• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

 

করোনাকালের মানবিক বাজেট চাই

নিউজ আপলোড : ঢাকা , রোববার, ৩১ মে ২০২০

সংবাদ :
  • মো. কামরুজ্জামান
image

মো. কামরুজ্জামান, ব্যাংকার

সব কিছু ঠিক থাকলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী ১১ জুন ২০২০ আগামি অর্থবছরের জন্য দেশের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করতে যাচ্ছেন। সাধারণত প্রতি বছর মার্চ মাস থেকেই শুরু হয়ে যায় পরবর্তী বছরের বাজেট নিয়ে সরব আলোচনা। তবে এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন।

কভিড-১৯ এর কারণে দেশের বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে প্রাক-বাজেট নিয়ে আলোচনার তেমন সুযোগ ছিলনা। তাই বলা যায়, এক ধরনের উত্তাপহীন পরিবেশে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ সালের বাজেট প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সঙ্গত কিছু কারণে এ বছরের বাজেট নির্মাণে মন্ত্রী মহোদয়কে কঠিন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কারণ, এমনিতেই বেশ কিছু মাস ধরে সংকটে আছে দেশের অর্থনীতি। তার উপর করোনার দীর্ঘমেয়াদি ভয়াল থাবা দেশের অর্থনীতিকে এক ধরনের স্থবিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশিষ্টজনেরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে দেশে দেশে মন্দা, এমনকি মহামন্দাও নেমে আসতে পারে। পৃথিবীর শক্তপোক্ত অর্থনীতির দেশগুলোর কপালেও তাই চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।

বলা হচ্ছে, অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি কেবল কমেই যাবেনা ঋণাত্মকও হতে পারে। সব মিলে আমাদের মতো ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বাজেট প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন যে বিরাট চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

এরকম একটা সম্ভাব্য বিরূপ বিশ্বচিত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের চাপ আসতে পারে তার একটা সম্যক ধারনা বাজেট রচনার আগেই মাথায় থাকা দরকার। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর সম্ভাব্য গতি-প্রকৃতি নিয়ে আগে থেকেই একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোনা না করলে বাজেট ব্যর্থ হতে পারে। কারণ, চলমান পরিস্থিতিতে, জাতীয় সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ যেমন কমে যেতে পারে, তেমনি আয়-স্তর কমে যাওয়ায় সামগ্রীক চাহিদায় ভাটা পড়ে নতুন সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।

বলে রাখা দরকার, আমাদের জাতীয় বাজেটে অর্থের সংস্থান হয় মূলত দুটি উপায়ে- একটি সরকারের রাজস্ব আয় এবং অনুদান, যা মোট বাজেট আয়ের ৭২ শতাংশ আর অন্যটি ধার-দেনা ও সাহায্য, যা মোট বাজেটের ২৮ শতাংশ (বাজেট : ২০১৯-২০)। এই ২৮ শতাংশই আমাদের ঘাটতি বাজেট, যা গত বছর ছিল জিডিপির ৫ শতাংশের মত। উল্লেখ্য, নব্বয়ের দশকে বাজেট করার জন্য দেশীয় উৎস থেকে (অভ্যন্তরীণ ঋণসহ) আমাদের আয় করার সক্ষমতা ছিল ৪০-৪৫ শতাংশের মত, যা এখন প্রায় ৮৮ শতাংশ (বাজেট : ২০১৯-২০)। সুতরাং এই হিসেবে বলা যায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল, আমাদের ঘাটতি বাজেটের প্রায় পুরোটাই ঋণ নিয়ে মেটানো হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ এবং ৫৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বন্ড বিক্রি (বাজেট : ২০১৯-২০)। এই বিশাল ঋণের চাপ এসে পড়ে আমাদের জাতীয় সম্পদের উপর, যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

আমাদের অর্থনীতি যে চাপে চলছে তার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক। গত ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত), রাজস্ব আদায় হয়েছে সংশোধিত বাজেটের মাত্র ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্ব বাজেটে আবারও সংশোধনের দরকার হবে, যার প্রধান শিকার হবে উন্নয়ন বাজেট।

দ্বিতীয়ত, চলতি অর্থবছেের রপ্তানি আয়ে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয়ে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি না থাকায় সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হচ্ছে।

তৃতীয়ত, করোনাকাল এবং করোনা পরবর্তিকালে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আমরা কেউ জানিনা। আমাদের রপ্তানি খাতকে (বিশেষ করে তৈরি পাশাক শিল্প) ঠিক রাখতে না পারলে রাজস্ব আয়ে যে ধাক্কাটা পড়বে তা সামলানো সরকারের জন্য মুশকিল হবে।

চতুর্থত, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে অবস্থা, তাতে বছর শেষে অনেকেই মুনাফা গুনতে পারবে কি না সন্দেহ আছে। একই অবস্থা হবে অধিকাংশ শিল্পখাতের, যারা দীর্ঘ লকড-ডাউনে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়বে। অর্থাৎ এ বছরের মত সামনের বছরেও রাজস্ব আয়ে তেমন ভাল খবর নেই। অন্যদিকে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে আগের মত সরকারকে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছি। রইল পড়ে বৈদেশিক ঋণ বা ধার-দেনা। দাতা সংস্থাগুলো পৃথিবীর ক্ষয়ে-যাওয়া অর্থনীতি পুণরুদ্ধারে কতটা ভূমিকা রাখবে তা বলা কঠিন।

এবারে বাজেটে ব্যয়ের দিকটায় একটু চোখ বুলিয়ে নেই। স্বাভাবিকভাবেই এখানে চাপটা আরো বেশি। গরীব মানুষের সংখ্যা ভয়ানকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য সামাজিক-সুরক্ষার আওতা বাড়াতে হবে। অনুদান, প্রণোদনা, কাবিখা, কাবিটা- এসব খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে বহুগুণ।

স্বাস্থ্য খাতের দিকে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বেশি নজর দিতে হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, একটা বড় জনগোষ্ঠি করোনা-উত্তরকালে বেকার হয়ে পড়বে। এদের কিভাবে কাজ দেওয়া যায় সে ব্যবস্থাটিও সরকারকে খুঁজে দেখতে হবে। তবে সার্বিক বিবেচনায়, এবারের বাজেটের অগ্রাধিকার খাত হওয়া উচিত কৃষি। বর্তমান বাস্তবতায় তথা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে কৃষিকে আধুনিকায়ন করে গ্রামভিত্তিক সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। অর্থাৎ সব মিলে উন্নয়ন বাজেটে, যা আগের বছরে ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, এ বছরে একটা বড় রকম উল্লফন দরকার হবে। সরকারকে উন্নয়ন বাজেটের কাঠামোগত দিকটিও সংস্কারের দরকার হয়ে পড়বে। হতে পারে কিছু মেগা প্রকল্প এবং কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প স্থগিত রেখে মানুষের অনাহার কিংবা সম্ভাব্য দূর্ভিক্ষ মোকাবেলায় তহবিল গঠন করতে হবে। অন্যদিকে, অনুন্নয়ন বাজেট তথা রাজস্ব ব্যয় বা সরকার পরিচালনার ব্যয়ে কমাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনে পরিচালন-দক্ষতার উন্নতি ঘটানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে বাজেট-বরাদ্দের চেয়ে বাজেট-বাস্তবায়ন সব সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। লক্ষণীয় হল, উন্নয়ন বাজেটের পুরো টাকা কোনো বছরই আমরা খরচ করতে পারিনা। চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে সংশোধিত এডিপির মাত্র ৪৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়াও, প্রকল্প ব্যয়ে দূর্নীতি বা অদক্ষতার জন্য বাজেটের লক্ষ্য অর্জিত হয় খুব সামান্যই। তাই কেবল পরিমাণগত দিক নয়, বাজেটের বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়ন অবধি গুণগত দিকটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে, এটা মনে রাখা দরকার যে, বাজেট মানে কেবল কিছু বরাদ্দ নয়, বাজেট একটা বিজ্ঞান; একটা অর্থনৈতিক শিল্পকর্ম। বাজেট একটি জাতির স্বপ্ন ও উন্নয়ন-দর্শনের প্রছন্ন প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের জাতীয় বাজেটে যেমন ধনিক শ্রেণির কথা থাকা উচিত, তেমনি থাকা উচিত শ্রমিক শ্রেণির কথা। এখানে কৃষকের মাঠ থেকে ফসলের হাট, নৌকার নদী থেকে ক্ষমতার গদি সব কিছুরই আলপনা আঁকা থাকে। দুর্ভাগ্য, আমরা সেরকম বাজেট দেখিনা, যেখানে প্রান্তিক মানুষের কথা বিবৃত থাকে। আমরা বরং সেরকম বাজেটই দেখি, যেখানে বিত্তবান আর ক্ষমতাবানদের মধ্যে এক ধরনের দৃঢ় অথচ পংকিল বুনিয়াদি বন্ধন তৈরির কুটকৌশল থাকে।

এবারের প্রাক-বাজেট আলোচোনা তেমন করে না হওয়ায় অর্থমন্ত্রীর হাতে গণমানুষের আকাঙ্খা ও আশাবাদের ছবিটি হয়তো নেই। সাধারণ বা ছোট ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা হয়তো তেমন করে তাঁর শোনা হয়নি। তবে আশা করব, তিনি বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জলো মাথায় রেখেই একটি দক্ষ ও কল্যাণমূখী বাজেট দিবেন, যে বাজেটে মালিকের কথা যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে শ্রমিকের কথা। আমাদের প্রত্যাশা, এবারের বাজেট হোক মানবিক বাজেট, যেখানে লেখা থাকবে গণমানুষের সুখ-স্বপ্নের কথামালা।

লেখক : মো. কামরুজ্জামান, ব্যাংকার

e-mail: kzamanabbl@gmail.com

পাঁচ কোটি টাকায় ট্রেক বিক্রির সিদ্ধান্ত ডিএসই’র

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

পাঁচ কোটি টাকায় ট্রেক বা শেয়ারবাজারে লেনদেন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। মাত্র ৬ লাখ টাকা দিয়েই ট্রেকের

পোশাক শ্রমিকদের কাজে যোগ না দেয়ার অভিযোগ মালিকপক্ষের

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষে নারায়ণগঞ্জে রপ্তানিমুখী বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা চালু হলেও

বিপিও শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাইম ব্যাংক ও বাক্কোর সমঝোতা স্মারক সাক্ষর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) করোনাভাইরাস

sangbad ad

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে নীতিমালা সহজীকরণসহ বিশেষ সুবিধা

শেয়ারবাজারে বড় উত্থান সূচক-লেনদেন উভয় বেড়েছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

বুধবার (৮ জুলাই) বড় উত্থানে শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স...

জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং ঋণ আমানত রেমিট্যান্স বাড়ছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

দেশে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এজেন্ট ব্যাংকিং। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এজেন্ট আউটলেট খোলা হচ্ছে এবং এই সব এজেন্ট আউটলেটে গ্রাহকের

১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলেই নগদ সহায়তা নেয়া যাবে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে যাদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খোলা সম্ভব নয়, তারা ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলেও সরকারের নগদ অর্থ সহায়তা নিতে পারবে। ব্যাংকগুলো ১০ টাকায় আমানতসংবলিত হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করতে পারবে। এর আগে শুধু বিকাশ, রকেট, নগদ ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ ছিল। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে ৬৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি কমেছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক খাত। এই খাত থেকে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে। কিন্তু করোনা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে পতন

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

গত বৃহস্পতিবারের মতো রোববারও পতনে শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। এদিন উভয় শেয়ারবাজারের সব সূচক কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন।

sangbad ad