• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

 

ফিরে দেখা একাত্তর

সেদিনের বিজয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না

নিউজ আপলোড : ঢাকা , বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

সংবাদ :
  • সফিউল আহমেদ বাবুল

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর, কুমিল্লা মুক্তদিবসে যে কয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহরে বীরবেশে প্রবেশ করেছিলেন তাদের অন্যতম একজন সদস্য হলেন কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল। তিনি জানান, ওইদিন বিজয়ের উল্লাসে উল্লাসিত হাজার হাজার কুমিল্লাবাসী রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুলের মালা এমনকি টাকার মালা দিয়ে জড়িয়ে ধরে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানাতে লাগলো আমাদের। সে এক অভাবনীয় অকল্পনীয় দৃশ্য, যার অনুভূতি সহজে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না কখনই। সে সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সবার মধ্যে, আনন্দে চোখ ছলছল করছিল উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষের।

১৯৭১ সালের মার্চ মাস। তখন সবেমাত্র কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার থেকে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। ওই সময় ছাত্র রাজনীতির সাঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম। থাকতাম পরিবারের সবার সঙ্গে বাবার কর্মস্থল কুমিল্লা শহরের টমছমব্রিজ এলাকার ভেটেরিনারী অফিস কম্পাউন্ডের ভেতরের একটি আবাসিক ভবনে। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে আমার বড় ভাই রেজাউল আহমেদ রেজাসহ পরিবারের সবাই ছিলাম ওই বাসাতেই। ওইদিন রাতে স্বচক্ষে কুমিল্লায় গণহত্যা দেখে ২৭ মার্চ সকালে রেজা ভাই ওনার বন্ধু সিরাজ ভাই, সেলিম ভাইসহ অন্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে প্রশিক্ষণের জন্য কারফিউর ফাঁকে ফাঁকে কুমিল্লা ছেড়ে চলে যান বর্ডার পেড়িয়ে ভারতের আগরতলার সোনামুড়ায় এলাকায়। যুদ্ধকালীন তিনি ক্যাপ্টেন রেজা নামে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। এর আগে ২৬ মার্চ ভোরে আমাদের বাসার পাশে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পের সব আনসারকে গুলি করে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়, পাকিস্তানিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার পাগলও। এমনকি প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষজন এবং মসজিদের মুসল্লিরা। পরে ১ এপ্রিল আমি, বন্ধু কামাল এবং তার বড় বোন কুমিল্লা মহিলা কলেজের ছাত্রনেত্রী মঞ্জু আপাসহ (সেলিনা হক) যুদ্ধে অংশ নিতে চৌদ্দগ্রাম বর্ডার পেড়িয়ে রাধানগর গ্রাম হয়ে সোনামুড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যাই। সেখানে আগে থেকেই রেজা ভাই অবস্থান করছিলেন। আর এই পুরো এরিয়াটিই ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ। পরবর্তীতে তিনি মেজর জেনারেল এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। পরে সেখান থেকে ১১০ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ আমাকে ভারতের ত্রিপুরার কাঁঠালিয়াতে অস্ত্র চালানো এবং যুদ্ধবিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান ক্যাপ্টেন রেজা। সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা ফিরে আসি ভারতের ধনপুর ক্যাম্পে। আমাদের পুরো গ্রুপটার দায়িত্ব দেয়া হয় ক্যাপ্টেন আকবর হোসেনকে (পরবর্তীতে কর্নেল ও মন্ত্রী এবং বীর প্রতিকে ভূষিত)। এই ধনপুর ক্যাম্পটি ছিল নির্ভয়পুরে অবস্থিত ২নং সাব সেক্টরের অধীনে এবং সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে লে. কর্নেল এবং বীর উত্তমে ভূষিত) মাহবুবুর রহমান। কিছুদিন পর ক্যাপ্টেন আকবর হোসেন বদলি হয়ে গেলে ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) ফজলুল কবিরকে আমাদের অধিনায়ক করা হয়। আমাদের এই গ্রুপ থেকে আমিসহ ৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘অ্যান্টি পারসোনাল মাইন’-এর ওপর একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী, যা আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফিট করে সফল বিস্ফোরণ ঘটাই বিভিন্ন অপারেশনে।

প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে ৯ মে থেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ধনপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) কবির এই অপারেশনের সম্পূর্ণ দায়িত্বটা আমার মতো ১৮ বছরের বালকের কাঁধে তুলে দিয়েছিলেন অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে। ১৩ আগস্ট গভীর রাতে কুমিল্লার শাহপুর নামক স্থানে এসে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান মিলিটারি ক্যাম্পের ঠিক বিপরীত পাশে গোমতী নদীর বিশাল বাঁধের ওপর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সারিবদ্ধভাবে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অ্যাম্বুশ করলাম ১শ’ জন প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে। পরদিন ভোরে পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে বের হয়ে আসা ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন জুবায়েরসহ ১৭ জন পাকিস্তানি সৈনিক, সঙ্গে দু’জন মহিলা এবং তাদের পোষা কয়েকটি কুকুরের দেহ ঝাঁজরা হয়ে যায় আমাদের বিভিন্ন ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে। এ ঘটনাটি তখন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়েও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শুধু তাই নয়- অপারেশন শেষে ফেরার পথে ওই এলাকার ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধিনায়ক কর্নেল উপেন্দ্র পাল সিং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওনার ক্যাম্পে আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছিলেন, আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন অতি আনন্দে এবং ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন আমাদের এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য। অনেক প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিতে হয়েছে আমাদের। অনেক অপারেশনে আমরা সফলতা পেয়েছি, আবার ব্যর্থও হয়েছি অনেকটিতে। এমনকি হাতেনাতে কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরিতে অস্ত্রসহ আমি আর সেলিম ভাই ধরা পড়ার পরও আল্লাহতায়ালা আমাদের রক্ষা করেছিলেন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে।

২১ নভেম্বর। যৌথবাহিনী (মুক্তিবাহিনী এবং মিত্রবাহিনী) সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঝাঁপিয়ে পড়ে সাড়া দেশব্যাপী চারিদিক থেকে পাক হানাদার বাহিনীর ওপর। স্থল, নৌ, বিমান ও বিভিন্নমুখী আক্রমণে পাকবাহিনী দিশেহারা হয়ে পিছু হটতে থাকে। আর আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি পা পা করে। ৬ ডিসেম্বর আমাদের ২শ’ জনের টিমটি ৩ ভাগ হয়ে একভাগ ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে চলে যায় ভারতীয় গুরখা ব্যাটালিয়নের সঙ্গে চৌদ্দগ্রাম, মিয়ার বাজার, সুয়াগাজী হয়ে লাকসামের দিকে শত্রুমুক্ত করতে। আর আমাদের গ্রুপটি ৭ ডিসেম্বর শেষ রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন শর্মার বাহিনীর সঙ্গে নির্ভরপুর থেকে সোনামুড়া হয়ে রওনা হলাম কুমিল্লা শহরের উদ্দেশে। ভারতের ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনস্থ ৬১ ব্রিগেড এবং আমাদের ৯ বেঙ্গল ওইদিন সারারাত যুদ্ধ করে কুমিল্লা শহরকে শত্রুমুক্ত করে সম্পূর্ণভাবে। ওই সময় ক্যাপ্টেন শর্মা ছিলেন তার আর্মি জিপে আর আমরা ছিলাম অন্য একটা গাড়িতে। ক্যাপ্টেন শর্মা আমাদের (আমি, শাহ আলম, রেজাউর রহমান বুলবুল) তার জিপে উঠিয়ে নিলেন। আমরা ছাড়াও তার সঙ্গে ছিল ড্রাইভার আর একজন ইন্ডিয়ান সৈনিক। আমরা ৬ জন ওনার জিপে করে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা শহরের চকবাজার পৌঁছি। তখন বিজয়ের উল্লাসে উল্লাসিত হাজার হাজার কুমিল্লাবাসী রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুলের মালা ও টাকার মালা দিয়ে জড়িয়ে ধরে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানাতে লাগলো আমাদের। সে এক অভাবনীয় অকল্পনীয় দৃশ্য, যার অনুভূতি সহজে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না কখনওই। এই বিশাল জনতার স্রোত ঠেলে ঠেলে আমরা উপস্থিত হলাম বাল্যবন্ধু রফিকের বাসায়। সেখানে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মজাদার খাবার খেলাম পেট পুরে। তারপর বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা শহরের জনসাধারণ, সিভিল প্রশাসন, সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, মিত্র বাহিনী এবং ৯ বেঙ্গল-এর অধিনায়ক মেজর (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল এবং বীর প্রতীকে ভূষিত) আইনুদ্দিন সাহেবের উপস্থিতিতে তৎকালীন পশ্চিম পূর্বাঞ্চলের প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী দলীয় পতাকা এবং কুমিল্লার প্রথম প্রশাসক অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে। মুক্ত হয় কুমিল্লা। এ যে কতো বড় আনন্দ এবং পাওয়া তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না কখনই।

উৎসবের পরিবেশেও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা

নিরুপম দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম

image

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে ২৫ জানুয়ারি সোমবার ছিল শেষ দিনের প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে হত্যা, আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

যৌতুকের দাবিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণে জোলাই কুড়িয়াপাড়ায় রোকসানা আক্তার লিজা (২১) নামের এক সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিখোঁজের ৬ মাস পর ছাত্রদল নেতা টিটু হায়দার গ্রেফতার

প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সাবেক ছাত্রদল নেতা টিটু হায়দারকে গ্রেফতার

sangbad ad

মুন্সীগঞ্জে ৫০৮ টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর

প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জ ৬টি উপজেলায় ৫০৮ টি ঘর প্রদান করা হয়েছে , ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স

মহেশখালীতে গ্যাস ভর্তি বেলুন বিক্রি নিষিদ্ধ

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হাইড্রোজেন গ্যাস ভর্তি বেলুন বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর

ত্রিভূজ প্রেমের হত্যাকাণ্ডে জারিমানাসহ প্রেমিক-প্রেমিকার মৃত্যুদণ্ড

জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

image

ভৈরবে ত্রিভূজ প্রেমের জেরে নবী হোসেন (৩৫) নামে এক প্রেমিক খুন হওয়ার ঘটনায় আদালতে অপর প্রেমিক ও প্রেমিকার ফাঁসি এবং দুই

পূর্বধলায় নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রতিনিধি, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)

image

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রওশন আরা (৩৮) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পূর্বধলা থানার পুলিশ। সে উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের জারিয়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের স্ত্রী।

হিলিতে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

দিনাজপুরের হিলিতে পিকআপের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বোয়ালদাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সিলেটে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

image

সিলেটে ইয়াবার চালানসহ জুয়েল আহমদ (৩১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।