• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১

 

ঢাবি শিক্ষকের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি

শাস্তির বদলে অধ্যাপক বানানোর পায়তারা

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি
image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ সুখবর না হলেও বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের সংবাদের হার বেড়েছে। সম্প্রতি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অবনমন হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানের। শাস্তির আওতায় এসেছেন অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানও। তবে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক লীনা তাপসী খানের (মুহসীনা আক্তার খানম) বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। উল্টো তাকে বিভাগের অধ্যাপক করার পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন দ্বিমুখী আচরণে অবাক সবাই। ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সুসম্পর্কের কারণেই কি লীনা তাপসী খান পার পেয়ে যাচ্ছেন, প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নজরুল গবেষকদের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে তিনি হুবহু কপি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু কোন প্রকার গ্রন্থ-ঋণ স্বীকার করেননি। নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লীনা তাপসী খানের ‘নজরুল-সঙ্গীত রাগের ব্যবহার’ শীর্ষক একটি পিএইচডি গবেষণা গ্রন্থ আকারে বের হয়। তবে, গ্রন্থের বিষয় নজরুল সংগীতে রাগের ব্যবহার হলেও সুরে রাগ ব্যবহারের বিশ্লেষণ নেই। এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খান। ২৭৮ পৃষ্ঠার এই বইয়ের অর্ধেকের বেশিই অন্য বই থেকে নেয়া। শুধু তাই নয়, এই বইয়ের নবসৃষ্ট তাল সম্পর্কিত আলোচনায় পূর্ব ধারণা না থাকায় ভুল তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লীনা তাপসী খানের গবেষণা চুরির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট বৈঠকে উঠতে পারে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘নজরুল-সঙ্গীত রাগের ব্যবহার’ শীর্ষক গবেষণাটি মোট ১৫টি অধ্যায়ের প্রথম অধ্যায়ে নজরুল-সঙ্গীতের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে লীনা তাপসী নজরুল-সঙ্গীতকে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন বিষয়ভিত্তিক ও আঙ্গিকগত এই দুটি মূল সূত্রের ভিত্তিতে। যেখানে তিনি কাজী নজরুলের গানকে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে মিশ্র নীতি অনুসরণ করেন। যেমন- দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে যথাক্রমে নজরুলের ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি ও গজল অঙ্গর গানে রাগের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে অষ্টম ও নবম অধ্যায়ে নজরুলের দেশাত্মবোধক ও ইসলামি গানে রাগের ব্যবহার সম্পর্ক আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

লীনা তাপসী খান দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী’ গানটির উল্লেখ করে রাগটি নজরুল-সৃষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ১১)। প্রকৃতপক্ষে কাজী নজরুল ইসলামের এই গানটি বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশেষ প্রচলিত একটি রাগের নাম ‘নিশাশাখ’ বা ‘নিশাশাগ’। এ রাগের ওপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গান রচনা করেছেন। নজরুল রচিত নিশাশাখ রাগের গানটি ‘জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল’ হলেও রাগটি নজরুল-সৃষ্ট নয়। তিনি তৃতীয় অধ্যায়ে ‘নজরুলের মূল গান ও ভাঙা গান’ শিরোনামে একটি তালিকা দিয়েছেন। এ তালিকার দ্বিতীয় ক্রমিকে নজরুলের ভাঙা গান হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘এ কি তদ্রা বিজড়িত আঁখি’ গানটি। প্রকৃতপক্ষে গানটি নজরুল রচিত নয়, এর রচয়িতা হলেন তুলসী লাহিড়ী (ব্রহ্মমোহন ঠাকুর সম্পাদিত ‘নজরুল-গীতি-’, হরফ প্রকাশনী, কলকাতা ২০০৪, ভূমিকা পৃষ্ঠা ৩০-৩১)। চতুর্থ অধ্যায়ে নজরুলের ঠুমরি অঙ্গের তালিকায় গড় মল্লার রাগের ‘ফিরে নাহি এলো প্রিয়’ শীর্ষক গানটির উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ৪৫)। প্রকৃতপক্ষে গানটি নজরুল রচিত খেয়ালের একটি অপূর্ব সৃষ্টি।

এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের অনুমোদন না দিয়ে সেই পান্ডুলিপির তথ্য ব্যবহার করে নিজের নামে বই প্রকাশের অভিযোগ আছে লীনা তাপসীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী খোদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আলাপচারিতায় তিনি জানান, ২০১৪ সালের মে মাসে তার ‘সংগীত গবেষক নজরুল-প্রথম পর্ব’ গ্রন্থটি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির ‘নজরুল সৃষ্ট রাগ ও বন্দিশ’ অংশটি এর আগেই ২০০০ সালের জুলাই মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংস্করনের অষ্টম খন্ডের পরিশিষ্ট অংশে তা স্থান লাভ করে। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম খান তাকে বন্দিশের পরিবর্তে বাংলা রাগ প্রধান যুক্ত করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তিনি নব তাল সংযোজন করে প্রকাশের জন্য নজরুল ইনস্টিটিউটে জমা দেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, এ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য দুইজন লেখকের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। তার পান্ডুলিপি যাচাইয়ের দায়িত্ব পান বিশিষ্ট নজরুল গবেষক প্রয়াত সুধীন দাশ ও অভিযুক্ত লীনা তাপসী খান। ২০১০ সালে তিনি এই পা-ুলিপি জমা দেন। তবে, সুধীন দাশ অনুমোদন দিলেও লীনা তাপসী অনুমোদন দিতে নয়ছয় শুরু করেন। বিষয়টি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম খান জানার পর লীনাকে দ্রুত পা-ুলিপি যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে বলেন। অবশেষে তিন বছর পর লীনা তাপসী সেই পা-ুলিপি অনুমোদন করেন। ২০১৪ সালে বইটি প্রকাশ পায়। তবে, এর মাঝেই ২০১১ সালে লীনা তাপসী খান সেই পান্ডুলিপি থেকে তথ্য নিয়ে ভিন্ন নাম দিয়ে আরেকটি বই প্রকাশ করেন। শ্যামাপ্রসাদ বলেন, লীনা তাপসী খানের বইটিতে নবসৃষ্ট তাল সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় লীনার বইয়ে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমার পূর্বে আর কেউ আলোচনা করে নি।

লীনা তাপসী খানের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগকারী বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় গবেষণায় চৌর্যবৃত্তিতে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। সঙ্গীতের একজন শিক্ষক হিসেবে এটা আমার জন্য বেদনাদায়ক। এখন পর্যন্ত লীনা তাপসী খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় আমি হতাশ। আমি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সত্য ও ন্যায়ের পথে হাঁটবে।

এসব বিষয়ে যারাই খোঁজ নিতে গেছেন, তারাই লীনা তাপসী খানের তোপের মুখে পড়েছেন। ক্যাম্পাসে কর্মরত এক সাংবাদিকদের বেলায়ও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন লীনা তাপসী খান। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সংবাদে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক লীনা তাপসী খান বলেন, এসব অভিযোগ নিতান্তই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হচ্ছে। যদি আমার গবেষণায় অসাধু উপায় অবলম্বন করেই করে থাকতাম তাহলে এতদিন কেন কেউ কথা বলেনি। তিনি আরও বলেন, কেউ যখন বুঝতে পেরেছে যে আমার পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখনই তারা ষড়যন্ত্র করে আমার পেছনে উঠে-পড়ে লেগেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান একুশের কর্মসূচির ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। সম্প্রতি তিনি একজন সাংবাদিককে এ বিষয়ে বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, তার কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৭ই মার্চ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

image

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসােসিয়েশন এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর সকল জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে : ঢাবি উপাচার্য

প্রতিনিধি, ঢাবি

image

আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিককতা এবং তাৎপর্য এ দুটি কারণে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ

সাত কলেজের হল খোলার দাবিতে নীলক্ষেতে সমাবেশ

প্রতিনিধি, ঢাবি

image

ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের হল ও ক্যাম্পাস অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবিতে সমাবেশ করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

sangbad ad

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর মিয়ানমারের চেয়েও বেশি নিরাপদ : ঢাবি উপ-উপাচার্য

image

‘সামাজিক, শারীরিক ও অবকাঠামোগতসহ সকল দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর তাদের নিজেদের দেশের থেকেও নিরাপদ

ঈদের পর ভর্তি পরীক্ষার দাবি মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের

প্রতিনিধি, ঢাবি

image

সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরিক্ষা তারিখ পরিবর্তন

ঢাবি অধ্যাপিকা সাদেকা হালিমের গবেষণা চুরি তদন্তের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

প্রতিনিধি, ঢাবি

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গবেষণা চুরির অভিযোগ ওঠায়

মাইগ্রেশনের দাবিতে সিভিল সার্জেন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক রংপুর

image

রংপুর নগরীর ধাপ বুড়িরহাট রোডে অবস্থিত অনুমোদন বিহিন নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজ

আত্মত্যাগের মধ্যেই হলো একজন মানুষের জীবনের স্বার্থকতা : ড. হারুন-অর-রশিদ

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

তিনি বলেন, শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর নেই। প্রকৃত শিক্ষকদের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স লাগে না। সম্মান দেয় না, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করতে হয়। আত্মত্যাগের মধ্যেই হলো একজন মানুষের জীবনের স্বার্থকতা।

লিডিং ইউনিভার্সিটির নবনিযুক্ত উপাচার্যের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী আজিজুল মাওলা। সোমবার (১ মার্চ ২০২১) সকাল ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি কাজে যোগদান করেন।