• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

 

সাহিত্যে নতুন স্বর নির্মাণের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হলো শালুক-সাহিত্যসন্ধ্যা-২

কামরুল হাসান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/1%20%282%29.jpg

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কবি লেখক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একাংশ

লিটল ম্যাগাজিন ‘শালুক’ প্রকাশিত হচ্ছে প্রায় কুড়ি বছর ধরে। বহু বছর আগে শালুকের সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ ও শালুকের ঘনিষ্ঠ কবিরা ‘প্রতিস্রোত’ নামে সাহিত্যের একটি আড্ডায় বসতেন। জীবন ও জীবিকার বহুমুখী টানে সেইসব সাথীরা বিভিন্ন দিকে সরে যায়, শালুক কিন্তু নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। বহু বছর পর সেই আড্ডাকে সচল করলেন ওবায়েদ আকাশ নতুন আরেকদল সাথীকে নিয়ে। গত মাসেই শাহবাগের আলো ঝলমল বইয়ের দোকান পাঠক সমাবেশে প্রথম আসরটি বসেছিল, এ মাসেই বসল দ্বিতীয় আসর। নির্ধারিত দিন ছিল ৩ মে, কিন্তু সেসময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের উপর ফণা তুলেছিল বিপুল ভয় জাগানো ঘূর্ণিঝড় ফণী। উড়িষ্যায় ছোবল হেনে বাংলাদেশে আসতে আসতে ফণী দুর্বল হয়ে পড়ে, তার ফণাটি নামিয়ে আনে নিচে। সেই দুর্যোগআভাসিত সময়ে বাতিল হয়ে যায় অনেক পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান, প্রতিস্রোত ব্যতিক্রম নয়। ফলে একসপ্তাহ পিছিয়ে ঘোষিত হলো অনুষ্ঠান হবে পরের শুক্রবার। প্রতিস্রোতের আসর সান্ধ্যকালীন, ব্যানারেও তাই লেখা, কিন্তু ইতিমধ্যে এসে গেছে রোজার মাস। তাই ১০ মে’র আয়োজনটি শুরুর সময় নির্ধারিত হলো বেলা দুইটা।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/2%20%281%29.jpg

উপস্থিত কবি লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ

আমি পৌঁছে গেলাম ঠিক দুইটায়। পাঠক সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন কতিপয় অংশগ্রহণকারী কবি, আয়োজকরা তো ছিলেনই। ধীরে অংশগ্রহণকারীগণ এসে জড়ো হচ্ছিলেন। পাঠক সমাবেশের দক্ষিণ পশ্চিম কোনায় কাঠের নিচু প্লাটফর্মের উপর টকটকে লাল রঙের কয়েকটি চেয়ার সাজানো, শূন্য সবগুলোই, তারা রয়েছে, আয়োজকদের মতোই, অতিথি অপেক্ষায়। উপরে ঝুলছে ব্যানারটি যাতে আজকের অনুষ্ঠানে কী কী ঘটতে যাচ্ছে তার একটি সংক্ষিপ্ত সূচি দর্শক এক লহমায় দেখে নিতে পারবেন। সেই সূচির দিকে তাকালে মনে হবে এ অনুষ্ঠানটি বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক; বহুস্বরকে ধারণ করার মতো উচ্চাভিলাষী।

একজন আলোচকের জন্য অপেক্ষা করছিল সবাই, কেননা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা। তিনি এলে অনুষ্ঠান শুরু হলো, ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা পৌনে তিনটার ঘর ছুঁয়েছে। সূচনাসঙ্গীত দিয়ে শুরু হলো। সূচনাসঙ্গীত গাইলেন কানাডা প্রবাসী ছায়ানটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচ ডি গবেষক এই শিল্পী গাইলেন ‘চিত্রাঙ্গদা’ নাটকের গান ‘বধূ কোন আলো লাগলো চোখে’। তিনি যদিও বলেছিলেন বহুদিন গানের জগতে নেই তবু তার খালি গলায় বাজনাবিহীন গানটি চমৎকার ফুটল। সূচনা সঙ্গীতের পর প্রারম্ভিক কথামালায় ওবায়েদ আকাশ শালুকের চারিত্র ও দর্শন সম্পর্কে শ্রোতাদের সামান্য অবহিত করলেন। তিনি বললেন, শালুক লেখকের স্বাধীনভাবে কথা বলায় বিশ্বাস করে, সে কোন প্রতিষ্ঠান বা রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না। লিটল ম্যাগাজিন বলেই শালুক সাহসী, স্পর্ধী, শক্তিমান ও প্রচলবিরোধী। স্রোতের উজানে সে চলে, তাই সে প্রতিস্রোত।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/3.jpg

উপস্থিত কবি লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ

‘সাহিত্যের স্বতন্ত্র স্বর : নির্মাণ বিনির্মাণ’ শিরোনামের প্রবন্ধটি লিখেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মাহফুজ আল-হোসেন। তিনি প্রবন্ধটি পাঠের আগে ওবায়েদ আকাশ সামান্য ভূমিকায় বললেন, কবি বা লেখকের স্বতন্ত্র স্বর যদি না থাকে, তবে টেকা যাবে না। জীবনানন্দের কথা উদ্ধৃত করে ওবায়েদ বললেন, ‘অনেক লোকের মাঝে বসে/ আমার নিজের মুদ্রা দোষে/ আমি একা হতেছি আলাদা’। এই আলাদা হওয়াটা জরুরি। ততক্ষণে মঞ্চে এসে বসেছেন প্রাবন্ধিক ও তিন আলোচক, চতুর্থ আলোচক ওবায়েদ নিজেই মাইকে ঐ সূচনা বক্তব্য দিচ্ছেন। বললেন, শালুকের সাহিত্য সভা কোনো প্রচলিত সাহিত্যসভা নয়, এ সভায় কোন সভাপতি বা প্রধান আতিথি বা বিশেষ অতিথি নেই। আমরা আপনাদের কথা শুনে ঋদ্ধ হবো, আপনারা আমাদের কথা শুনে ঋদ্ধ হবেন।

মাহফুজ আল-হোসেন অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। তাকে বলা যায়, কবি আবদুর রাজ্জাকের মতো, বিলম্বে বিকশিত ফুল। জীবনের পশ্চিমাভিসারী বেলায় এসে দুহাতে লিখছেন কবিতা, সঙ্গে প্রবন্ধ। যদিও তিনি বলেছিলেন এ কাজের জন্য তিনি নিজেকে যোগ্য মনে করেন না, কিন্তু তার রচনায় পরিশ্রম ও মেধার সাক্ষ্য রয়েছে।

মাহফুজ আল-হোসেনের প্রবন্ধটিতে সাহিত্যের, বিশেষ করে কবিতার, একটি সুলিখিত ইতিহাস, এরিস্টটলের অনুকরণতত্ত্ব থেকে, গ্রিক ট্রাজেডির তিন অমর নাট্যকার, নিউ ক্লাসিজমের স্বপ্নবাসবদত্তা, তার অমর রূপকার শেক্সপিয়র, রেস্টোরেশন যুগের আলেক্সান্ডার পোপ, রোমান্টিক যুগের শেলি, কিটস, বায়রন, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক যুগ, পঞ্চকবি, উত্তরাধুনিক যুগ- সবই ফুটে উঠল। তবে স্বতন্ত্র স্বর ও নির্মাণ বিনির্মাণ বিষয়টি স্পষ্ট হলো না। তার প্রবন্ধটিকে অসাধারণ জ্ঞানগর্ভমূলক বলে অভিহিত করলেন ওবায়েদ আকাশ।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/4.jpg

বক্তব্য রাখছেন শালুক-সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ

প্রথম আলোচক ড. মাসুদুজ্জামান প্রতিস্রোত আসরের প্রশংসা করলেন এই বলে যে বহুকাল পরে এমনি একটি সাহিত্য আন্দোলন তিনি দেখতে পাচ্ছেন। স্বাধীনতা অর্জনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি সমাসন্ন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বল্লেন, আমাদের ফিরে দেখার সময় হয়েছে এই পঞ্চাশ বছরে আমরা সাহিত্যে কী কী অর্জন করেছি। কেননা এটা দেখা গেছে প্রতি পঞ্চাশ বছরে সাহিত্যে একটি বড় ধরনের বাঁকবদল ঘটে। মাইকেল থেকে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ থেকে ত্রিশের কল্লোল পরবর্তী কবিরা, ত্রিশ থেকে আশি- এমনি বাঁকবদল ঘটেছে। শঙ্খ ঘোষের প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বল্লেন, শঙ্খ ঘোষ বলেছেন নির্মাণ ও সৃষ্টির কথা, শুধু নির্মাণ থাকলে চলবে না, সৃষ্টি থাকতে হবে। মাহফুজ আল-হোসেনের আজকের প্রবন্ধের বিনির্মাণকে তিনি সৃষ্টি বলে অভিহিত করলেন। প্রবন্ধটিকে সারগর্ভ মেনে নিয়ে তিনি একথা বল্লেন যে, এতে ইতিহাস, যে ইতিহাস আমরা কমবেশি জানি, প্রস্ফুটিত হলেও নন্দনতত্ত্বের ধারাগুলো প্রস্ফুটিত হয়নি। হতো যদি টেক্সট ধরে ধরে আলোচনা হতো। মাহফুজ আল-হোসেন অবশ্য তার প্রবন্ধটিকে খসড়া বলেছিলেন। বলেছিলেন আজকের আলোচনাকে সারবস্তু করে তিনি লেখাটির পরিবর্ধন করবেন। সে বিচারে মাসুদুজ্জামানের সমালোচনা খুবই গঠনমূলক। তিনি বল্লেন, প্রবন্ধটির তাত্ত্বিক দিকটি ভালো,

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/5.jpg

মূল প্রবন্ধ পাঠ করছেন কবি ও নন্দনতাত্বিক মাহফুজ আল-হোসেন

এর প্রায়োগিক দিকটি অপূর্ণ। বিনয় মজুমদারের প্রসঙ্গ টেনে বল্লেন, বিনয় নিজেকে জীবনানন্দের উত্তরাধিকার স্বীকার করেও একটি কথা বলেছেন এলিমিনেশন, স্তেফান মালার্মেও বলেছেন, এলিমিনেশন, সবকথা বলো না, অব্যক্ত রাখো কিছু কথা। উৎপলকুমার বসুর কবিতায় আমরা পাই ফ্রাগমেন্টেড ইমেজ, এক চিত্রকল্প থেকে আরেক চিত্রকল্পে উত্তরণ, মনে হবে খাপছাড়া, কিন্তু সমগ্র মিলিয়ে এক ঐক্য, সেও এক সৃষ্টি। স্বতন্ত্র স্বর প্রসঙ্গে জীবনানন্দ বলেছিলেন নিজেকে নিজে অনুকরণ করতে চাইনি, অর্থাৎ কবিও বৈচিত্র্যপ্রয়াসী, কিন্তু সব মিলিয়ে কত স্বতন্ত্র জীবনানন্দের স্বর। তিনি কৃত্তিবাস, শতভিষা, হাওয়া ৪৯ প্রভৃতি কালজয়ী লিটল ম্যাগাজিনের প্রসঙ্গ তুলে এই বলে সমাপ্তি টানলেন যে, লিটল ম্যাগাজিনই পারে নতুন স্বর, স্বতন্ত্র স্বর তুলে আনতে, সে স্বর গোষ্ঠীবদ্ধ হতে পারে।

দ্বিতীয় আলোচক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ স্বরবান্ধব না হওয়ায় মাইক্রোফোনটি নামিয়ে রাখলেন, এমনকি সরিয়ে দিলেন রোস্ট্রামটি। আয়তকার ঘরটির এক কোণে তৈরি এই ত্রিভুজ প্লাটফর্মটিকে, যার পেছনে বইয়ের স্তূপ, দেয়ালে ঝুলছে দেবতা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির দুই ম্যুরল ও তৈলচিত্র, সেই ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চটিকে তিনি উন্মুক্ত করে নিলেন। অপরাপর বক্তাদের মতো নিজেকে আটকে রাখলেন না কোন রোস্ট্রামের আড়ালে। সুবক্তা তিনি, আর রণসজ্জা দেখেই বোঝা যায় প্রস্তুত হয়ে এসেছেন এই সম্মুখ সমরে। তিন তারিখে যিনি ছিলেন অপ্রস্তুত, পাবনায় এক আত্মীয়কে জেল থেকে মুক্ত করতে ব্যস্ত, ফণী যার জন্য শাপেবর হয়ে এসেছিল তিনি আজ পূর্ণ প্রস্তুত। নিভৃতলোকের বাসিন্দা আজ জনসমক্ষে হয়ে উঠলেন বাকপ্রতিভূ সম্রাটের মতো। তিনি প্রতিস্রোতের আদি আড্ডার একজন। এক ব্যাধি তাকে সরিয়ে নেয় আড়ালে, যে অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের সমকাল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে তার জীবন গল্প ‘লড়ে যায় প্রমিথিউস’।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/6.jpg

বক্তব্য রাখছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদুজ্জামান

মনে হয়, আজ তাকে কথার জাদুতে পেয়ে বসেছে। স্বতন্ত্র স্বর সম্পর্কে বল্লেন, বনে কত ভিন্ন ভিন্ন স্বরে ডাকে পাখিরা। কাকও পাখি, কোকিলও তাই। তাদের স্বরের ভিন্নতা সুস্পষ্ট, কিন্তু কোন স্বর আমাদের প্রিয়? সৃষ্টি করতে হবে সুমিষ্ট স্বর। তিনি যে প্রস্তুত তার বিভিন্ন নমুনা তিনি রাখছিলেন। এবার পকেট থেকে বের করলেন দুটো ছোট্ট সবুজ কাগজ, তার একটিতে খ্রিস্টপূর্ব ২৩ সালে লিখিত

এক প্রাচীন গ্রীক কবির কবিতা। তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল দশ মিনিট, তার আপন মনে কথা বলার তোড় দেখে মনে হলো দু’ঘণ্টার আগে থামবেন না। কখনো নিজের লেখা প্রবন্ধের বই থেকে পাঠ, কখনো ছোট চিরকুট থেকে পাঠ, বেশিরভাগ স্বতোৎসারিত এক ঝর্ণার মতো অনর্গল বলে গেলেন যার অনেক কথাই প্রসঙ্গের বাইরে। ওবায়েদ আকাশ ‘বক্তব্য সংক্ষেপ করুন’ নোটিশটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন অনেকটা আগেই। তাও থামতে আরও দশ মিনিট লেগে গেল, মেল ট্রেনের যেমনটা হয়।

শালুক সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ মুজতবা আহমেদ মুরশেদের আলোচনার একটি বাক্য ‘স্বতন্ত্র স্বরে লিখবো ভাবলে নতুন লেখকের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে’র প্রশংসা করলেন। আলোচনাক্রম ভেঙে তিনি সমকাল

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/7.jpg

উপাস্থিত কবি লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ

সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিকে আহ্বান জানালেন কবিতা পড়তে, কেননা তাকে ফিরতে হবে। ব্যস্ত সম্পাদকের ফুরসত মেলে না নিজ সন্তানদের সাথে ইফতার করার। ছুটির দিনে তিনি তাদের কথা দিয়েছেন। তিনি দুটি কবিতা পড়লেন। প্রথম কবিতার নাম ‘জুয়াড়ি’, দ্বিতীয় কবিতার নাম ‘মায়া’। দ্বিতীয় কবিতাটি তার খুব প্রিয় বললেও আমার ভালো লাগলো প্রথম কবিতাটি। ‘মায়া’ নস্টালজিক আর তাতে রয়েছে নস্টালজিয়ার তালিকা (ক্যাটালগিং)।

তৃতীয় আলোচক স্বপন নাথ আলোচনার শুরুতেই দশ মিনিটের টানাপোড়েন নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানালেন। মুজতবা আহমেদ মুরশেদের মতো ইনিও প্রস্তুত। কোন চিরকুট বা বই নয়, তিনি লিখে নিয়ে এসেছেন এক আস্ত প্রবন্ধ। বলেন, কিছু নোটস নিয়েছিলাম। ফণীর ফণা নেমে যাওয়ার পরে প্রাপ্ত এক সপ্তাহে সে নোটে আরও মেদ জমেছে। এখন এই বিপুল প্রস্তুতিকে কী করে দশ মিনিটের খাঁচায় বন্দি করবেন তা নিয়ে সংশয়ের দোলাচলে আছেন। প্রবন্ধের শুরুতেই বল্লেন, একটি বাগাড়ম্বর আছে। পড়বেন কিনা অনুমতি চাইলেন দর্শকস্রোতার কাছে। মঙ্গলগ্রহে শোনা চাপাকান্না, যা ধারণ করেছে নাসার চতুর যন্ত্র, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করছেন মঙ্গলের ভূস্তরের বিন্যাস ও গঠন, মঙ্গলের প্রাগৈতিহাসিক চিত্র। সমুখেই বসে আছেন কলকাতার বিজ্ঞান লেখক সন্দীপন ধর, তাকে পেয়েই স্বপন নাথের লেখা কল্পবিজ্ঞানের রথে চড়ল কি না বুঝতে পারছিলাম না, তবে ওটাকে বাগাড়ম্বরই মনে হলো, কেননা মঙ্গল কাহিনীর সাথে মাহফুজ আল-হোসেনের প্রবন্ধের যোগসূত্র আবিষ্কার করতে পারলাম না। তিনি থামলেন আরেক অ্যালেন গিনসবার্গের বিখ্যাত ‘হাউল’ কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে। মাঝে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। যেমন, নতুন স্বর তো আনসিন, তাকে দেখা যায় না, ধরবো কী প্রকারে, নতুন কবিতের মৃত অমর আত্মাদের বিউগল শুনলে চলবে না, ধ্রুপদী সাহিত্য হচ্ছে পরিশীলিত, সৌম্যরূপ, ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এক কবরখানা, মাহফুজ আল-হোসেনের প্রবন্ধটি তথ্যমূলক আর তথ্যমূলক বলেই নিরীহ, নির্বিবাদী, নিরাপদ ও অজাতশত্রু, নিরীহ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়ে সৃজনশীল হওয়া অসম্ভব ইত্যাদি। স্বপন নাথ কথা বলেন কবিতার ভাষায়। বল্লেন, পাহাড় থেকে নদী নিচে গড়িয়ে নামবেই, সমতলে এসেও সে প্রবাহিত হয়, কেননা সেখানেও ঢাল আছে, নদী জানে কোথায় সে ঢাল। সৃজনশীল মানুষ নদীর মতো। নদীশাসনও জরুরি।

নদীশাসনে বাঁক সৃষ্টি হয়। স্বতন্ত্র স্বর তৈরি হয়।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/08.jpg

মঞ্চে বসা অংশগ্রহণকারী কয়েকজন

তিন আলোচকের মাঝে যে অন্তঃসলিলা মিলটি আবিষ্কার করলাম, তা হলো,

১। তারা প্রবন্ধটিকে সুলিখিত বলেছেন।

২। টেক্সট ধরে ধরে আলোচনা হলে ভালো হতো মনে করেন।

৩। প্রবন্ধটি মারাত্মকভাবে কবিতামুখী।

৪। আলোচনার জন্য দশ মিনিট খুবই অপর্যাপ্ত সময়। আলোচনার পরিপূর্ণতার জন্য মুরশেদ চান দু’ঘন্টা (তিনি অনুষ্ঠানের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছাটার পক্ষে), স্বপন নাথ চান এক ঘণ্টা। একমাত্র মাসুদুজ্জামান খুব বেশি সময় নেননি।

৪। তারা মূল আলোচনা ছেড়ে প্রায়শই বাইরে, প্রসঙ্গান্তরে চলে গেছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ডিভাইট করেছেন স্বপন নাথ, সবচেয়ে কম মাসুদুজ্জামান।

৫। শেষোক্ত দুজনের আলোচনা আবেগতাড়িত, ফ্লোওরি এবং কবিতাদোষে দুষ্ট। স্বপন নাথ তো মনে হলো গদ্যকবিতা পড়ছেন, তাতে পোড়া ইলিশ থেকে উটের পিঠ থেকে নেমে যাওয়া বেদুইনও প্রতিভাসিত হলো।

৬। মাসুদুজ্জামান ছাড়া বাকি দুজন ‘বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখুন’ নোটিশ পেয়েছেন এবং যথারীতি উপেক্ষা করেছেন।

স্বপন নাথের প্রসঙ্গান্তরে চলে যাবার ফলে ঘড়ির কাঁটা কষ্ট পেল ঠিকই, তবে শ্রোতারা আনন্দ পেল। অনেক নতুন স্বরকে এমনকি প্রতিভাবানরাও চিনতে পারেন না (যেমন রবীন্দ্রনাথ চিনতে পারেননি জীবনানন্দ দাশকে)। উদাহরণ হিসেবে স্বপন বল্লেন জেমস জয়েসের ইউলিসিস উপন্যাসের কথা, যে উপন্যাসকে কোন কোন সমালোচক বলেন গত শতাব্দির শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, তা পাঠে বিরক্ত হয়েছিলেন ভার্জিনিয়া উলফ। দুশ পৃষ্ঠার বেশি এগুতে পারেননি। এক চিঠিতে টিএস এলিয়টকে তিনি লিখেছিলেন, ”নেভার রিড আ বুক সো বোরিং’; পাওলো কোহেলো ইউলিসিসকে আখ্যায়িত করেন ‘ক্ষতিকর বই’ হিসেবে।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/9.jpg

দর্শক সারিতে ডান দিক থেকে কবি মুস্তাফিজ শফি, সাকিব লোহানী ও হাইকেল হাশমী

চতুর্থ আলোচক ওবায়েদ জানালেন তত্ত্ব নয়, তিনি কথা বলবেন অন্যভাবে। তিনি মঞ্চে বসে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবি ও প্রাবন্ধিক মাসুদুজ্জামানকে দেখিয়ে বললেন, মাসুদ ভাই তাকে তাইওয়ান থেকে ”কনটেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি” নামের একটি সংকলন পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মুদ্রিত ফরাসি কবিতা ওবায়েদকে আকৃষ্ট করে। সে আকর্ষণ থেকে ওবায়েদ কিছু ফরাসি কবিতা অনুবাদ করেন। একবার কবি নির্মলেন্দু গুণ বিদেশি কবিতার এক সংকলনে কবিতা চাইলে ওবায়েদ সেই অনূদিত ফরাসি কবিতা পাঠালেন। নির্মলেন্দু গুণ কবিতাগুলো গ্রহণ করলেন না এই বলে যে ওগুলো যে ফরাসি কবিতা তা বোঝার কোন উপায় নেই। অর্থাৎ ফরাসি উপাদান অনুপস্থিত। এ দ্বারা যে মেসেজটি ওবায়েদ সকলকে দিলেন তা হলো কবিতাকে আপন মৃত্তিকাসংলগ্ন হতে হবে। এ কারণেই ইংরেজি বা ফরাসি নয়, আমাদের এখন বেশি আকৃষ্ট করে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার সাহিত্য।

কবি ওবায়েদ আকাশ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সাক্ষাৎকার সংবলিত পুস্তক ফ্রাগরেন্স অব গোয়াভা বা পেয়ারার ঘ্রাণ থেকে উদ্ধৃত করে বল্লেন, আমরা যে জাদুবাস্তবতার দেখা পাই মার্কেসের লেখায় তাকে মার্কেস বলেছেন লাতিন আমেরিকার বাস্তবতা, জাদু নয়, বাস্তব ঘটনা । এইচ জি ওয়েলস ছোটগল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে লেখা ১০ থেকে পঞ্চাশ মিনিটে পড়ে শেষ করা যায় সেটাই ছোটগল্প, এডগার অ্যালেন পো সময়সীমা বেঁধে দেন ৩০ থেকে ৯০ মিনিটের ভেতর, আর কাফকার ছোটগল্প শেষ হয়ে যায় কয়েক মিনিটেই। অর্থাৎ ছোটগল্প যখন প্রথম সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি ছিল নির্মাণ। আর আর এই সংজ্ঞাভুক্ত গল্পগুলো হচ্ছে বিনির্মাণ। বললেন, জয়েস বলেছেন, ডাবলিন শহর যদি কোনদিন ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তার ‘ইউলিসিস’ থেকে তাকে পুননির্মামাণ করা সম্ভব। তেমনি কোনদিন যদি বরিশাল জগতের পৃষ্ঠা থেকে মুছে যায়, তবে জীবনানন্দের কবিতা থেকে তাকে পুননির্মমাণ করা যাবে। অর্থাৎ লেখককে স্বর সৃষ্টি করতে হলে নিজের ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করেই তা করতে হয়। উত্তরাধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে গিয়ে ওবায়েদ আকাশ এতে ভাষার অনির্দিষ্টতা, কেন্দ্রহীনতা ও বহুরৈখিকতা, বিছানাহীন ফাঁকা ঘরের কথা বল্লেন। কিন্তু মালার্মে বলেছিলেন, বিছাহীন ফাঁকা ঘর মানে ‘কবি সৃষ্টি ক্ষমতাশূন্য’। এজরা পাউন্ড ফরাসি কবিতা নিয়ে লেখা তার প্রবন্ধে যখন মালার্মে ও ভালেরির কবিতার উদাহরণ নেননি, তখন এলিয়ট ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি বলেছিলেন কবিতার আলোচনায় কবির আলোচকের মনস্তত্ত্বই প্রধান। এবং পরে এলিয়ট এজরা পাউন্ডের আলোচনাকে কবির আলোচনা বলে মেনে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ স্বর সৃষ্টিতে কবির মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেন ওবায়েদ। এবং তিনি এই বলে শেষ করলেন যে নির্জনতা সৃষ্টি না হলে স্বতন্ত্র স্বর নির্মিত হবে না।

http://thesangbad.net/images/2019/May/14May19/news/10.jpg

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের ফটোসেশন

বাজারে একপ্রকার রেডিও পাওয়া যেত টু ইন ওয়ান, পরে এলো থ্রি ইন ওয়ান। ইলেকট্রনিক্স জগতে এখন যেভাবে ইন্টিগ্রেশন হচ্ছে, যেভাবে মোবাইলের ভিতর ঢুকে পড়েছে ক্যামেরা, ভয়েস রেকর্ডার, টেলিভিশন ও রেডিও তাতে তা হলো ফাইভ ইন ওয়ান। শালুকের এই অনুষ্ঠানটি হলো ফাইভ ইন ওয়ান। সেই পঞ্চ তালিকার নাম্বার ওয়ান শেষ হতেই পাক্কা দু’ঘণ্টা পার। পৌনে তিনটায় শুরু হয়ে শেষ হলো পৌনে পাঁচটায়। আলোচনার ঐ দোর্দণ্ড প্রতাপের যুগে কবিতা যে কোণঠাসা হবে, অনুমিত। কবিদের বলা হলো একটি করে কবিতা পড়তে। প্রথম যিনি পড়তে এলেন সেই বর্ষিয়ান কবি আবদুর রাজ্জাক বল্লেন, তাঁর সাথে একটিই কবিতা আছে। তাঁর কবিতা ‘সূর্যাস্ত বা মৌরসী’ কবিতার নামটির মতোই বহুমাত্রিক। কবিতাটি মুগ্ধ করলো তার বিচিত্র যাত্রার জন্য। কবি খোকন মাহমুদ পড়লেন ‘একজন সোমনাথ আমার বন্ধু ছিল’। কবিতাটি নস্টালজিক, পুনরাবৃত্তি থাকলেও মায়াভরা। পরের কবি সরদার ফারুক তার কাব্য ‘যূথিকা নার্সারি’ থেকে দুটি কবিতা পড়লেন। প্রথম কবিতা ‘চলো বন্ধু’ আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত হয়ে কৌতুক ছড়াল। তার পরের কবিতা ‘সাহস’-এ এমন পঙ্ক্তি আছে, ‘ভদ্র ছেলেদের দিয়ে কিছুই হবে না’ এবং ‘জিমনেসিয়াম থেকে বেরুনোর পর গীতাদি বলেছিল, মাসল দিয়ে কিছুই হবে না, দরকার সাহস।’ সেখানে রাজহংসীটি দোলে পাড়ার বখাটের সাইকেলের হ্যান্ডেলে। ইন্দ্রিয়জ কবিতাটি বেশ সুগঠিত। কবি আদিত্য নজরুলের কথা শোনা যাচ্ছিল না, কেননা মাইক কাজ করছিল না। পিতার নামের

সামনে কী করে লিখব ‘মৃত’ পঙক্তিটি ভালো লাগলো। কবি ভাস্কর আবেদীনের ‘অবরুদ্ধ’ কবিতাটির শুরুটা, আদিত্য নজরুলের মতোই, বেশ চমকপ্রদ। ‘নিজেকে হত্যার পর বেশ ভালো লাগে’, অতঃপর কবিতাটি নিজেকে হত্যার পর কী কী ঘটে তার বর্ণনায় পর্যবসিত হয়। মাইক্রোফোন তখন নেতিয়ে পড়েছে একেবারে। ঐ দেখে ধমক দেওয়া হলো আর ধমকেই মাইকে প্রাণ ফিরে এলো। সিলেট থেকে এসেছেন কবি মোহাম্মদ হোসাইন। গত শুক্রবার, যখন সমস্ত দেশ ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে সন্ত্রস্ত, তখন প্রতিস্রোতের অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। সেসময়েই তিনি ওবায়েদ আকাশের মেসেজ পান অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তিনি তড়িঘড়ি ট্রেন থেকে নেমে গিয়েছিলেন। ঐ যে ভয় ধরে গেছে প্রাণে, এবারও ট্রেনে উঠে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘ভাই, আসব?’ তিনি পাঠ করলেন দুটি কবিতা ‘নীতিশাস্ত্র’ যার প্রথম পঙক্তি ‘নীতিশাস্ত্রের হরফগুলো পোকায় খেয়েছে’, আমার ভালো লাগলো। পরের কবিতি ‘কচি কচি লাবণ্যর চারা’ কবিতাটিও ভালো লাগলো।

শালুক প্রথম বছরগুলোতে ছিল কেবলি কবিতাকেন্দ্রিক পরে তাতে যুক্ত হয় ছোটগল্প। আজ দুজন গল্পকার ইশরাত তানিয়া ও শেলী সেনগুপ্তা এসে তাদের গল্প থেকে পাঠ করলেন। ততক্ষণ পর্যন্ত পুরুষশাসিত ঐ মঞ্চে দুজন নারীর উপস্থিতি কৃষ্ণচূড়া বনে রাধাচূড়ার বৃক্ষ বসাল, মায়াময় ও মোহনীয় হয়ে উঠল মঞ্চটি। এই যে দুপাশ থেকে দুটি করিডোরের মতো স্পেসে টকটকে লাল চেয়ার পেতে বসে আছেন কবি ও লেখকগণ, তাতে অনেক সুলক্ষণাই ছিলেন।

ইশরাত তানিয়া প্রথমেই জানালেন ওবায়েদ আকাশের কাছে তার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে। তার প্রথম ছোটগল্প ছাপা হয় যে লিটল ম্যাগাজিনে তার নাম ‘শালুক’; প্রথম যে দৈনিকে তার নাম ‘সংবাদ’। ‘শালুক’ এবং ‘সংবাদ সাময়িকী’ দুটোরই সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ। সে অর্থে কি বলা যায় ইশরাত তানিয়াকে আবিষ্কার করেছেন ওবায়েদ আকাশ? ওবায়েদের ভক্তকুলের সংখ্যা ঈর্ষাজনক, আর এটা বাড়ছেই। স্বপন নাথ তাকে বলেছিলেন ‘শালুকের আকাশ’, মাহফুজ আল-হোসেন বলেছিলেন ‘নির্ভরতার আকাশ’। ইশরাত তানিয়া তার গল্পগ্রন্থ ‘বীজপুরুষ’ থেকে ‘বর্তমান অবর্তমানে’ থেকে একটি অংশ পড়ে শোনালেন এই বলে যে খণ্ডিত পাঠ থেকে একটি গল্পকে বোঝা যায় না। ঐ আংশিক পাঠের অনুরোধ এসেছিল সময়াভাবের কারণে। উচ্ছ্বসিত প্রবন্ধ সমালোকচকরা যে বিপুল সময়দীঘিতে সাঁতার কেটেছেন তাতে গল্পকারদের সাঁতরাতে হচ্ছে পুকুরে, জানি না কবিদের জন্য ডোবাই রাখা কিনা। তানিয়ার গল্পটি সমাজ বাস্তবতার দলিল, যেখানে নাবিলা নামের নারী ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছে তবে মারা পড়েনি। শেলী সেনগুপ্তার গল্প ‘খাটিয়া’ও সমাজ বাস্তবতার এক দলিল। এ গল্পেও দুর্ঘটনা আছে, তবে তার শিকার নারী নয়, একজন পুরুষ। গল্পকার জানালেন গল্পটি তিনি আজই লিখেছেন একটি বাস্তব ঘটনা শোনার পর। অনাকর্ষণীয় এক ভাষায় লেখা তার গল্পটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে শেষাংশে এসে।

আমার পেছনে এসে বসেছেন কবি শোয়াইব জিবরান। সঙ্গে তার প্রিয় সহধর্মিণী। এ দম্পতির ভেতর, সরকার আমিন আর শাহনাজ মুন্নীর মতোই, প্রচণ্ড প্রেম কাজ করে। দুই গল্পপাঠের ভিতর শোয়াইবকে ডেকে নেয়া হলো মঞ্চে। শোয়াইব জিবরানের কবিতা ‘লালবসন্তের গান’-এর প্রথম পঙক্তি ‘যেদিন আমাদের পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল’ বলে দেয় এটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা। আমি যেখানে বসেছিলাম, বিরাট বইয়ের আড়ৎ পাঠক সমাবেশের সে অংশের চতুর্দিকে আমি অনেকগুলো মোটা মোটা পুস্তক দেখি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত।

ওপার বাংলা থেকে দুজন কবি আসার কথা ছিল, তাদের একজন কবি গৌতম গুহ রায় থাকেন শিলিগুড়িতে। তিনি একটি দুর্ঘটনায় (গল্প ছেড়ে দুর্ঘটনা এখন বাস্তবে) পতিত হয়ে আসতে পারেননি। একমাত্র যিনি এসেছেন সেই সন্দীপন ধর বেশ দীর্ঘদেহী, তিনি বিজ্ঞান লেখক, থাকেন কলকাতায়। তাকে মঞ্চে ডাকা হলো। তিনি জানালেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সাথে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সখ্যের কথা। শুনে আমি নড়েচড়ে বসি, কেননা শক্তি চট্টোপাধ্যায় আমার খুব প্রিয় একজন কবি। একটু আগেই আমার ডাক পড়েছে মঞ্চে। আজ যে বাইশজন কবি কবিতা পড়বেন, তার প্রথম নামটি ছিল আমারই। কিন্তু আমি নোট নিচ্ছি দেখে সম্ভবত ওবায়েদ আমাকে আগে ডাকেননি।

বিজ্ঞানের সাথে কবিতার কোন বিরোধ আছে কিনা ওবায়েদ আকাশের এ প্রশ্নে আকাশের দিকে অনেকখানি এগিয়ে থাকা অ্যাস্ট্রোফিজিস্ট সন্দীপন ধর উত্তর দিলেন, কোন বিরোধ নেই। বিজ্ঞান ও কবিতা একই গ্রন্থের দুটি আলাদা অধ্যায়। শক্তি চট্টোপাধ্যায় দিল্লি গেলে এর বাড়িতেই থাকতেন। তিনি বলেছিলেন যে দূরের আকাশকে আমরা টেলিস্কোপ দিয়ে কাছে এনে দেখি, কবিরাও সে আকাশকে তাদের পঙ্ক্তিতে কাছে এনে দেখান। সন্দীপন ধরও ওবায়েদের ভক্ত। বল্লেন, কলকাতা বই মেলায় ওবায়েদ আকাশের যে বইটি তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেটি তিনি সঙ্গে করে এনেছেন কবির অটোগ্রাফ নেবার জন্য। কলকাতার এই অতিথি যশপাল বলে তার একজন শিক্ষকের কথা জানালেন, যার গ্রামের বাড়িটি, দেশভাগের সময়, রয়ে যায় পাকিস্তানে। তার স্কুল, কলেজের সার্টিফিকেট আর আনা হয়নি। তার বাবা চাকরি করতেন দিল্লীতে, সেখানেই শুরু হয় তাদের নতুন জীবন, এমনকি পাল্টে নিতে হয় নাম।

আমি দুটি কবিতা পড়ি ‘পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি আমার গ্রামে’ ও ‘অপরচুনিটি কস্ট’। মাইক্রোফোনটি ঠোঁটের কাছে সোজা করে ধরে প্রত্যাশিত ফল পাই। আমার পরে কবিতা পড়লেন কবি সাকিব লোহানী। যখন মঞ্চ থেকে নেমে আসি মাহফুজ আল-হোসেন এবং আরো কয়েকজন আমার কবিতার প্রশংসা করেন।

শালুকের প্রতিস্রোতের আসরের পঞ্চ তালিকার তৃতীয় আইটেম বইমেলায় প্রকাশিত দশটি নির্বাচিত বই নিয়ে আলোচনা। প্রথম পাঁচটি বই নিয়ে আলোচনা করলেন মাহফুজ আল-হোসেন। তিনি একেকটি বই পাঠকসমুখে তুলে ধরেন আর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেন।

১। ‘পরাবাস্তবের আড়ালে’ অশোক করের কবিতার বই। মার্কিন নিবাসী কবির উক্তি চিরকাল হিসাবের বাইরে ঘুরপাক খায় কবিজীবন। তার কবিতা একাকী দাঁড়িয়ে থাকে মুত্যু উপত্যকায়। অশোক করের কবিতা স্বাতন্ত্র্যচিহ্নবাহী এবং অনুদঘাটিত রহস্য ঘিরে আবর্তিত।

২। ‘যুদ্ধশেষে প্রেমের গল্প’ আরেক প্রবাসী লেখক সাদ কামালীর গল্পের বই। তিনি নিরন্তর লিখে চলেছেন মানুষ ও জীবনের গল্প। এ বইতে এমন একটি প্রত্যয় আছে যে প্রেম ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না। এ প্রেম হলো দেশপ্রেম।

৩। কবি সুহিতা সুলতানার কাব্য ‘জলে ভরা মেঘের দিকে’ সম্পর্কে মাহফুজ আল-হোসেন জানালেন, এ কবির কবিতায় রয়েছে আত্মযন্ত্রণা, শ্লাঘা, বিচ্ছিন্নতা। প্রচলিত সংস্কারের প্রতি তার বিবমিষা রয়েছে, তিনি অসঙ্গতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী।

৪। ‘বাংলাদেশের উর্দু ছোটগল্প’ হাইকেল হাশমীর অনুবাদ। অনুবাদক সেইসব উর্দু লেখকদের তুলে এনেছেন যারা দেশবিভাগের সময় এ দেশে চলে এসেছিলেন এবং আমৃত্যু এ দেশেই বসবাস করেছেন।

৫। পরের বই ওবায়েদ আকাশের কাব্য ‘স্বতন্ত্র কবিতা’। ওবায়েদ আকাশকে অসংখ্য নবীন কবির আইডল আখ্যায়িত করে তার কবিতা যে স্বতন্ত্র কাব্যভাষা অর্জন করেছে- এটা সর্বজনস্বীকৃত বলে দাবি করলেন মাহফুজ আল-হোসেন। ওবায়েদ আকাশের কবিতা নিরীক্ষাধর্মী, নতুন স্বরের ও প্রতিস্পর্ধী।

পাঁচ নির্বাচিত বইয়ের শেষে এলো কবিতাপাঠ। দুই তরুণ কবি একটি করে কবিতা পাঠ করলেন। অপার অরণ্য পড়লেন ‘বৃক্ষের বুক এখানে মাতৃদাগ’। শিমুল জাবালির কবিতাটির নাম এখন মনে করতে পারছি না, তবে তার কবিতা আগেও শুনেছি। চিত্রকল্পভরা এ কবি পরাবাস্তবের পৃথিবী গড়েন শব্দে।

এরপর ওবায়েদ আকাশ এলেন বাকি পাঁচটি বইয়ের পরিচিতি তুলে ধরতে।

৬। মামুন হুসাইন আমাদের কথাসাহিত্যের জগতে শক্তিমান এক কথাশিল্পী। তার ‘শরীর সংক্রান্ত কূটালাপ’ দুই প্রধান চরিত্র আব্দুল মজিদ ও আমেনা খাতুনের গল্প। তার সম্পর্কে ওবায়েদ বললেন, মামুন হোসাইন গল্প ভাঙেন নতুন গল্প সৃষ্টির তাগিদে।

৭। নব্বই দশকের স্বতন্ত্র কাব্যভাষার কবি মুজিব ইরমের বইয়ের নামগুলোও প্রচলের বাইরে। তিনি তার সব বইকে প্রথম বই ভাবেন। সে বিচারে মুজিবের ‘পাঠ্যবই’ ১৫তম প্রথম বই। পরবাসী এই কবির ভেতর হারানো মাতৃভূমির জন্য নস্টালজিয়া ও হাহাকার কাজ করে, তিনি তুলে আনেন গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ, লোকাচার ও মিথ যা তার শৈশব কৈশোরের স্মৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

৮। পরের বইটিও কবিতার আর তা লিখেছেন কবি মাহফুজ আল-হোসেন ‘সুবাসিত শব্দের ঘুমঘোর’। তার নামের মতোই সুবাসিত ও তন্দ্রার ঘোরলাগা শব্দপুঞ্জের সমাহার।

৯। শেলী সেনগুপ্তার উপন্যাস ‘আধিয়া’ মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত।

১০। শেষ বইটিও একটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। এর নাম ‘অগ্নিপ্রভাত’।

শেষ পর্বে রইল কেবল কবিতাপাঠ, কেননা অতিথির সাথে বাক্যালাপ হয়ে গেছে। একে একে কবিতা পড়লেন একগুচ্ছ কবি। অরবিন্দ চক্রবর্তীর কবিতা ‘বুমেরাং বা একঝাঁক আগামী’ চিন্তাপ্রসূত উত্তরাধুনিক ঢঙের। পরের কবি আরো তরুণ, তার নামটিও বেশ অপ্রচলিত। কৌস্তুভ শ্রী নামের এই নবীন স্থপতিবিদ মঞ্চে বসেছিলেন। তার কবিতাটি মাকে নিয়ে মুগ্ধতা ছড়ানো। ‘আমার মা এক অবাক শিশু’ কবিতার সারল্য ভালো লাগলো। তার ঐ বিরল নামকরণ বেশ আনন্দদায়ক। আরেক তরুণ কবি অভি জাহিদের ‘ঘুড়ি সংক্রান্ত জনজীবন’-এ প্রতিশ্রুতি আছে। কবি সুহিতা সুলতানা গত বছর তার মাকে হারিয়েছেন। সেই শোক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। বল্লেন, আমার সব কবিতাই মাকে নিয়ে। ‘জলে ভরা মেঘের দিকে’ কাব্য থেকে তিনি পড়লেন মাকে নিয়ে লেখা কবিতা। এরপরে যিনি পড়লেন তার নাম ও কবিতা দুটোই আমি মিস করলাম বা শুনেও মনে রাখতে পারলাম না। এর কারণ হতে পারে তথ্যের ভারে ভারি হয়ে ওঠা আমার মস্তিষ্ক ও নোটবুক। মস্তিষ্ক কাজ না করলে নোটবুক তো অসহায়। তার পরের জনের নাম পেলাম অর্ধেক। মিজান ছোটগল্প নিয়ে এমফিল করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কবিতার নাম ‘নতুন চাঁদের হাসি’। বুঝলাম মস্তিষ্ক কাজ করছে। মাহফুজ আল-হোসেনের কবিতা ‘আমার আকাশসমূহ’ জড়ো হলো একটি আকাশে (ওবায়েদ আকাশ)। মনিরুল মোমেন আমার ফেসবুক বন্ধু। তিনি ‘তিতাস’ নামের লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। তাকে দেখে বয়স্ক মনে হলেও সে ওবায়েদের চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। পাঠ্য পুস্তক নিয়ে কাজ করা বাংলা ভাষার এই শিক্ষক মাঝে মাঝে কবিতা লেখেন। তিনি মঞ্চে আসার আগে তিনি ওবায়েদের কাছে জানতে চান তিনি সঙ্গমের কবিতা পড়বেন নাকি পরকীয়ার? ওবায়েদ সেটা সহাস্যে মঞ্চে ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি বলেছি, দিনের বেলা আর সঙ্গমের কবিতা পড়ার দরকার নাই। পরকীয়াই পড়ো। সবাই হতবাক কিন্তু পুলকিত। সবাই হেসে ওঠে।

কিন্তু এ মোমেন বান্দা পড়লেন সঙ্গমের কবিতাই। তীব্র শরীরীপ্রেমের কবিতাটি প্রতীকী, এ হলো শিল্পের সঙ্গম। তিনি শোয়াইব জিবরানকে ডক্টর বলাতে বন্ধুপ্রতিম শোয়াইব বলে ওঠেন, ডক্টর বাদ। শোয়াইবের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়েই নাকি ‘শিল্প ও সঙ্গম’ কবিতাটি লিখেছিলেন মনিরুল মোমেন।

কবীর হোসেন, মাহফুজ আল-হোসেনের মতো লেট ব্লুমিং। তার প্রথম কাব্য প্রকাশিত হয়েছে এবছর। তার ‘প্রাণীকুলে আমার কবিতা’ প্রতীকী এবং মজার। প্রথমে বলেছেন ‘কবিতা না হলেই আমি খুশি’ আর কবিতা পাঠে বুঝলাম তার কবিতা প্রাণীকুল বুঝলেও মানুষ বোঝে না।

শাহেদ কায়েস, শোয়াইব জিবরান, ওবায়েদ আকাশ, সরদার আব্দুল মান্নান, অনু হোসেন, মুজতবা আহমেদ মুরশেদ- এরা সবাই বন্ধু। এদের মাঝে একমাত্র শাহেদ কায়েস এখনো অবিবাহিত। তাই তাকে সবাই বোহেমিয়ান বলে। সদা সংগ্রামী এই কবি এখন কোরিয়ায় পিএইচডি করছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। মোটকথা তিনি আন্তর্জাতিক মানুষ। শাহেদকে অনেকক্ষণ ধরেই খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু সে মাঝে মাঝেই, যেভাবে সে স্বদেশ ছেড়ে বিদেশ যায়, সেভাবেই উধাও হয়ে যাচ্ছিল। তাকে খোঁজার জন্য ওবায়েদ আকাশ যখন চিঠি লিখবে বলে মনস্থির করে, তখনি ‘চিঠি’ কবিতাটি নিয়ে শাহেদ হাজির। ‘চিঠি আর ফিরে এলো না’ দিয়ে শুরু কবিতায় শ্রীমতি তারকামণ্ডলী থেকে নক্ষত্রের মতো চিঠির অক্ষর ঝরে পড়ে।

ঘড়ি ঘুরে আসে ইফতারের দিকে। ওবায়েদ আকাশ যত সম্ভব কবিকে কবিতা পাঠের সুযোগ দিতে চান। মনজুর শামসের কবিতার নামটিও মস্তিষ্কের এন্টেনায় ধরা পড়ল না। শুধু মনে রইল তিনি কবিতার বাইরে কথাসাহিত্য ও অনুবাদ নিয়েও কাজ করেন। এতক্ষণ যিনি প্রফেশনাল ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে সকলের ছবি তুলছিলেন সেই মিঠুন রাকসাম তো আসলে কবি। মিঠুনের প্রথম কাব্য প্রকাশ করেছেন ওবায়েদ আকাশ। মিঠুন, ইশরাত তানিয়া এবং আরো অনেকের মতোই কৃতজ্ঞ। কবি মাহাবুব মিত্রের কবিতা একটি ভুল ছবি কী করে সকল জ্যামিতির মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে তার ব্যঞ্জনাগাথা। আহমেদ শিপলু যে কবিতাটি পড়লেন তা ঐ শেলী সেনগুপ্তের মতো অতিসম্প্রতি লেখা। কাল রাতে হঠাৎ মানুষের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি কবিতাটি লিখেছেন যা তার ‘মন’ সিরিজের ১০ নম্বর কবিতা হয়েছে। শেষ লাইনটি ছিল, ‘মন যদি পাওয়া যায়, তবে মানুষ নামের একটি সূত্র তো পাওয়া যাবে।’ সর্বশেষ কবিতা পড়লেন ফটেগ্রাফি দলের তরুণ সদস্য রিসতিয়াক আহমেদ। ওবায়েদ অবশ্য বারবারই ঘোষণা দিচ্ছিলেন ইফতারের আয়োজন আছে, আপনারা কেউ ইফতার না নিয়ে যাবেন না।

এর মধ্যে অনেক আগেই অনেকে চলে গেছে বাসায় ইফতার করার জন্য। তখন মাগরেবের আজানের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়েছে শাহবাগ অঞ্চলে। শেষ মুহূর্তে সবাই জড়ো হলো গ্রুপ ছবি তুলতে। আর সে ছবি তোলা কি শেষ হয়, আজান শেষ হয়ে আসে, ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক চলতেই থাকে। এরপর ইফতারির প্যাকেট যদিবা পাওয়া গেল, খাবারের জায়গা মিলল না। কেননা পাঠক সমাবেশের ভেতরে আহার নিষেধ। কেউ কেউ প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে খেয়ে নিল, আমরা কতিপয় নেমে যাই নিচে, জাদুঘরের পেছনে যে পুকুর আছে তার পাশে। ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজো, মিষ্টি- এই ছিল ইফতার, সঙ্গে অনিবার্য পানির বোতল।

উপরে উঠে অনেকক্ষণ আড্ডা দেই কবি অসীম সাহা ও কবি অঞ্জনা সাহার সাথে। এই কবিযুগল আদর্শ দম্পতি। এখন তার বয়স হয়েছে আর পক্বকেশ ও গোঁফে স্বতন্ত্র অবয়বের কবি অসীম সাহা আমার প্রিয় মানুষ। তাকে ভালো লাগে কেননা তিনি সত্যকথা বলতে ভয় পান না। আজীবন প্রতিবাদী মানুষটি অন্যায় সহ্য করতে পারেন না। চারিপাশের নৈরাজ্য, দুষ্কৃতি ও বিচারহীনতা তাকে প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণ তাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। আমাকে পরিচিত করিয়ে দেন বিশাল বাংলার সংগঠক কবি মাহবুবা লাকির সাথে। লাকিকে বলেন, ‘কামরুল অত্যন্ত ভালো কবি। সে লো প্রোফাইল মেইন্টেন করেন বলে তাকে অনেকে চেনে না।’ আমাকে পছন্দ করার সেও এক কারণ হতে পারে সত্যপথের সন্ধানী এই প্রতিবাদী কবির।

সৈয়দ হক স্মরণে প্রাঙ্গণেমোর মঞ্চস্থ করবে ‘ঈর্ষা’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণ দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর। সব্যসাচী এই লেখকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতার তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতামালা’ কর্মসূচির তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা স্টুডিও থিয়েটার

কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

১৭ আগস্ট শনিবার বরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শামসুর রাহমান স্মৃতিপরিষদসহ

sangbad ad

জাতির পিতার স্মৃতির নিদর্শন নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে মাসব্যাপী প্রদর্শনী শুরু

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

বেহুলাবাংলা বেস্ট সেলার বই সম্মাননা ২০১৯ আগামীকাল

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

চার বছরে চার শতাধিক বই প্রকাশ করেছে বেহুলাবাংলা। বই বিক্রিকে উৎসাহিত করার লক্ষে আয়োজন করছে বেহুলাবাংলা বেস্ট সেলার বই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়নুল গ্যালারিতে চিত্রকর্ম প্রদর্শনী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সংঘাতের বিপরীতে সম্প্রীতি সৃষ্টিতে তারুণ্যের বুদ্ধিদীপ্ত, সৃজনশীল এবং সাহসী মোকাবিলা জরুরি। বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

শিল্পী রাজীব রায়ের অনন্য সৃষ্টি ‘বিপন্ন গৌরী’

যশোর অফিস

image

পুরুষ নারীকে সাজিয়েছে অসংখ্য কুৎসিত অভিধায়। তাকে বন্দী করার অভিপ্রায়ে তৈরি করেছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। উদ্ভাবন করেছে অজস্র

কথায় গানে ও নৃত্যে অধ্যাপক ফখরুল আলমের জন্মদিন উদ্‌যাপন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম পা দিয়েছেন ৬৯ বছরে। এ উপলক্ষে ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর

জঙ্গিবাদ নির্মূল, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুস্থ সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে

sangbad ad