• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯

 

রাসেল হত্যা : ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ
image

থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারলেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে রাজধানীর কদমতলী এলাকার চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস রাসেল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। তারা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামিসহ ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গত মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ ও ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সজল ওরফে পিচ্চি সজল ও মো. হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু।

গ্রেফতারকৃত সজল ওরফে পিচ্চি সাজল তার পিতার নাম মো. কামাল হোসেন, মাতা- সেতারা বেগম, সাং- আমতলী, থানা- মোরলগঞ্জ, জেলা- বাগেরহাট, বর্তমান- ৪৫ তুলাবাগিচা, পশ্চিম জুরাইন, থানা- শ্যামপুর। তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের আমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আসামি মো. হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু। তার পিতার নাম মৃত মোজাম্মেল হোসেন, মাতা- মনোয়ারা বেগম, সাং- হাজীগেট, ব্যাংক কলোনী, পো. ফরিদাবাদ, থানা- শ্যামপুর। তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর শ্যামপুর হাজীগেট ব্যাংক কলোনী থেকে পিবিআইয়ের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি চাকু উদ্ধার করেছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলা থানা পুলিশ ২ বছর ধরে তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। আর সেই মামলা পিবিআই মাত্র ৬ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করেছে। আর পলাতক অন্যদের ধরতে চলছে অভিযান।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০১৫ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর রাসেল তার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসে। ওই বছর ১১ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাসেলের মাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় রাসেলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। খবর পেয়ে রাসেলের মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করে। ওই সময় স্থানীয়রা রাসেলের মাকে জানায়, ২০১৫ সালে ১০ অক্টোবর রাজধানীর কদমতলী বড়ইতলা মোড়ে কে বা কারা রাসেলকে ডানপাজরে ও পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল মারা যায়। কিন্তু কী কারণে এবং কারা রাসেলকে হত্যা করেছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য পাননি। তবে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, রাসেল ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।

এই ঘটনায় রাসেলের মা রাশিলা বেগম স্বামী- মো. জলিল হাওলাদার, সাং-শিরগাতি, থানা- রূপসা, জেলা- খুলনা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কদমতলী থানার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৯ তারিখ-১৩/১০/২০১৫ খ্রি. ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড। এ ঘটনায় কদমতলী থানা পুলিশ গত ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মৃত রাসেল’র লাশ পেয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন। কদমতলী থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্ত শেষে ঘটনাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও কে বা কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা উদঘাটন করতে না পেরে ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি কদমতলী থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং- ৫৯, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড দাখিল করেন।

কিন্তু রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ওই চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে রাসেলের মা (মামলার বাদী) বিজ্ঞ আদালতে না-রাজির আবেদন করেন। এরপর বিজ্ঞ আদালতের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) গ্রহণ করে। এসআই মো. আল-আমিন শেখ মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ক্লু-লেস রাসেল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে রাসেলের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা থানা এলাকাসহ রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ব্যাপক তদন্ত করেন। একইসঙ্গে মামলার ক্লু উদঘাটনে নিয়োজিত গুপ্তচর ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের দিক-নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আল-আমিন শেখের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে ২ আসামিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ক্লু-লেস রাসেল হত্যা মামলার রহস্য বেরিয়ে আসে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেফতারকৃত আসামি সজল এবং ভিক্টিম রাসেল একই গ্রামে বিয়ে করে। সেই সুবাদে উভয়ের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসামি সজল ঢাকার কদমতলী এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বাস করতো। উক্ত আসামি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি হওয়ায় সে তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় অবস্থান করতো। ওই সময় রাসেলের সঙ্গে আসামির সখ্যতা গড়ে ওঠে। আসামি সজলের সঙ্গে সখ্যতার এক পর্যায়ে রাসেলকে সজল ঢাকায় টায়ারের ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঢাকায় আসার পরে চাকরি না দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে আসামি সজল ওরফে পিচ্চি সজলের পরিচিত পিংকি ও পারভেজ কদমতলী ও শ্যামপুর থানা এলাকার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। পিংকি ও পারভেজের মধ্যে মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে মাদক সম্রাজ্ঞী পিংকি পারভেজকে খুন করার জন্য আসামি বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু ও সজল ওরফে পিচ্ছি সজলদের ভাড়া করে। আসামিরা পারভেজকে খুন করার উদ্দেশ্যে সু-কৌশলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন (১০/১০/২০১৫) রাত ১১টার দিকে সজল ওরফে পিচ্ছি সজল, বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু, জুয়েল, আল-আমিন একত্রিত হয়। সেখানে রাসেলকে সজল ওরফে পিচ্ছি সজল কৌশলে সেখানে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সজল ওরফে পিচ্চি সজল ও হুন্ডা বাবু অন্যদের নিয়ে ইয়াবা সেবন করে। এক পর্যায়ে তাদের পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা সেবন শেষে পিচ্চি সজল ও হুন্ডা বাবু তাদের কাছে থাকা চাকু দিয়ে পারভেজ ও রাসেলকে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পারভেজ ও রাসেলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাসেল মারা যায়।

আটক পিচ্চি সজল ও হুন্ডা বাবুদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই ছাড়াও ডিবির এসি রাহুল পাটোয়ারীকে গুলিবর্ষণ করা সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। এ সব ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। অপর দিকে গতকাল সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, রাসেল হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি সজল ও হোসেন বাবু ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত মোট ৭ জন। পলাতক আরও ৫ আসামিকে ধরতে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত আছে।

এ দিকে আদালতের নির্দেশে পিবিআই প্রতিটি ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। আর থানা পুলিশ তা বছরের পর বছর তদন্ত করেও পারে না। তার কারণ কী- জানতে চাইলে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, থানা পুলিশ মামলা তদন্তে যথেষ্ট সময় দিতে পারে না। তারা নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। আর পিবিআই মামলা তদন্তে যথেষ্ট সময় দেন। আর তাদের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিসহ সব কৌশলে তারা পারদর্শী। তাই যত ক্লু-লেস মামলা আছে সবই পিবিআই উদঘাটন করছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি প্রায় ২ বছর পুলিশ তদন্ত করে আসামি চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে পারেনি। অপর দিকে তদন্তের দায়িত্ব হাতে পেয়ে প্রায় ৬ মাসের ব্যবধানে পিবিআই ক্লু উদঘাটন করেছে।

ডিআইজি মিজান ও দুদকের বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

৪০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক

স্বামী-স্ত্রীর কোটি টাকার ডিপ্লোমা বাণিজ্য

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ভুয়া চারুকলা ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিএড কলেজ, প্যারামেডিকেল

২৭ লাখ টাকাসহ চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে চাকরিচ্যুত এক সহকারী এএসআইকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। তার নাম কবির হোসেন শেখ (৩৮)। ১৫ জুলাই

sangbad ad

অবৈধ সম্পদ ডিসিসির সাবেক প্রকৌলীর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক অতিরিক্ত প্রধান

নিজেকে বাঁচাতে আরেক অডিও’র কথা বলে ৫ জনকে দায়ী করলেন বাছির

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

এবার নিজেকে বাঁচাতে আরও ৫ জনকে জড়িয়ে অভিযোগ করেছেন বরখাস্ত দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। এতে তিনি দাবি করেছেন

এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকা ঋন নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের

ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের অভিযান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, নামজারি ও রেজিস্ট্রিশনে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান

বিতর্কিত ডিআইজির ব্যক্তিগত সমস্যা ও বরখাস্ত দুদক পরিচালকের অসুস্থতার কারণে তারা দুদকে অনুপস্থিত ছিলেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি (সাময়িক বরখাস্ত) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ব্যক্তিগত

ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে পোল্ট্রি ফিড : জরিমানা ও সিলগালা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড তৈরি করার

sangbad ad