• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

 

গত অর্থবছরে ৬৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি কমেছে

নিউজ আপলোড : ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক খাত। এই খাত থেকে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে। কিন্তু করোনা বিপর্যয়ের কারণে এই খাতে বড় ধসের মুখে রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হওয়ায় চাহিদা কমেছে। তীব্র সংকটে পড়ে ব্যবসা গোটাচ্ছে তাদের বড় ব্র্যান্ডগুলো। অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। এ সংকটে পড়ে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে পোশাকপণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে ৬৩০ কোটি ডলারের। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজিএমইএ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের চেয়ে সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬৩০ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য রপ্তানি কমেছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পণ্য বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্যে পণ্য রপ্তানি এবং বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজে করার জন্য উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা হলে এবং প্রণোদনা দেয়া হলে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। অন্যদিকে চীনের দখলে থাকা বাজারের ২ শতাংশও যদি আয়ত্তে নেয়া যায়, তাহলে এ দেশের উদ্যোক্তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

এই প্রসঙ্গে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও ডেনিম এক্সপোর্টের পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সংবাদকে বলেন, ‘করোনায় আমাদের পোশাক রপ্তানি একেবারে তলানিতে নেমে গিয়েছিল। এখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গত মাসে যে পরিমান পোশাক রপ্তানি হয়েছে চলতি মাসে বেশি হবে বলে আশা করছি। আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’

বিজিএমইএ সূত্রে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানির চেয়ে চীনে পণ্য রপ্তানির সময় বা লিড টাইম প্রায় অর্ধেক। এ ছাড়া কোট ও স্যুটে বাংলাদেশের পণ্য জাহাজীকরণ করতে খরচ কম। পোশাক খাতের মৌলিক পণ্য জাহাজীকরণ বা এফওবি করে আমাদের আয় ১০ থেকে ১৫ ডলার। অথচ স্যুট- কোট পাঠালে আয় হবে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে চীন বাণিজ্য আরও উদার করেছে, ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে পোশাক খাত। এ জন্য বাণিজ্যিক-কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ২৭৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক মে মাসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ এবং এপ্রিল মাসের চেয়ে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি। গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৭ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্য ছিল ৩৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছিল ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে এ খাতে আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের চেয়ে আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আনা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতে ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল। এরপর শুরু হয় ক্রয়াদেশ বাতিলের হিড়িক। মার্চ মাসে এসে রাপ্তানির অঙ্কে ধস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই মাসে ২২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা আগের বছরের মার্চের চেয়ে ২০ শতাংশ কম ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) মধ্যে সেটিই ছিল বড় ধাক্কা।

ইপিবি’র তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৮৫ শতাংশ। মে মাসে কমে ৬১ শতাংশ। আর সর্বশেষ জুনে কমেছে ২৫ শতাংশ। জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ২৭১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য। লক্ষ্য ছিল ৩৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২৭৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এপ্রিল মাসের পুরোটা সময় পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ ছিল। বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিও ছিল খুব খারাপ। সে কারণে এপ্রিলে রপ্তানি তলানিতে নেমে এসেছিল।

এদিকে পোশাক খাতের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, চলতি মাসের কিছু ক্রয়াদেশ তার কারখানায় রয়েছে। কিন্তু আগস্ট থেকে পরবর্তী মাসগুলোর রপ্তানি আদেশ নেই বললেই চলে। সেপ্টেম্বর থেকে মূলত পরবর্তী গ্রীষ্মের রপ্তানির পণ্য তারা তৈরি করেন। এসব ক্রয়াদেশ নিয়ে মূলত এই সময়টিতে আলোচনা হয়। কিন্তু এবার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানির অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে আশঙ্কা করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত পর্যটকের স্বাভাবিক চলাচল শুরু না হবে, ততদিন পোশাক জাতীয় পণ্য তেমন বিক্রি হবে না। ফলে আমাদের রপ্তানি আদেশও কমতির দিকেই থাকবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা বলছে, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বে পোশাকের চাহিদা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাবে। এই সংকটেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করেছে। এই অঙ্ক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ৭ শতাংশ। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-মার্চ পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ২৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল।

মহামারীকালে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। বাকি অন্য সব খাতেই কমেছে। চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৮২ লাখ (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করে। তাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল ৪ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪ হাজার ৫৫০ কোটি (৪৫.৫০ বিলিয়ন) ডলার।

প্রাইজবন্ডের ১০০তম ড্র, প্রথম পুরস্কার ০৯০৭৪৮৫

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের সর্ব?শেষ ১০০তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ীর নম্বর ০৯০৭৪৮৫

মাইক্রোসফটের টিকটক কেনা থমকে গেছে

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

টিকটকে কিনতে কথাবার্তা চালাচ্ছিল মাইক্রোসফট। তবে এখন তা থমকে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সিলেটে গরুর চামড়া ২০ টাকা, ছাগলের চামড়া ফ্রি

প্রতিনিধি, সিলেট

image

সিলেটে কােরবানিতে জবাইকৃত একটি গরুর চামড়া ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে! আর

sangbad ad

রিলায়েন্স-জেরার বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬৪ কোটি ডলারের ঋণ

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

দেশে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ভারত ও জাপানের যৌথ মালিকানার একটি কোম্পানি ৬৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের ঋণচুক্তি করেছে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে।

চামড়া সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কন্ট্রোল সেল গঠন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

গত বছর কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু তা মানেনি অনেক ব্যবসায়ী। তাই গত বছর কোরবানির

পার্বত্য অঞ্চলে কৃষিঋণ দিতে বিশেষ নির্দেশনা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় সাধারণ কৃষক ও জুমচাষিদের সহজে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং প্রণোদনা সুবিধার

আইপিডিসির অর্ধ-বার্ষিক ইনভেস্টরস মিট অনুষ্ঠিত

image

বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স আয়োজন করলো প্রতিষ্ঠানটির অর্ধবার্ষিক ইনভেস্টরস মিট যেখানে আইপিডিসি-র আর্থিক

১৭ বছর পর কমল ব্যাংক রেট

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

করোনা সঙ্কটে অর্থের জোগান বাড়াতে প্রায় ১৭ বছর পর ব্যাংক রেট কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের জন্য সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা