• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

 

কবিতা, গান ও প্রথাবিরোধী চেতনায় সম্পন্ন হলো শালুক সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/1.jpg

মূল প্রবন্ধ পাঠ করছেন কবি ওবায়েদ আকাশ

“লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্য পত্রিকা কিংবা সংকলন নয়, এটি একটি কমিটমেন্ট নিয়ে প্রকাশিত হয়। যে লেখা বাণিজ্যিক পত্রিকা প্রকাশে সাহস করে না, সেই সব ব্যতিক্রমী ও ভিন্ন মাত্রার লেখা দিয়ে প্রকাশিত হয় লিটল ম্যাগাজিন। সেখানে শুধু তরুণরা নয়, সব বয়সের লেখকরাই লিখে থাকেন। যাদের লেখায় তারুণ্য ও ভিন্নতা আছে তাদের লেখা মুদ্রিত হয় লিটল ম্যাগাজিনে। সুতরাং হাত মকশ করার জন্য লিটল ম্যাগাজিন নয়, লিটল ম্যাগাজিনের লেখকদের কোনো বয়স নেই। তারা যে কোনো বয়সের হতে পারেন।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/2.jpg

শালুক আয়োজিত সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’-এ অংশগ্রহণকরীদের একাংশ

সাম্প্রতিক সময়ে লিটল ম্যাগাজিন চর্চার প্রবণতা কমে গেছে, অথচ এই বৈরি সময়ে লিটল ম্যাগাজিন চর্চা কিংবা প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার কোনো বিকল্প নেই। লিটল ম্যাগাজিন সব সময় প্রথার বিরোধিতা করে, সব সময় এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান। আজ আবার সময় এসেছে প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করাবার।” শালুক সম্পাদক বিশিষ্ট কবি ওবায়েদ আকাশ কথাগুলো বলেন ‘সাম্প্রতিক সময়ে লিটল ম্যাগাজিন চর্চার প্রাসঙ্গিকতা ও অপরিহার্যতা’ নামক প্রবন্ধে। গত ৫ এপ্রিল, শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’-এর মূল আলোচনার বিষয়-প্রবন্ধ ছিল এটি। এই মনোরম ও উচ্চামার্গীয় সাহিত্যসন্ধ্যাটির আয়োজক ছিল সাহিত্য ও চিন্তাশিল্পের ছোটপত্রিকা ‘শালুক’। ‘শালুক’ আগামী নভেম্বর মাসে ২০ বছরে পদার্পণ করবে।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/3.jpg

অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজনের ফটোসেশন

ঢাকায় দেশ-বিদেশের সবচেয়ে বড় বইয়ের শোরুম পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র। চারিদিকে বই আর বইয়ের ঘ্রাণে মইমই দশা। তখন বিকেল সাড়ে চারটা বাজতে মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। ধীরে ধীরে পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রের দোতলার শোরুমটি অংশগ্রহণেচ্ছু কবি-লেখক-শুভাকাক্সক্ষীর আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে। এসেছে মিডিয়া পার্টনার জিটিভি ও সংবাদের প্রতিনিধিগণ। একাত্তর, চ্যানেল আইসহ আরো মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়েছেন। সুনন্দিত ব্যানারে ঝুলছে ‘শালুক’ ও ‘প্রতিস্রোত’-এর শৈল্পিক অক্ষরলিপি। স্পষ্ট হয়ে আছে অনুষ্ঠানসূচি। পাঁচটা না বাজতেই উপস্থিতদের আসীনে ভরে গেল সকল শূন্য চেয়ার। শালুকের পক্ষ থেকে আরো চেয়ার দেয়ার আহ্বান জানানো হলো। সাহিত্য পিপাসুরা আসছেন।

এমন সময় মঞ্চ থেকে ভেসে এলো রবীন্দ্রসঙ্গীত, সাকিরা পারভীনের কণ্ঠে “মেঘের ’পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।/ আমায় কেন বসিয়ে রাখো একা দ্বারের পাশে।/ কাজের দিনে নানা কাজে/ থাকি নানা লোকের মাঝে,/ আজ আমি যে বসে আছি তোমারি আশ্বাসে।”... গানটি খুব দরদভরা কণ্ঠে গাইলেন সাকিরা। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি মাহফুজ আল-হোসেন। শুরুতেই তিনি মঞ্চে ডেকে নিলেন শালুক-সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশকে। তিনি আজকের সাহিত্যসন্ধ্যার মূল আলোচনায় ‘সাম্প্রতিক সময়ে লিটল ম্যাগাজিন চর্চার প্রাসঙ্গিকতা ও অপরিহার্যতা’ বিষয়ক বিষয়প্রবন্ধ পাঠ করবেন। এবং প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করবেন নির্ধারিত চার আলোচক। মঞ্চে ডাকা হলো কথাসাহিত্যিক অনন্ত মাহফুজ, কথাসাহিত্যিক মোজাফ্ফর হোসেন ও শিল্পী সঞ্জয় দে রিপনকে।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/4.jpg

শালুক আয়োজিত সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’-এ অংশগ্রহণকরীদের একাংশ

মঞ্চেই উপস্থাপনার দায়িত্বে আছেন আরেক আলোচক মাহফুজ আল-হোসেন। শুরু হলো ওবায়েদ আকাশের ভিন্নধর্মী অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল প্রবন্ধ পাঠ। প্রবন্ধে তিনি লিটল ম্যাগাজিন কী, কেন, সাম্প্রতিক বাস্তবতা, এর প্রাসঙ্গিকতা ও অপরিহার্যতা নিয়ে অসংখ্য বিষয় তুলে ধরলেন। বোঝা গেল, লিটল ম্যাগাজিন করা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। কমিটমেন্ট ধরে রেখে লিটল ম্যাগাজিন করা, আজকের দিনে খুবই দুরূহ। লিটল ম্যাগাজিন জনপ্রিয়তা ও প্রচলপ্রথাকে গ্রহণ করে না। লিটল ম্যাগাজিনের কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই; লিটল ম্যাগাজিন ছাড়া সাহিত্যের বাঁক আসে আসে না। যুগে যুগে লিটল ম্যাগাজিনই কিন্তু শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকে আশ্রয় দিয়েছে এবং নতুন সাহিত্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

আজকের দিনেও আমাদের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এবং তিনি মনে করেন যে, যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পত্রিকা প্রকাশ করেন, তারা সাহিত্যের সেবা করার জন্য পত্রিকা প্রকাশ করেন না। আর লিটল ম্যাগাজিন এমনই এক বারুদ যা বিস্ফোরিত না হয়ে পারে না।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/5.jpg

প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় প্রথম আলোচক অনন্ত মাহফুজ লেখকদের লিটল ম্যাগাজিনে লেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচক মোজাফ্ফর ওবায়েদ আকাশের বক্তব্যে প্রায়োগিক দিকটি নেই বলে সমালোচনা করেন। সাহিত্যে কর্পোরেট পুঁজি বিনিয়োগ হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন। এবং তিনি ‘শালুক’ লিটল ম্যাগাজিন কিনা সেই সেই প্রশ্নটিও রাখেন। তার বক্তব্য প্রকারান্তরে এস্টাবলিশমেন্টের স্তুতিতে পরিণত হয়। আবার তিনি প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিনের কোনো সংজ্ঞাও দেন না। তিনি দুটি সাহিত্যপত্রিকার সঙ্গে ‘শালুক’র লিটল ম্যাগাজিন চরিত্রের সঙ্গে গুলিয়ে বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠানের বা দৈনিক পত্রিকার লেখক হাসান আজিজুল হককে নিয়ে সংখ্যা করা যায় কিনা সে প্রশ্নও করেন তিনি। আবার অভিজিৎ রায়কে নিয়ে কোনো লিটল ম্যাগাজিন সংখ্যা করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেষতক তার বক্তব্য অনেকটা স্ববিরোধী হয়ে পড়ে।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/6.jpg

তার তীক্ষ্ণ সমালোচনার বিপরীতে ওবায়েদ আকাশও নান্দনিক প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, মোজাফ্ফর যে দুটি পত্রিকার উল্লেখ করেছেন তার একটি পত্রিকা পুরনো লেখা পুনর্মুদ্রণ করে প্রকাশিত হয়। অন্যটি একাডেমিক ঘরানার। তার সঙ্গে শালুকের কোনো মিল হতে পারে না। শালুক নতুন ও ভিন্নধর্মী লেখা দিয়ে প্রকাশিত হয়। তাছাড়া তিনি যে সাহিত্য পত্রিকাটির নাম বলেছেন সেটি একজন শিল্পপতির পত্রিকা। সুতরাং সাহিত্য পত্রিকা বণিকদের হাতে নেই, এটা সত্য নয়। হাসান আজিজুল হক প্রকাশ্যে মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাই তিনি অন্য বুদ্ধিজীবীর মতো নন। তাকে নিয়ে লিটল ম্যাগাজিন সংখ্যা করতেই পারে। তাছাড়া তাকে প্রতিষ্ঠানের লেখকও বলা যায় না। সেই অর্থে এদেশের বড় পত্রিকাগুলো বড় প্রতিষ্ঠান নয়। তার চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানে আমরা থাকি। প্রতিষ্ঠানের অন্ন প্রহণ করি। সুতরাং শুধু দৈনিক পত্রিকায় না লেখা মানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা নয়।

অনুষ্ঠান শেষে তাকে মোজাফ্ফরের কথা থেকে প্রশ্ন করা হয় যে, শালুক অভিজিৎ রায়কে নিয়ে সংখ্যা করবে কিনা। ওবায়েদ আকাশ বলেন, ‘কেউ মৌলবাদের লক্ষ্যবস্তু হলেই কি তাকে নিয়ে সংখ্যা করতে হবে? ‘শালুক’ একটি কমিটমেন্ট নিয়ে প্রকাশিত হয়। সে কারো নির্দেশনা মানে না। কাকে নিয়ে সংখ্যা করবে না করবে সেটা শালুকের নিজস্ব ব্যাপার। শালুক কারো আজ্ঞাবহ নয় যে, অভিজিৎ রায় আক্রান্ত হয়েছে বলেই তাকে নিয়ে সংখ্যা করতে হবে। এটা সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক কাজ হবে। আক্রমণকারীরা আক্রমণ করে কি আমাকে দেখিয়ে দেবে যে, ওমুকের ওপর সংখ্যা করো? অভিজিৎকে নিয়ে যদি সংখ্যা করতেই হয়, তাহলে তার ওপর আক্রমণের দরকার হবে কেন? তার ওপর সংখ্যা করা মানেই একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা। ব্যাপারটা চরমভাবে হাস্যকর।’

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/7.jpg

মঞ্চে আসেন সঞ্জয় দে রিপন। তিনি ১৭৮০ সালে আ প্রিফেস টু লিরিক্যাল ব্যালাড-এর ভূমিকার কথা তুলে বলেন, ওয়ার্ডসওয়ার্থ বিষয়কে রূপ বা কাঠামোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তিনি লিটল ম্যাগাজিনকে প্রান্তিকের অনুভূতি তুলে ধরার কথা বলেন। সঞ্জয় মনে করেন, শিল্পী বা কবিকে শুধু সুন্দরের কথা বললেই চলবে না। তাকে অসুন্দরের কথাও বলতে হবে।

এবার উপস্থাপকের দায়িত্ব চলে যায় ওবায়েদ আকাশের হাতে। প্রসঙ্গের শেষ বক্তা হিসেবে ফ্লোর দেন মাহফুজ আল হোসেনকে। মাহফুজ আল-হোসেন লিটল ম্যাগাজিন শুরুর আরো ইতিহাস তুলে ধরেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের লেখা থেকে তুলে ধরেন লিটল ম্যাগাজিনের গুরুত্ব ও ভূমিকা। তিনি বলেন, লিটল ম্যাগাজিনকে একসময় ব্রিটিশরাজও ভয় পেত- এটি এমনই বারুদ। লিটল ম্যাগাজিন মানে হলো নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। ওবায়েদ আকাশ সেই কাজটি করে চলেছেন। ওবায়েদ আকাশকে আমাদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

দর্শক সারি থেকে ভাস্কর আবেদীন কথা বলতে চান। তিনি এদেশের আশির দশকের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। বিষয়ের ওপর কথা বললেন দর্শক সারি থেকে তরুন ইউসুফ।

http://thesangbad.net/images/2019/April/08Apr19/news/8.jpg

আলোচনা দীর্ঘায়িত না করতে মঞ্চ নির্ধারিত ২০ কবির তালিকা থেকে কয়েকজনকে মঞ্চে ডেকে নেয়া হলো কবিতা পাঠ করতে। কবিতা পড়লেন কবি হাইকেল হাশমী, জুনান নাশিত, চয়ন শায়েরী ও আবদুর রাজ্জাক।

শুরু হলো নতুন পর্ব বই পরিচিতি। ২০১৯ সালে প্রকাশিত নির্বাচিত দশটি বই পরিচয় করিয়ে দিলেন ওবায়েদ আকাশ ও মাহফুজ আল-হোসেন। বইগুলো ছিল- দম-যোগিনীর তাল : জাফর সাদেক, ছুঁয়ে যাও না ছোঁয়ার ভান করে : আদিত্য নজরুল, তাঁবুকাব্য : তুষার কবির, জলের নিচে অনন্ত দুপুর : মাহবুব মিত্র, ছাঁটমানুষের জাগ : অমিত আশরাফ, কামার্ত নগরের কামিজ : মাহফুজা অনন্যা, হিমঘরে চাঁদের শয্যা : আহমেদ শিপলু এবং খড়কুটো ও জলের কাব্য : লিজা ফাহমিদা, প্রতীচ্যের বিউগল : মাহফুজ আল-হোসেন, সর্বনামের সুখদুঃখ : ওবায়েদ আকাশ।

কবিরা নতুন বই থেকে কবিতা পড়তে শুরু করলেন। পড়লেন ৫ কবি- লিজা ফাহমিদা, মাহবুব মিত্র, আদিত্য নজরুল, অমিত আশরাফ, মাহফুজা অনন্যা।

বহমান স্রোতের বিপরীতেই শুরু হলো প্রথাবিরোধী পত্রিকা ‘শালুক’-এর দুটি সংখ্যা ‘অন্য ভাষার সাহিত্য পাঠ’ ও ‘সিকদার আমিনুল হক সংখ্যা’র ওপর পাঠ পর্যালোচনা। অংশ নিলেন- সরকার আবদুল মান্নান, জামিরুল শরীফ ও সুমন শামস। সরকার আবদুল মান্নান কিছু লেখার সমালোচনা করলেন, কিছু লেখার প্রশংসা করলেন, কিন্তু আরো ভালো হতো যদি তিনি নাম মেনশন করে কাজটি করতেন। তাহলে শালুকের সম্পাদনা পরিষদ আরো সতর্ক হতে পারত। আরো দুজন আলোচক বাকি থাকতেই আরেক পর্ব কবিতা পাঠের জন্য ডাকা হলো। পড়লেন- কবি শেলী সেনগুপ্তা, তরুন ইউসুফ, জান্নাতুল বাকিয়া কেকা (কেকা অনির্ধারিত)। আলোচনায় ফিরে এলেন জামিরুল শরীফ। তিনি তিরিশের দশকের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনা করেন এবং শালুকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সুমন শামস আলোচনার পর তার লেখা ও সুর করা একটি গানও গেয়ে শোনালেন। কবিতা পড়তে আবার ডাকা হলো নির্বাচিত বইয়ের অপর পাঁচ কবিকে। পড়লেন: জাফর সাদেক, আহমেদ শিপলু, মাহফুজ আল-হোসেন, তুষার কবির। ওবায়েদ আকাশকে কবিতা পড়তে অনুরোধ করলেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন : ‘সবাই কবিতা পড়ার পর সময় থাকলে আমি সবার শেষে কবিতা পড়বো। আমার অনেক কবিবন্ধু অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন কিন্তু এখনো কবিতা পড়ার সুযোগ পাননি।’ এর পর একে ডাকা হলো নির্বাচিত কবিদের থেকে কয়েকজনকে। কবিতা পড়লেন- আবদুল্লাহ জামিল, চামেলী বসু, মাহফুজ রিপন, ডালিয়া চৌধুরী ও জাকির সোহান। আবদুল্লাহ জামিল চিকিৎসক, কবি ও সংগীতশিল্পী। তিনি আমাদেরকে একটি গানও শোনালেন।

শেষ পর্বে কবিতা পড়তে এলেন- মামুন মুস্তাফা, সোহেল মাজহার, মনিরুজ্জামান মিন্টু, গিরীশ গৈরিক, রিসতিয়াক আহমেদ। কিন্তু সামনে বসে থাকা কবি কামরুল হাসানকে মঞ্চে ডেকে এনে তাকে আগে কবিতা পড়ার সুযোগ করে দিলেন। নির্ধারিতের বাইরে কবিতা পড়লেন- আসাদুজ্জামান, সুমন শামস ও জামিরুল শরীফ।

সারাক্ষণ ওবায়েদ আকাশকে সঙ্গ দেয়ায় এবং আড্ডা পরিচালনা করতে দেখায় কবি মাহফুজ আল-হোসেন সবার নজরে আসেন। এবং ওবায়েদ আকাশ তার সম্পর্কে বলেন, মাহফুজ ভাইই মূলত এই আড্ডার নেপথ্য কারিগর। তিনি আমাকে অনেক দিন ধরে খোঁচাচ্ছেন যে, আমরা প্রতি মাসে অন্তত একবার একটা ছাদের নিচে বসতে পারি কিনা। এবং তারই ফলস্বরূপ আজকের ‘শালুক’-আয়োজিন এই সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’।

রিসতিয়াক সারাক্ষণই অনুষ্ঠানে আগত সাহিত্যামোদীদের দেখাশোনা করেছেন। ছবি তুলেছেন।

প্রতিবার কবিতাপাঠ, আলোচনা কিংবা সঙ্গীত পরিবেশনের পর দর্শকসারি থেকে মুহুর্মুহু হাত তালি দিয়ে অভিনন্দিত করায়, বুঝতে বাকি থাকলো না যে, কতটা জমজমাট ও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল শালুক আয়োজিত সাহিত্যসন্ধ্যা ‘প্রতিস্রোত’।

অনুষ্ঠানের মাঝে পিনাট চকোলেট বার ও চকোলেট দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এবং সব শেষে দই-চিড়ার বক্স হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। ব্যাপারটা বেশ তৃপ্তিদায়ক ছিল। সব শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজ আল-হোসেন। শালুকের পক্ষ থেকে জানানো হলো- এ আড্ডা চলবে। অন্তত প্রতিমাসে একটা করে।

‘ন ডরাই’ সিনেমার সেন্সর বাতিলের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

‘ন ডরাই’ সিনেমার সেন্সর সার্টিফিকেট বাতিল করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে

২২-২৪ নভেম্বর তিনদিনব্যাপী ‘শালুক’-এর নিবিড় সম্মিলন

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

সময়কে খামচে দিয়ে বালি-কাকড়ের গভীর থেকে লিটল ম্যাগাজিন তুলে আনে মনিমাণিক্যের ভাণ্ডার। এ যাত্রায় ‘শালুক’ বরাবরই অবিকল্প

পর্দা নামলো ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৯

সাইফুল ইসলাম আফ্রাদ

image

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে প্রভাবিত সারদেশ। দিনভর বৃষ্টির হানায় সাহিত্যের উৎসব ছিল অনেকটা সাদামাটা। বৃষ্টির কারণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ

sangbad ad

চলছে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৯

সাইফুল ইসলাম আফ্রাদ

image

শনিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১১ দিন ব্যাপী এই আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৯। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বটতলার

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ শুরু

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

বিশ্বনন্দিত প্রায় তিনশ’ লেখক-সাহিত্যিক-চিন্তাবিদের অংশগ্রহণের সঙ্গে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ঢাকা লিটারারি

“টাগোর ইন্টারন্যাশনাল লিটারেচার এন্ড আর্ট ফেস্টিভ্যাল”-এ যোগ দিচ্ছেন কবি ওবায়েদ আকাশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাংলদেশের এসময়ের ব্যতিক্রম ধারার কবি ও ‘দৈনিক সংবাদ’-এর সাহিত্য সম্পাদক ওবায়েদ আকাশ ”টাগোর ইন্টারন্যাশনাল লিটারেচার

বিশ্ব স্বীকৃতি পেল জামদানির নগরী ‘সোনারগাঁ’

মোস্তাফিজুর রহমান

image

জামদানি বয়নশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মৌলিক, উৎকৃষ্ট ও অন্যতম অংশ। অসাধারণ নকশায় সমৃদ্ধ জামদানি বস্তুত মসলিনেরই একটি প্রকার

শালুক সাহিত্যসন্ধ্যার সপ্তম আয়োজন আগামীকাল শুক্রবার

সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

image

কবি ওবায়েদ আকাশ সম্পাদিত সাহিত্য ও চিন্তাশিল্পের পত্রিকা শালুক এবার ২০ বছরে পা দিয়েছে। গত সাত মাস ধরে পত্রিকাটির ব্যান্যারে

সেরা সংগঠনের পুরস্কার পেল শিল্পকলা একাডেমি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের সেরা সংগঠনের পুরস্কার পেল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। চীন প্রতিষ্ঠার

sangbad ad