• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

 

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অর্ধেকেরও বেশি

কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের তাগিদ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি (সাসটেন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অর্ধেকেরও বেশি। এজন্য বেসরকারি খাত উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে এসডিজির সম্পর্ক বেশি হওয়ায় এ খাতের বড় বাধাগুলোকে দূর করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে বড় বাধা হলো অবকাঠামোগত সমস্যা, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, গুণগত কর্মসংস্থানের অভাব ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষা খাতের গুণগত ও আমূল সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ ছাড়া গুণগত কর্মসংস্থান তৈরি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের দ্রুত উন্নয়নও করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এবং দি চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)’র সভাপতি মাহবুবুল আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেসরকারি খাত অনেক এগিয়েছে। তবে আরও কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারও কাজ করছে। বর্তমান সরকার বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় প্রায় ১ লক্ষ একরের ‘ভূমি ব্যাংক’ তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা বেজার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ট্যাক্স নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এটি হলো বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে দেশের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তিনি জানান, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতোমধ্যে সরকার মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি তা যথাসময়ে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে এবং এ লক্ষ্যে অর্থ সংস্থান নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশের মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ কাজে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি দেশের বেসরকারি খাতকে সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে স্থাপিত শিল্প-কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দেশের বেসরকারি খাত জ্বালানি অপ্রাপ্যতা এবং এর উচ্চমূল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপ্রতুল অবকাঠমো, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি, আইনগত দীর্ঘসূত্রতা এবং সর্বোপরি ঋণ প্রাপ্তির অপ্রতুলতা প্রভৃতি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসজিডির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হলে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে এসডিজি বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের বাড়তি প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে বলে তথ্য দেন তিনি।

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বমূলক অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তিনি নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষা খাতের গুণগত ও আমূল সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়াও তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহবুবুল আলম বলেন, এসডিজির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের ওপর জোরারোপ করেন।

ড. নাজনীন আহমেদ তার মূল প্রবন্ধে এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, এসডিজির সব লক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তবে ৩টি লক্ষ্য (৮, ৯ এবং ১২) সরাসরি বেসরকারি খাতের সঙ্গে সর্ম্পকিত। এসব খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি খাতের। সুতরাং এসডিজি বাস্তাবায়নে এ খাতের অবদান অনেক। তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় বাজার বেশ বড় এবং এ বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে। তিনি মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য করপোরেট করের হার কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। প্রবন্ধে তিনি এসডিজি বাস্তবায়নে বেশ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং বাস্তাবায়নে কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হলো- ব্যক্তি খাতে কর্মসংস্থান তৈরি, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং তা বাজারজাতরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব প্রদান এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন।

নির্ধারিত আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তওফিকুল ইসলাম খান, মাল্টিমোড গ্রুপ-এর পরিচালক তাফসীর মোহাম্মদ আওয়াল এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ (পিআরআই)’র গবেষণা পরিচালক ড. এমএ রাজ্জাক অংশগ্রহণ করেন। আলোচকবৃন্দ এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গতানুগতিক প্রণোদনা ছাড়াও নতুন কিছু প্রণোদনা প্রদান এবং উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতি কমানোর আহ্বান জানান।

ডিসিসিআইর প্রাক্তন সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম-এর সভাপতি অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইর প্রাক্তন সভাপতি হোসেন খালেদ, পাওয়ার সেল’র পরিচালক ইঞ্জি. মোহাম্মদ হোসেন, এমসিসিআইর সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ, ডিসিসিআইর প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এমএস সেকিল চৌধুরীসহ আরও অনেকে। আলোচকবৃন্দ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বেশি হারে উদ্যোক্তা তৈরি, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কার, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান, দুর্নীতি হ্রাস, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ, সমুদ্র অর্থনীতির ওপর জোরারোপ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন।

ডিসিসিআইর প্রাক্তন সভাপতি ও আইসিসি বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পরিচালক ইমরান আহমেদ, খন্দ. রাশেদুল আহসান, মো. আলাউদ্দিন মালিক, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির প্রমুখ আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন।

সামিটের উদ্যোগের প্রশংসায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির নিয়ে আসার প্রচেষ্টার

করদাতা বেড়েছে, বাড়াতে হবে আরও : আয়কর মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুহিত

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

জনগণকে কর দিতে উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে সারাদেশের

তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৩২ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের

sangbad ad

এগারো এগারো তে ৮০% পর্যন্ত ছাড় থাকবে মীরবাজারে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নভেম্বর এর ১১ তারিখ, সংক্ষেপে এগারো এগারো বা এলেভেন এলেভেন। এই দিনে বিশ্বের

কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি

খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

নতুন রপ্তানি নীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্প খাত

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠাসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ এগোলেও চুক্তি বাস্তবায়ন সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৭৬ তম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের

কৃষি ঋণে বেসরকারি ব্যাংকের নজর কম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে

sangbad ad