• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

 

হাজী সেলিমের বাড়ি অভিযানে টর্চার সেলের সন্ধান

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

সংবাদ :
  • সংবাদ অনলাইন ডেস্ক
download
image

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর নেভাল এভিয়েশনের এক লেফটেন্যান্ট ও তার স্ত্রীকে মারধর করেছে তার ছেলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের সহযোগীরা। ঘটনার সময় হাজী সেলিম ওই গাড়িতে না থাকলেও তার ছেলে ইরফান সেলিম গাড়িতে বসেই ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সংসদ সদস্য স্টিকারযুক্ত ওই গাড়ি দিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরবাইককে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়ার প্রতিবাদ করায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আরও কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২৬, দেবিদাস ঘাট লেনের ‘চাঁন সরদার-দাদা বাড়ি’ তে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পুত্রকে গ্রেফতার করতে র‌্যাব চকবাজারের দেবিদাস ঘাট লেনের নয় তলা বিশিষ্ট ওই বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি বিদেশি এয়ারগান, ৫ লিটার বিদেশি মদ, ১০ ক্যান বিয়ার, ৩টি ভিপিএস যন্ত্র (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার), ওয়াকিটকির বেজ স্টেশন ও ৩৮টি ওয়াকিটকি, ২টি হ্যান্ডকাফ ও দেহরক্ষী জাহিদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে। এছাড়া ওই বাড়িতেই একটি টর্চার সেলের সন্ধানও পেয়েছে র‌্যাব। এই টর্চার সেলে এলাকার লোকজনকে আটক করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। টর্চার সেলে পাওয়া গেছে মানুষের হাড় রশিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। অননুমোদিত ফ্রিকুয়েন্স দিয়ে ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভিযোগে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও জাহিদুলকে ৬ মাসের জেল দেয়। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই মদপানের অভিযোগে তাদের আরও ৬ মাসের জেল দেয়।

এদিকে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বাড়িতে অভিযানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরান ঢাকায় দাদাগিরি এবং বিভিন্ন মানুষের বাড়ি দখলসহ ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে হাজী সেলিম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ রয়েছে তার ছেলে স্থানীয় ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে। হাজী সেলিমের যে আলিশান বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে সেটির মালিক হাজী সেলিম কিনা তাও প্রশ্ন ওঠেছে। যদিও জনশ্রুতি রয়েছে, হাজী সেলিম নানাভাবে পুরান ঢাকায় শতাধিক বাড়ি, বিভিন্ন ব্যক্তির দোকান ও জমি দখল করেছেন। এলাকায় হাজী সেলিম নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য গড়ে তুছেন অস্ত্রধারী বিশাল ক্যাডার বাহিনী।

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জনপ্রতিনিধি হোক আর সে যেই হোক, কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ওই বাড়ির নিচতলায় র‌্যাব প্রেস ব্রিফিং করে। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-৩ এর সমন্বয়ে একটি টিম গতকাল দুপুরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ওয়াকিটকি ও ওয়াকিটকি বেজ স্টেশন দিয়ে ইরফান সেলিম চাঁদাবাজি ও নিজ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইরফান সেলিম ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করবে।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, রোববার রাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় সোমবার হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে ভোরে মামলাটি করেছেন। মামলায় চারজন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলো-ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন। গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে ঘটনার পরই গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার অভিযান চালিয়ে র‌্যাব হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং বডিগার্ড জাহিদকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিনজন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিফ আহমদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিল। তাকেও মারধর করা হয়। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। ওয়াসিফ আহমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, রোববার নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চারজন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলব’ এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, লেফটেনেন্ট ওয়াসিফ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নেভাল এভিয়েশনে কর্মরত। তিনি ওইখানে থেকে নেভির হেলিকপ্টার পরিচালনা করেন। নেভাল এভিয়েশনের একটি কোর্সের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা দুঃখজনক।

মামলার পর হাজী সেলিমের বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার

এদিকে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের পর হাজী সেলিমের বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বাড়িটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার সহযোগী জাহিদুল ইসলামকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমাবার সন্ধ্যায় এই কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৮টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের কোন লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।

বাপ-বেটার শাসন পুরান ঢাকায় : বাড়িতে কন্ট্রোল রুম ॥ রয়েছে টর্চার সেল

হাজী সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। কয়েক বছর ধরে তিনি ঢাকা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। এবারও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার ছোট ছেলে ইরফান সেলিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের (নিজ এলাকা) থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। হাজী সেলিম পুরান ঢাকার মাফিয়া খ্যাত। তার রয়েছে বিশাল বাহিনী। এলাকায় বিভিন্ন মানুষের বাড়ি দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি সবই হাজী সেলিমের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। অদৃশ্য কারণে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না। তার ছেলে ইরফানও বাবার মতো নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। কাউন্সিলর হলেও সংসদ সদস্যের স্টিকার যুক্ত গাড়িতে প্রায় ঘুরে বেড়ান হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। মন্ত্রীদের মতো বডিগার্ড ও অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে সব সময় চলাফেরা ইরফান সেলিমের। ক্ষমতা আর বিত্ত-বৈভরে ইরফান এলাকায় বেশ বেপরোয়া বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, হাজী সেলিমের নির্মাণ করা ২৬, দেবিদাস ঘাট লেনের নয়তলা বিশিষ্ট চাঁন সরদার-দাদা বাড়িটি ছিল একটি টর্চার সেল। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ধরে এনে এই টর্চার সেলে বন্দী করে রাখা হতো। ভবনের তিনতলায় আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমে রয়েছে আধুনিক ৩টি ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার) যন্ত্র, ৩৮টি ওয়াকিটকি, ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট বাহিনীর কাছে যেসব সরঞ্জাম থাকে, সেরকম সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাবের ধারণা। এছাড়া এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতেও এই টর্চার সেলে ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

‘কন্ট্রোল রুমের’ বিষয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, হাজী সেলিমের আট তলা ভবনের তিন ও চারতলা থেকে এসব সরঞ্জামসহ তারা অবৈধ একটি বিদেশি পিস্তল ও একনলা বন্দুক জব্দ করেছেন। কালো ৩৮টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ওয়াকিটকির প্রতিটি চার কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কাভার করতো। এ ধরনের ওয়াকিটকি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ। কর্মকর্তারা জানান, ওই বাসায় একটি ড্রোন, রাউটার, একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বা ভিপিএস পাওয়া গেছে। এই ভিপিএস দিয়ে মূলত তার পুরো নেটওয়ার্কে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ট্র্যাক করতে না পারে। সাধারণত ভিপিএস ব্যবহারের অনুমোদন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। বিটিআরসি এই অনুমোদন দেয়। তবে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এ ব্যাপারে কোন অনুমোদন নেননি।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকা এলাকা ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে হাজী সেলিমের বাসায় গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমে রয়েছে আধুনিক ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার), ৩৮টি ওয়াকিটকি, ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট বাহিনীর কাছে যেসব সরঞ্জাম থাকে, সেরকম সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাবের ধারণা। বাসা থেকে আরও উদ্ধার করা হয়েছে-৭ বোতল বিদেশি মদ ও ১২ ক্যান বিয়ার। এক জোড়া হ্যান্ডকাফও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারণা, এই হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাজী সেলিমের লোকজন র‌্যাব ও ডিবি পরিচয় দিয়ে মানুষকে ধরে নিয়ে যেতো।

এদিকে র‌্যাবের অভিযানে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাড়ির পাশে চকবাজারে আরও একটি টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। ওই চর্টার সেলে হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য হাজী সেলিম বাসায় শক্তিশালী মনিটরিং সিস্টেম রেখেছে। এর পাশাপাশি তার আরেকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। ওই আস্তানায় নানারকম সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। মূলত হাজী সেলিম তার বাহিনী এ আস্তানায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতেন। হাজী সেলিমের মুখের ওপর কারও কথা বলার সাহস ছিল না। এলাকার মানুষ নানা বিষয় নিয়ে তার কাছে বিচারের জন্য আসতেন। বিশেষ করে বাড়ি, দোকান ও জমি সংক্রান্ত বিচারের জন্য আসলে হাজী সেলিম বাহিনী বিরোধীয় জমি, বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফয়সালার নামে তালা ঝুলিয়ে দিতেন। এরপর নিজেই দখল করে নিতেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মাকাণ্ড তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। হাজী সেলিমের উত্তরসূরী হয়েই গড়ে উঠেছেন তার ছেলে ইরফান সেলিম। এবারের নির্বাচনে ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী করিয়ে আনেন হাজী সেলিম। ছেলেকেও নিজের আদলে গড়ে তুলেছেন হাজী সেলিম। এদিকে সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাজী সেলিমের মদিনা টাওয়ারেও অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই টাওয়ারে অভিযান চালায় র‌্যাব। বিভিন্ন মানুষের জমি দখল করে বিশাল টাওয়ার করেছেন হাজী সেলিম। যার নাম দেয়া হয়েছে মদিনা টাওয়ার।

মালিবাগে কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মালিবাগের একটি বাসা থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আসিফ হোসেন (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ডিএসসিসিতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ৬

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের ভিতরে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। তারা হলেন পরিচ্ছন্ন কর্মী হেদায়েত কবির (৩৫), ইউসুফ দাস (৫০), রবিলাল (৩৫), স্বপন (৩৫), হাসান (৫০) ও তার ছেলে গোলাম রাব্বানী (২৩)।

দু’বছর ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

দীর্ঘ দুই বছর ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল ৪ চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের কাহিনী। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ চিকিৎসক মিলে অপারেশন করে রোগী রওশন আরার শরীর থেকে ভালো কিডনি ফেলে দিয়েছিল।

sangbad ad

বিনামূল্যে মাস্ক বিতরন র্কমসূচী

বিনোদন প্রতিবেদক

image

করোনাকালীন দুঃসময়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে সাধারণ মানুষের মাঝে

ঢাকায় ৪ জঙ্গি গ্রেফতার

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে র‌্যাবের অভিযান

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে করোনা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) র‌্যাবের চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে কর্মবিরতি, কালো ব্যাজ ধারণ

প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

image

তিনদিনের কর্মবিরতি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সোনারগাঁ

সংবাদ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের মৃত্যুতে সোনারগাঁয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের শোক

প্রতিনিধি, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

image

অসাম্প্রদায়িক চেতনার দৈনিক ‘সংবাদ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রাজনৈতিক

রাজধানীতে হিযবুত তাহরীরের সদস্য গ্রেপ্তার

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে হিযবুত তাহরীরের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের