• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

 

বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিনের প্রতি সুবিচার করা হয়নি

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০১৯

সংবাদ :
  • ওবায়েদ আকাশ
image

ঐতিহ্য রক্ষার নামে পুরনো ধ্যানধারণাকে আঁকড়ে থাকার যৌক্তিকতা কতটুকু- তার কোনো সদুত্তর না দিয়েই বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এবং হাতেগোনা ২/৩টি লিটল ম্যাগাজিন অন্ধের মতো সেই কাজটিই করে চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা একাডেমির বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত হলেও বইমেলার প্রাণ এবং তারুণ্যের পীঠস্থান লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই রাখা হয়েছে। এবং দোহাই দেয়া হচ্ছে, একাডেমির বহেড়াতলায় থাকাই নাকি লিটল ম্যাগাজিনের ঐতিহ্য। মূল মেলাই যখন বাংলা একাডেমিতে নেই, তখন লিটল ম্যাগাজিন চত্বর কেন একাডেমিতেই থাকবে- এর উত্তর জানে না কেউ। এই একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘মুক্তধারা’র চিত্তরঞ্জন সাহা প্রথম পাটি বিছিয়ে বইমেলা শুরু করে যে ঐহিত্য সৃষ্টি করেছিলেন, তা যে এখন সোহরাওয়ার্র্দী উদ্যানে চলে গেছে, সে ব্যাপারে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। একাডেমির মেলার মূল ঐতিহ্যই যে রক্ষা করা গেল না, সে নিয়ে কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। শুধু একাডেমির বহেড়াতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে ধরে রাখার মধ্য দিয়ে দু’তিনটি লিটল ম্যাগাজিন এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছে। অথচ মনে আছে, ২০০১ সালের আগে কয়েক বছর যখন এই বহেড়াতলা চত্বর ফাঁকা পড়ে থাকত, কোনো লিটল ম্যাগাজিন স্টল পেতে বসত না; তখন আমি আমার ছোটভাই ও ভাগ্নেকে দিয়ে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে একটি চকি কিনে এনে আমার সম্পাদিত ‘শালুক’ এবং সরকার আমিন সম্পাদিত ‘মঙ্গলসন্ধ্যা’র ব্যানারে আমরা লিটল ম্যাগজিনের পসরা নিয়ে বসি। তার দুই বছর পর আহমেদুর রশীদ সম্পাদিত ‘শুদ্ধস্বর’ তার পাশে এসে বসে। এভাবে চারপাঁচ বছর চলার পর যখন অনেকেই এই বহেড়াগাছের নিচে বসতে চায়, তখন আমি নিজে তৎকালীন ডিজিকে বহেড়াতলায় লিটল ম্যাগাজিনকর্মীদের জন্য বসার জায়গা করে দিতে অনুরোধ জানাই। আমার কথা রক্ষা করে তারা প্রথমে একটি গাছের নিচে, পরে দুটি গাছের নিচে এবং ধীরে ধীরে পুরো চত্বরটিতে ছোট ছোট স্টল করে বসার সুযোগ করে দেয়। সেই ধারাবাহিকতাই এখন চলছে। অথচ আজকে ২/৩টি লিটল ম্যাগাজিন যে ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলছে, এই চত্বর গড়ে ওঠার শুরুতে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

একাডেমি কর্তৃপক্ষ এদের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে আসছে লিটল ম্যাগজিনকে। একথা সর্বস্বীকৃত ও প্রমাণিত যে, লিটল ম্যগাজিনই হলো লেখক তৈরির সূতিকাগার। ব্যতিক্রমী চিন্তাচেতনার উৎস। নতুন ভাবনা ও বাঁকবদলের লেখার আশ্রয়স্থল। অথচ সমস্ত প্রকাশনা সংস্থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঠাঁই দিয়ে লিটল ম্যাগাজিনকে রাখা হয়েছে কিছু এনজিও, ব্যবসায়িক সংগঠন, সরকারি সংস্থা, বাণিজ্যিক পত্রিকা, রাজনৈতিক সংগঠন, কিছু মিডিয়া, এবং সাহিত্যসংস্কৃতিবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে। আর যেসব প্রকাশনা সংস্থা ভাল ভাল বই প্রকাশ করছে তাদের কাছ থেকে লিটল ম্যাগাজিনকর্মীদের দূরে রাখা হয়েছে। মাঝখান দিয়ে দীর্ঘ রাস্তা হওয়ার কারণে এপারের পঠক ওপারে আর ওপারের পাঠক এপারে আসতে অনেক ঝুঁকির মুখে পড়েন। অথচ লিটল ম্যাগাজিনের লেখকদের বই বড় বড় প্রকাশকরাও প্রকাশ করছে। সব লেখকই লিটল ম্যাগজিন চত্বরে এসে আড্ডা দিতে চান, অতীতেও তাই দিয়েছেন, আবার লিটল ম্যাগাজিনের লেখকরাও বড় বড় প্রকাশনা সংস্থায় যাতায়াত করতে চান, কিন্তু মেলা বিভাজিত হওয়ায় এখন সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

বহুবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গত বছর একাডেমি কর্তৃপক্ষ লিটল ম্যাগজিন চত্বর উদ্যানে নিতে সম্মত হলেও হাতেগোনা ঐ দু’তিনজনের দাবি বিবেচনা করে আবার একাডেমি চত্বরেই রেখে দিয়েছে। এমন কয়েকজন লিটল ম্যাগাজিনকর্মী (?) আবার আছে (যাদের নিজেদের কোনো পত্রিকা নেই) তারা এসব এনজিও ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে সহাবস্থান করে বাংলা একাডেমি চত্বরেই থাকতে চায়। এনজিওর সঙ্গে থাকতে চাইলেও তারা বড় প্রকাশনা সংস্থা, যারা ভাল বই প্রকাশ করে, তাদের সঙ্গে থাকতে চায় না। এদের কাছে নতি স্বীকার বাংলা একাডেমির মতো এতবড় প্রতিষ্ঠানের মানায় না। তারা অবশ্যই জোরালো ভূমিকা নিয়ে লিটল ম্যাগজিন চত্বরকে মূল মেলার সঙ্গে স্থান করে দিবেন বলে বিশ্বাস রাখি।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই চত্বরটিকে এমনভাবে বাণিজ্যিকায়ন করা হয়েছে যে, হিজিবিজি করে দু’তিন শ’ স্টল বসানো হয়েছে; যেখানে ঘোরাফেরার কোনো জায়গা নেই। প্রাণ খুলে আড্ডা দেবার কোনো সুযোগ নেই। অথচ যেখানে হাতেগোনা কুড়িটি লিটল ম্যাগাজিন পাওয়া যায় না, সেখানে দুই-তিনশ’ স্টল কাদেরকে দেয়া হলো? ঘুরে ঘুরে দেখা গেল, কিছু বাণিজ্যিক প্রকাশনা, বাণিজ্যিক পত্রিকা, এবং নামসর্বস্ব পত্রিকাকেও স্টল দেয়া হয়েছে। যারা অনেকে লিটল ম্যাগাজিন নামটিই কখনো শোনেনি। এবং অধিকাংশ স্টলে ছোটদের বই, কমিকস, কার্টুন, এবং বস্তাপচা বাণিজ্যিক প্রকাশনার বিকিকিনি হচ্ছে। অথচ এ নিয়ে ঐতিহ্যরক্ষকদের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। বর্তমান মহাপরিচালক, বরেণ্য কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, যিনি লিটল ম্যাগজিনেরও লেখক, তিনি এ ব্যাপারে আগামীতে ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

সাহিত্যের বিকাশে লিটল ম্যাগাজিন এত বড় একটি মাধ্যম যে তাকে মূল মেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্যাভিলিয়ন করে ছোট ছোট স্টল দিয়ে বসার ব্যবস্থা করে দেয়া এখন অবশ্য জরুরি। আরো বেশি জরুরি প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিন যারা করেন, শুধু তাদেরকেই স্টল বরাদ্দ দেয়া। এবং আরো বেশি স্পেস দিয়ে, আড্ডার প্রচুর স্পেস রেখে, আগের মতো বসার স্থান করে দিয়ে প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিনকর্মীদের উজ্জীবিত করা। নইলে দীর্ঘদিন বাংলা একাডেমি চত্বরে থেকে থেকে মেলায় আসা অগণিত নবীন প্রবীণ লেখক-পাঠকের কাছ থেকে আমাদের লিটল ম্যাগাজিন বিস্মৃত ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে এবারের লেখক-পাঠকের অনুপস্থিতি সেই ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে। অধিকাংশ পাঠক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল মেলা ঘুরেই চলে যান, লিটল ম্যাগাজিন চত্বর দেখেনও না, কোনো ধারণাও পান না।

মূল মেলা যখন বাংলা একাডেমিতে ছিল, তখন সব স্টল বন্ধ হয়ে গেলেও লিটল ম্যাগাজিনকর্মীদের আড্ডা চলতেই থাকতো। সব ধরনের লেখক এসে এখানে আড্ডা জমাতেন। তখন প্রতিদিন দুচারদশটি তরুণ কবির বইয়ের মোড়ক খোলা হতো এই চত্বরেই। নতুন পত্রিকা এলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ত সবাই। সে চিত্র এখন আর নেই। এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত; আর লিটলম্যাগ চত্বর সাতটায়ই জনশূন্য হয়ে যায়।

বাংলা একাডেমি যে উদ্দেশ্যে লিটল ম্যাগাজিন নিজস্ব চত্বরে রেখে দিয়েছে, ধীরে ধীরে চত্বরটি জনশূন্য বিরান প্রান্তরে পরিণত হলে তাদের সে উদ্দেশ্য আদৌ সফল হবে কি? এখন আমাদের প্রকৃত লিটল ম্যাগজিনকর্মীদের দাবি একটাই, লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলার ক্যান্টিনের পাশে অথবা ঠিক মধ্যমেলায় প্যাভিলিয়ন বানিয়ে ছোট ছোট স্টল করে দেয়া হোক; এবং গণহারে নয়, প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিনকেই শুধু স্টল বরাদ্দ দেয়া হোক। লিটল ম্যাগাজিন ও নতুন সাহিত্যকে উৎসাহিত করতে এর কোনো বিকল্প নেই। কারো কথায় নয়, বাংলা একাডেমি নিজেই এ ব্যাপারে জোরালো ভূমিকা নিবে বলে বিশ্বাস করি।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক। সম্পাদক : শালুক
email : oakash1971@gmail.com

আইডিয়াল কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আইডিয়াল কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

নারী অগ্রযাত্রার এখনও অনেক পথ বাকি

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশ

image

সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি। যারা ‘অনন্যা’ হয়েছেন তাদের অনুসরণ করে সমাজের প্রতিটি

শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

৬টি নাট্যদলের ৬টি কোলাজ নাটক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত হলো দেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব ২০১৯’।

sangbad ad

লেখক-গবেষক-অধ্যাপক গোলাম মুরশিদকে সংবর্ধনা

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলা ভাষা-সাহিত্যের শক্তিমান গবেষক, লেখক, অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ। আগামী ৮ এপ্রিল আশি বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে তাকে সংবর্ধিত

চলে গেলেন ভাওয়াইয়া গানের কিংবদন্তি রাজা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সাংবাদিক ও ভাওয়াইয়া গানের কিংবদন্তি শফিউল আলম রাজা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি

শিল্পকলায় ‘সোনাই মাধব’

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র অন্যতম সৃষ্টি পদাবলী যাত্রাপালা ‘সোনাই মাধব’। অভিনয়, নাচ ও গানের

গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে বসন্ত উৎসব

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

image

নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের ভিতর নিজেকে খোঁজার যে আনন্দ তার সবটুকু উপভোগ করল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। ১২ মার্চ

কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে সংবর্ধনা

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

ষাটের দশকে গল্প দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবন শুরু। সেসব গল্পে উঠে এসেছে সামাজিক

চার গুণী পেলেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পুরস্কার

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত ‘সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য

sangbad ad