• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

 

শেষ হলো প্রাণের বইমেলা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০২ মার্চ ২০১৯

সংবাদ :
  • যোবায়ের মুরাদ
image

শেষ দিনে মেলায় বইপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়-সংবাদ

‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইবো না মোর খেয়া তরী এই ঘাটে’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের লাইনগুলোর মতোই আর থাকছে না বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের পদচারণা। বাংলা একাডেমি ফিরে যাবে তার সাধারণ কর্মদিবসের পুরনো রূপে। আর কানে ভেসে আসবে না নতুন বইয়ের নাম, লেখক বলছি বা মোড়ক উন্মোচনের খবর। থাকবে না বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের ব্যস্ততা, লেখক-প্রকাশক আর পাঠকের আড্ডা বা নতুন বইয়ের গন্ধ। আর কেউ স্টলে স্টলে খুঁজবে না ক্যাটালগ বা নতুন বই। শনিবার (২ মার্চ) বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এবারের মেলার আলো নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। আলো নেভার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সাঙ্গ হয় প্রাণের বইমেলা। পেছনে পড়ে থাকল গত ৩০ দিনের আড্ডার স্মৃতি। আবারও শুরু হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর।

কথায় আছে- ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার ক্ষেত্রে এই কথাটিই যৌক্তিক বিশেষণ। মেলার ২৭তম দিনে বৃষ্টির কারণে তিন ঘণ্টায় বন্ধ হয়ে যায় মেলা। ২৮ ফেব্রুয়ারি মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুই দিন বাড়িয়ে দেয়া হয় গ্রন্থমেলা। বর্ধিত এই দুই দিনই মেলায় নেমেছিল বইপ্রেমীদের ঢল। শনিবার মেলার শেষ দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মেলা। যার সকালটা কিছুটা মিয়ম্রাণ ছিল। তবে বিকেলের পর থেকে বাকি সময়জুড়ে ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। মেলার আলো নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। আলো নেভার পরপরই গুনগুনিয়ে উঠে মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। তাহলে শেষ হয়েই গেল বাঙালির প্রাণের এ মেলা। তবে শেষ মুহূর্তের ভালোলাগা আর আনন্দের নির্যাস নিতে ভুলেননি কেউই। বইপ্রেমীরা কিনে নিয়েছেন বাকির খাতায় জমে থাকা শেষ বইগুলো। আর দর্শনার্থীরা অন্যান্য দিনের মতোই শেষ দিনেও আড্ডা আর ঘোরাঘুরি করে কাটিয়েছেন সময়। সবমিলিয়েই লেখক-পাঠক-প্রকাশক আর দর্শনার্থীর সরব উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল মেলার দুই প্রাঙ্গণই।

গত ২৮ তারিখ মেলায় যখন ভাঙার চূড়ান্ত আয়োজন চলছে তখনই প্রকাশকদের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী দুইদিন মেলা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এতে খুশি হন অধিকাংশ লেখক এবং প্রকাশক। তবে বর্ধিত দু’দিনের প্রথম দিনে মেলায় বিক্রি-বাট্টা খুবই কম হয়। যদিও এ দিনও মেলায় লোক সমাগম কম ছিল না। তবে শনিবার অর্থাৎ বর্ধিত দুই দিনের শেষ দিন লোক সমাগমের পাশাপাশি জমে ওঠে বিক্রি বাট্টাও। এতে করে সকলেই ছিল খুশি।

বইমেলার লিটল ম্যাগ চত্বরে ‘খই’ স্টলে গিয়ে কথা হয় এর স্বত্বাধিকারী মুস্তাক মুকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুদিন মেলা বাড়ানোয় আমরা বেশ উপকৃত হয়েছি। কারণ এর আগের চারদিন বৃষ্টিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। সে হিসেবে এ দুই দিন সে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়েছে।

বইমেলার অতীত ইতিহাস থেকে জানা গেছে, এর আগে আরও তিনবার বইমেলার সময় বৃদ্ধি বা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে মেলা হয় ২৩ দিন। ১৯৯৫ সালে মেলার সময় বাড়ে সাত দিন। এবং ১৯৯৬ সালে বৃদ্ধি করা হয় ছয় দিন। আর সর্বশেষ এবার মেলার সময় বাড়ে দুই দিন। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে ঈদের কারণে মেলার সময় কমানো হয়। তবে ৯৫ এবং ৯৬ সালে রাজনৈতিক কারণে সময় বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ এবার বৃষ্টির কারণে সময় বাড়ানোর এ ঘটনা ঘটে।

অবকাঠামো সংরক্ষণের আহ্বান বাংলা একাডেমির : অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশকিছু স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। গত বছরও এ অবকাঠামোগুলো নির্মাণ করা হলেও কে বা কারা তা ভেঙে ফেলে। এর প্রেক্ষিতে একাডেমি কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালীমন্দির সংলগ্ন স্থায়ী স্যানিটেশেনসহ যেসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে তা সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ, সরকার, সাধারণ মানুষ সকলেই সহায়তা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং মেলা আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ সংবাদকে বলেন, এ অবকাঠামোগুলো রাষ্ট্রের সম্পত্তি। আমরা চাই রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে নির্মিত এ স্থাপনা রক্ষায় সকলেই সজাগ থাকবে। গতবারও আমরা এগুলো করেছিলাম। কিন্তু তা রক্ষিত হয়নি। এবার আবারও করতে হয়েছে। এটি রাষ্ট্রের সম্পত্তির অপচয়। সকলে সহায়তা করলে এগুলো রক্ষা করা সম্ভব।

মেলায় বিক্রি-বাট্টা : এবারের মেলার ২৮তম দিনে ছিল সমাপনী আয়োজন। যাতে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, এবারের মেলায় ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করে গতবারের তুলনায় ১০ শতাংশ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গতবারের বিক্রি ছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার। সে হিসেবে এবার ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। তবে বর্ধিত দুই দিনের বিক্রি হিসাব করা হয়নি।

মেলায় নতুন বই : এবার মেলায় নতুন বই এসেছে ৪ হাজার ৮৩৪টি। গতবারের মেলায় নতুন বই এসেছিল ৪ হাজার ৫৯১টি। গত বছরের চাইতে এবার ২৪৩টি বই বেশি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতি বছর কবিতার বই বেশি প্রকাশিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে ১ হাজার ৬০৮টি। এছাড়া এ বছর গল্পগ্রন্থ ৭৫৭টি, উপন্যাস ৬৯৮টি, প্রবন্ধ ২৭৪টি, গবেষণা ৮০টি, ছড়া ১৪৮টি, শিশুতোষ ১৫০টি, জীবনী ১৬৭টি, রচনাবলি ১৫টি, মুক্তিযুদ্ধ ১১০টি, নাটক ৪৩টি, বিজ্ঞান ৭৭টি, ভ্রমণ ৮৫টি, ইতিহাস ৭৭টি, রাজনীতি ৩৩টি, স্বাস্থ্য ৩৭টি, কম্পিউটার ৫টি, রম্য ২৮টি, ধর্মীয় ২৫টি, অনুবাদ ৩৮টি, অভিধান ৬টি, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ৪৫টি এবং বিবিধ বিষয়ে বই এসেছে ৩৩০টি। এর মধ্যে শনিবার মেলার শেষ দিনে ৬৩টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১০, উপন্যাস ৯, প্রবন্ধ ৫, কবিতা ২২, গবেষণা ১, ছড়া ২, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ৩, স্বাস্থ্য ২, ধর্মীয় ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপরে আরও ১০টি নতুন বই এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ। জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১৫১টি বই মানসম্পন্ন।

এবারের মেলার সার্বিক বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলা পরিকল্পনামাফিক করতে পারায় আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি। মেলার সময়সীমা দুই বৃদ্ধি পাওয়ায় বইপ্রেমীরা আরও বেশি আসতে পেরেছেন মেলায়। সে সঙ্গে বিক্রিও ভালো হয়েছে। এবারের ছোটখাটো যেসব ভুলত্রুটি ছিল, সেগুলোকে কাটিয়ে উঠে আগামীবারের মেলা আরও সুন্দরভাবে করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন বাংলা একাডেমির এ পরিচালক।

আইডিয়াল কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আইডিয়াল কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

নারী অগ্রযাত্রার এখনও অনেক পথ বাকি

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশ

image

সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি। যারা ‘অনন্যা’ হয়েছেন তাদের অনুসরণ করে সমাজের প্রতিটি

শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

৬টি নাট্যদলের ৬টি কোলাজ নাটক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত হলো দেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব ২০১৯’।

sangbad ad

লেখক-গবেষক-অধ্যাপক গোলাম মুরশিদকে সংবর্ধনা

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলা ভাষা-সাহিত্যের শক্তিমান গবেষক, লেখক, অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ। আগামী ৮ এপ্রিল আশি বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে তাকে সংবর্ধিত

চলে গেলেন ভাওয়াইয়া গানের কিংবদন্তি রাজা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সাংবাদিক ও ভাওয়াইয়া গানের কিংবদন্তি শফিউল আলম রাজা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি

শিল্পকলায় ‘সোনাই মাধব’

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র অন্যতম সৃষ্টি পদাবলী যাত্রাপালা ‘সোনাই মাধব’। অভিনয়, নাচ ও গানের

গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে বসন্ত উৎসব

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

image

নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের ভিতর নিজেকে খোঁজার যে আনন্দ তার সবটুকু উপভোগ করল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। ১২ মার্চ

কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে সংবর্ধনা

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

ষাটের দশকে গল্প দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবন শুরু। সেসব গল্পে উঠে এসেছে সামাজিক

চার গুণী পেলেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পুরস্কার

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত ‘সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য

sangbad ad