ্চিত হয়নি কাজের নিরাপদ পরিবেশ। তাই আগামী বছরগুলোতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা নিতে হলে কর্মক্ষেত্রের নারীর সুবিধা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমশবাজারে আসতে নারীদের বাল্যবিয়ে, পর্যাপ্ত শিক্ষার ও প্রশিক্ষণের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানিসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। এছাড়া বাজেটে নারী উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দও রাখতে হবে। দরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন।

সিপিডি এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রোমোটিং ফিমেল এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ ফর রিয়েলাইজিং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্স’ সেমিনারে এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ) বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান বুর্যুর পরিচালক কবির উদ্দিন, বিআইডিএস এর সিনিয়র গবেষনা ফ্যালো ড. মিনহাজ মাহমুদসহ ও মহিলা পরিষদের সভাপতি মালেকা বানুসহ আরো অনেকে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলতে বোঝায় ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশনের সময় মানুষের বয়স কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে কর্মক্ষম লোকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্ভরশীল লোকসংখ্যা হ্রাস। এ রকম পরিস্থিতি একটি জাতির জীবনে একবারই মাত্র আসে। সিপিডি বলছে দেশে আগামী চার দশক ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডটি থাকবে। যা শেষ হবে ২০৬০ সালে। সুতরাং এর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে আমাদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ছাড়া বড় সমস্যা হলো মজুরি বৈষম্য। ২০১৫-১৬ বছরের এক হিসেবে দেখা যায় গ্রামের পুরূষের তুলনায় গ্রামের নারীরা ৮ শতাংশ মুজরি কম পায়। আর শহরে এই পর্থক্য আরো বেশি। এখানে পর্যক্য ১৪ শতাংশ। গ্রামের একজন পুরুষ যেখানে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা মুজুরি পায় সেখানে মেয়েরা পায় নয় হাজার কিংবা তারচেয়ে একটু বেশি। শহরে পুরুষের মজুরি ১২ হাজার ৭৮৯ টাকা আর নারীর মজুরি ১১ হাজার ১৬৬ টাকা।

চার বছরের ব্যবধানে দেশের কর্মজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। ২০১৩ সালে একজন কর্মজীবী প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার ১৫২ টাকা মজুরি পেতেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে তা কমে ১৩ হাজার ২৫৮ টাকা হয়েছে। প্রকৃত আয় কমেছে আড়াই শতাংশের মতো। অন্যদিকে পুরুষদের চেয়ে নারী কর্মজীবীদের প্রকৃত আয় বেশি কমেছে। ২০১৩ সালে একজন কর্মজীবী নারী প্রতি মাসে গড়ে ১৩ হাজার ৭১২ টাকা মজুরি পেতেন। এখন পান ১২ হাজার ২৫৪ টাকা। মজুরি কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরুষেরা চার বছর আগে পেতেন ১৪ হাজার ৩০৯ টাকা। এখন ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৫৮৩ টাকা মজুরি পান।

সিপিডির গবেষণায় আরও বলা হয়, কর্মক্ষম বয়সের নারীদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ কোনো মজুরির বিনিময়ে কাজে সম্পৃক্ত নয়, আবার পড়াশোনা কিংবা প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না তাঁরা। এর ফলে শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ নেই। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রয়োজন। সিপিডি আরও বলেছে, গত চার বছরে শিল্প খাতে সাড়ে আট লাখ নারীর কর্মসংস্থান কমেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারীদের ‘আনপেইড’ (মজুরিহীন গৃহকর্ম) কাজের পরিমান বেশি। এগুলো গণনা করা হলে জিডিপিতে নারীদের অবদান ৭৭ থেকে ৮৭ শতাংশ হতে পারতো। মূলত ২০০২ সাল থেকে ধীরে ধীরে দেশে নারীর কর্মসংস্থান কমতে শুরু করে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ। সারা বিশ্বে গড়ে ৫০ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে রয়েছেন।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারী বান্ধব কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে প্রতিনিয়তই কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাবে। তাছাড়া, নারীরা কম মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন, এটাও বন্ধ করা দরকার। সেইসঙ্গে, নারীরা যেসব সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা রোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবহন ও বসবাসের স্থানও নারী বান্ধব হতে হবে। তবেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

ড. শামসুল আলম বলেন, দেশের শ্রমবাজার বাড়ছে। এটি সুখের খবর। কিন্তু তার সঙ্গে দুখের বিষয় হলো মজুরি কমছে। উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় করে মজুরি বাড়ার দরকাল। এটি অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নে এটি অন্তরায়। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষনা বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি।

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে নারীদের জন্য বেশি বেশি কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে আমাদেরও সেই পথে হাটতে হবে। খাবার রান্না ও গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি পায় না নারী। এসব কাজ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি করতে চাই। এজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও গবেষণা প্রয়োজন। সবার প্রতি সেই আহবান রইলো। যদিও সরকার তার নিজের প্রয়োজনে এ কাজটি করে কিন্তু তবুও নিরপেক্ষ একটা গবেষণা থাকা দরকার।

মালেকা বানু বলেন, নারীর ক্ষমাতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে যোগদানে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। এগুলোর সমাধান করলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। এর মধ্যে বাল্য বিয়ে ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নীতি করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কর্মক্ষেত্রে ভায়োলেন্স কমে। দক্ষতা অনুসারে কাজ পছন্দের সুযোগ দিতে হবে, মজুরি বৈষম্য কমাতে হবে, মাতৃত্বকালীন নারীর প্রতি সম্মান বাড়াতে হবে এবং কাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে হবে।

উন্মক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডেমগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা নিতে হলে কয়েকটি প্রয়োজনীয় শর্ত থাকে। তার মধ্যে নারী লেবার ফোর্স অন্যতম। আমাদের দেশে বাল্য বিয়ে নারী শ্রমিক কম হওয়ার অন্যতম কারণ। এর মধ্যমে নারীর সাবলম্বী হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। দেশের ৭৫ শতাংশ নারী সেলফ এমপ্লয়ম্যান্টে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ফিমেল এডুকেশনকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুশাসন বাড়াতে হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমিনিতি উইন্থার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ আরো অনেকে।

রিহ্যাব পুরস্কার পেলেন ২৪ গণমাধ্যমকর্মী

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত বর্ষসেরা

সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ধার ৫ হাজার কোটি টাকা

রোকন মাহমুদ

image

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ এসেছে। এ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় থাই ব্যবসায়ীরা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। নিকটতম

sangbad ad

পুনর্মুদ্রণ হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থ পুনর্মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রন্থটিতে

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অর্ধেকেরও বেশি

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি (সাসটেন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়নে

ব্যাংক সেবার বাইরে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

ব্যাংক খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক এখনও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। অনেক

আরো এক কোটি ১৪ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশের পরিবারভিত্তিক দরিদ্র্য ও সুবিধাবঞ্চিতদের চিহ্নিত করতে ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ

অভ্যন্তরীনভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বলতে কিছু নেই

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে বলে মন্তব্য

প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশ সক্ষম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশ সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন

sangbad ad