• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

 

রোহিঙ্গা হত্যার বিচার করবে আইসিসি

যাদের নির্দেশে হত্যাকান্ড, তাদের ১৩ জনকে চিহ্নিত

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ঢল -ফাইল ছবি

রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে মায়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের এখতিয়ার পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এর ফলে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ১৩ জন মায়ানমার সেনা ও বিজিপি কর্মকর্তার বিচার করতে পারবে আইসিসি। এই অপরাধের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে বলেও জানায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

গত ২৭ জুন ‘মায়ানমার : উই উইল ডেস্ট্রয় এভরিথিং’ শীর্ষক ১৮৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে নিধনযজ্ঞের জন্য মায়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়। সেখানে ১৩ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা বিশ্বাসযোগ্য অনেক আলামত পেয়েছেন, যার মাধ্যম প্রমাণিত হয় যে, সেনা কর্মকর্তারা সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। অ্যামনেস্টি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। এই সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে দেশটির সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং, ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিয়াউ জাউ, মেজর জেনারেল মাউং মাউং সোয়ে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খিন মাউং সোয়ে, মেজর থান্ত জাউ উইন, স্টাফ সার্জেন্ট বা কিয়াউ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং, মেজর অং মিয়ো থু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান উ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সান লুইন, বিজিপি কর্মকর্তা তুন নায়েং এবং বিজিপি করপোরাল কিয়াউ চায়।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের মায়ানমার থেকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার কর্তৃত্ব আদালতের রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তাদের এ রায় দিয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন একমত পোষণ করলেও একজন ভিন্নমত দেখিয়েছেন।

এই রায় আসার ১১ দিন আগে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের দায়ে মায়ানমারের সেনা প্রধানসহ শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। এছাড়া, ঘটনা বিচারের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশলী আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে রোহিঙ্গাদের যেভাবে মায়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে সেটির তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে কিনা। সে প্রেক্ষাপটে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রায় দিয়েছে যে মায়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করেছে রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে আদালত জানিয়েছে যে এ ধরনের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাংয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। সংস্থাটি জানায়, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ৩৩ ও ৯৯ ব্যাটালিয়নের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তিনি জড়িত ছিলেন। অ্যামনেস্টির দাবি, মিন অং জানতেন তার সেনারা কী করতে যাচ্ছে। তারপরও তিনি সেটা রোধের কোন ভূমিকা নেননি। জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেননি।

ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইন সম্পর্কে অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়, ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইন দেশটির উপ- সেনাপ্রধান। তার ক্ষমতা ছিল লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের অভিযান থামানোর। সিনিয়র জেনারেল কিছু না করলেও তার এখতিয়ার ছিল ব্যবস্থা নেয়ার। কিন্তু তিনিও কোন ব্যবস্থা নেননি।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিয়াউ জাউ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যুরো অফ স্পেশাল অপারেশন্স (বিএসও) নাম্বার-৩ এর কমান্ডার হিসেবে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিয়াউ জাউ। এই বাহিনীই মায়ানমারের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম কমান্ডের সব সামরিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অধীনেই রয়েছে রাখাইন।

মেজর জেনারেল মাউং মাউং সোয়ে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, তার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ইউনিট ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট মাউং নুতে হত্যাযজ্ঞ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মংডু, বুথিডাউং ও রাথেডাউং শরহতলীজুড়ে এই ইউনিট অমানবিক কৌশল অবলম্বন করেছে। যেমন, প্রথম দিকের সহিংসতার পরও রোহিঙ্গাদের অভুক্ত রেখে সেখান থেকে তাদের পালাতে বাধ্য করা। সোয়ের নেতৃত্বাধীন অন্তত এক ডজন ব্যাটালিয়ন বর্ণবাদীর মতো ব্যবস্থা কায়েম করেছে, যেখানে ২০১৭ সালের আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাস করতো। ২০১৭ সালের নভেম্বরে এই মেজর জেনারেলকে কমান্ড থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং তাকে রিজার্ভ বা অক্সিলারি ফোর্সে পাঠানো হয়েছে।

মেজর থান্ত জাউ উইন সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মাউং নু হত্যাযজ্ঞের সময় ৫৬৪তম এলআইবি’র মেজর থান্ত জাউ উন যেখানে বেশিরভাগ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, সেখানকার উঠানে কথা বলছিলেন ফোনে এবং তাকে হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। এরপর তার অধীন সেনারা বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা পুরুষ ও ছেলেকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে।

বিজিপি’র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সান লুইন ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনিই কাইয়ি কান পাইন এলাকায় ক্লিয়ারেন্স অভিযানের নামে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষক ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, ২৫ আগস্ট আরসা’র হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিজিপি কর্মকর্তা তুন নায়েং সম্পর্কে অভিযোগ করেন-বিজিপি’র টাউং বাজার ঘাঁটির কমান্ডিং অফিসার টুন নায়েং গত বছরের ২৫ আগস্ট উত্তর বুথিডাউং শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে নায়েং জানান, রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করার ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত ছিলেন। কিন্তু আটক কাউকে শারীরিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছেন।

বিজিপি করপোরাল কিয়াউ চায় সম্পর্কে নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানান, বিজিপি’র কর্পোরাল কিয়াউ চায় গত বছর চুট পাইন ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, জায় দি পাইনে বিজিপি ফাঁড়িতে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতন করেছেন এই কর্পোরাল। এভাবে অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিয়াউ চায়। বিজিপি’র ফাঁড়ির প্রধান পুলিশ লেফটেন্যান্ট মিয়ো জাউ অয়ো বলেছেন, কর্পোরাল মিথ্যা বলছেন।

আরবান প্রাইমারী হেলথ্ কেয়ার সার্ভিসেস কর্মীদের কর্মবিরতি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সরকার ঘোষিত পেস্কল বহাল রাখা, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকুরীর নিশ্চয়তার দাবীতে

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে ফরম পূরণের সহিত বিনা রশিদে অতিরিক্ত ফি আদয়ের চেষ্টা : দুদকের অভিযান

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯

মিরপুরে রাস্তার ধারে ল্যাব কর্মীর লাশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়া থেকে আরিফুর রহমান বেলায়েত (৪৫) নামে এক

sangbad ad

মদ্যপান করে অশান্তি সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে কথা বলায় মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ছাই

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

মদ্যপান করে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বিপাকে পড়েছেন

পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে অননুমোদিত সামাজিক পাতা ও ভিডিও চ্যানেল বন্ধ করার নির্দেশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

অনুমোদন ছাড়া পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে পরিচালনা করা ২০টি ফেসবুক পেজ, গ্রুপ

অবৈধ পন্থায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাচার : গ্রেফতার ৫

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা করায় রাজধানীর মতিঝিল থেকে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে সচিব পদে রদবদল

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে কর্মরত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বাশিপ এর দেশব্যাপী আনন্দ র‌্যালি ও সমাবেশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বেসরকারী শিক্ষকদের বহু কাঙ্খিত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাবদ ৫৩১ কোটি ৮২ লক্ষ, ২০

চোরা শিকারীদরে জবাই করা হরিণের মাংশ ও চামরা উদ্ধার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাগের হাটের মংলা থানার মিরমারিয়া খালে অভিযান চালিয়ে সুন্দর বন থেকে জবাই

sangbad ad