• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

 

বুলবুলের পর সুন্দরবনে বইছে অনুপ্রবেশের প্রবাহ

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ :
  • শুভ্র শচীন, খুলনা
image

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে এবার রাসউৎসব বাতিল করা হলেও বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস উৎসবকালীন বিপুল সংখ্যক লোক ট্রলার নিয়ে গোপনে বনের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি উৎসব বাতিল করা হলেও অনুপ্রবেশকারীদের মেলাস্থল দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

অনুপ্রবেশকারীর কেউ কেউ হরিণ শিকার করতে পারে বলে সুন্দরবন এলাকার অনেকে আশঙ্কা করছেন। এদিকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক লোক ট্রলার নিয়ে বনের গহীনে অনুপ্রবেশ করেছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য দেখা দিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র জানায়, বনবিভাগ যে সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে আটক ও ট্রলার জব্দ করেছে, তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোক রাসমেলা উপলক্ষে আগে ও পরে সুন্দরবনের গহিনে ট্রলার নিয়ে অনুপ্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আটক হলেও অনেকেই নিরাপদে বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবার লোকালয়ে ফিরে এসেছে।

গত ৫ নভেম্বর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ দিনে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বনবিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩টি ট্রলারসহ ১৯৬ জনকে আটক করেছে। আটকদের সবাইকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সুন্দরবনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বুধবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে বনের হারবারিয়া এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ ৫৫ দর্শনার্থীকে আটক করে বনবিভাগ। মঙ্গলবার সকালে বনের ভদ্রা এলাকা থেকে একটি ট্রলারসহ ১৯ জন ও চরাপুটিয়া এলাকা থেকে একটি ট্রলারসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। সোমবার বনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে গত ৫ নভেম্বর সুন্দরবনের জয়মনি এলাকা থেকে তিনটি ট্রলারসহ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৬০ জনকে আটক করে বনবিভাগ।

এদিকে বনবিভাগের অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা টহল ফাঁড়ির নীলবাড়িয়া খাল থেকে মংলা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপাই গ্রামের হোসেন শেখ ও ইমরান মোল্ল নামে দুই জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়। বন আইনে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পূর্ব সুন্দরবনের ডিএফও মাহমুদুল হাসান জানান, রাসমেলা উপলক্ষে আটকরা কয়েকদিন আগে মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে ট্রলার নিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনের দুবলার চরে যায়।

সেখান থেকে ফেরার পথে অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারীকে বনরক্ষীরা আটক করে।

তবে প্রথম দফায় তিনটি ট্রলারসহ আটক ৬০ জন সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের আগেই হরিণ ধরার ফাঁদ ও সরঞ্জামসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়।

তিনি জানান, বনবিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাসমেলার আগেই যাতে বনে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। এরপরও বনে অনুপ্রবেশের বিষয় বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একশ্রেণীর ‘গডফাদার মহাজন’-এর কাছ থেকে অগ্রিম ‘দাদন’ নিয়ে ছদ্মবেশে বনে ঢুকে শিকারীরা।

এরপর এরা নির্বিচারে হরিণ, বাঘ, বানর, পাখি, সাপ, কুমির, হাঙ্গর শিকার করে পাচার করে। সুন্দরবন অভ্যন্তরের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরে এরা।

সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বাঘ ও হরিণ শিকারের সব ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসে না। বন্যপ্রাণী শিকারি এবং এর ক্রেতাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জসংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রায় দেড়শ’-এর অধিক সংঘবদ্ধ শিকারীদল রয়েছে।

এদের অবস্থান বরগুনা জেলার পাথরঘাটার চরদুয়ানী, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, রামপাল, মংলা, মোড়েলগঞ্জ, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা জেলার পাইকগাছা, দাকোপ, কয়রা এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলায়। এসব শিকারীরা বনে ঢুকে খাদ্যে বিষ অথবা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে, ফাঁদ কিংবা বন্দুক দিয়ে গুলি করে বাঘ ও হরিণ হত্যা করে।

তারপর স্থানীয় পদ্ধতিতে চামড়া, মাংসসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ এবং তা গোপনে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পর কৌশলে চোরাচালানিদের ডেরায় পৌঁছে দেয়া হয়।

পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশের কালোবাজারে বাঘের চামড়া কেনাবেচা হয়।

স্থানীয়ভাবে একটি বাঘের চামড়ার জন্য শিকারিরা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পেলেও বিদেশে একটি বাঘের চামড়ার মূল্য এর কয়েকগুণ বেশি।

কুমিরের চামড়া, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও বাঘ, হরিণের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মূল্যও অতি চড়া। তাছাড়া বাঘের শুকনো মাংস ও হাড়চুর্ণ কাজে লাগছে বুড়ো কোটিপতিদের। তাদের বিশ্বাস, এসব সেবনে হারানো পৌরুষ ফিরে পাবে তারা!

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শিকারীরা বাঘ ও হরিণ ছাড়াও বিশেষ কায়দায় বনের বানর ধরে এনে দেশে-বিদেশে পাচার করছে।

সার্কাস খেলা ছাড়াও অনেকে বাড়িতে শখ করে বানর পোষে। তবে পাচারকারীদের কাছে বাচ্চা বানরের চাহিদা বেশি।

এক শ্রেণীর শিকারি সুন্দরবন থেকে হরেক রকম পাখি শিকার করে তা খুলনার নিউমার্কেট, চিত্রালী ও বয়রা বাজার এবং ঢাকার কাঁটাবন এলাকার পাখির দোকানে সরবরাহ করে। মানিকগঞ্জ এলাকার কিছু সাপুড়িয়া স্থানীয় সাপুড়িয়াদের সহযোগিতায় জেলের ছদ্মবেশে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিষধর সাপ ধরে বিষ প্রসেসিং করে তা বিদেশে বিক্রি করে।

ওইচক্রটি কুমির ও গুইসাপ মেরে তার চামড়া এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গ মোটা অংকের বিনিময়ে পাচার করছে।

১৯৬০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রায় ১৫০টি বাঘ হত্যার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতসংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। এ সময় প্রায় শতাধিক বাঘের চামড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও এর গডফাদাররা ধরা পড়েনি। বনবিভাগের কাছে এ ব্যাপারে কোন সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। তবে ১৯৮১ থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রায় শতাধিক বাঘ হত্যার শিকার হয়েছে বলে সুন্দরবনের জেলে বাওয়ালিদের অভিমত। বনজীবীরা জানান, সুন্দরবনের চাঁদপাই এলাকায় সবচেয়ে বেশি রয়েলবেঙ্গল টাইগার হত্যার শিকার হয়। হরিণ এত হরহামেশাই শিকারে পরিণত হয় যে, এর কোন পরিসংখ্যান কেউ রাখে না। সুন্দরবনে অতীতে বহুপ্রজাতির বিরল প্রাণীর উপস্থিতি ছিল, যেগুলো কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়েছে। বুনো মহিষ, পারা হরিণ, বুনো ষাঁড়, ছোট ও বড় এক শৃঙ্গি গন্ডার, বার শিংগা, চিতা বাঘ বিলুপ্ত হয়েছে অনেক আগেই। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সাদা মানিক জোড়া, গগণ বেড়, তিতিরসহ ১৬ প্রজাতির বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। বনের ভেতর বন মোরগের ডাক শোনা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক মঈনুদ্দিন খান জানান, শিকারি ও বনদস্যুদের গ্রেফতারের জন্য বনবিভাগ, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে। বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার বন্ধে সুন্দরবনে ঢোকা এবং বের হওয়ার নদী-খালগুলোর মুখে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলে বছরে আয় ২ হাজার কোটি টাকা

মাহফুজ উদ্দীন খান, চুয়াডাঙ্গা

image

দেশের মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত ব্লাক বেঙ্গল বেশি পালন করায় চুয়াডাঙ্গা জেলাকে ব্র্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রোগ বালাই কম ও লাভজনক

লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার হেক্টর ছাপিয়ে যাবে পিয়াজ আবাদ

আব্দুল হান্নান, সদরপুর (ফরিদপুর)

image

চলতি রবি মৌসুমে দেশে পিয়াজ-রসুনের পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে পিয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে

লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা ফজলু

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া)

image

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বিজয় দিবস উপলক্ষে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরু

sangbad ad

এলাকাবাসীর স্বউদ্যোগে কাঠের সেতুতে জীবন ঝুঁকির অবসান

আতাউর রহমান, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

image

ভালুকার ঝালপাজা গ্রামে খীরু নদীর ওপর প্রায় দেড়শ ফুট লম্বা একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এলাকাবাসী। ভালুকার

আওয়ামী লীগ নেতা ও বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন উজাড়ের অভিযোগ

শামসুল ইসলাম সহিদ, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

image

বনের জায়গা দখল করে অবাদে নির্মিত হচ্ছে ঘর বাড়ি। এতে বনের জায়গা কমে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ

ব্যাংক থেকে ১১৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে দম্পতি উধাও

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সাউথ ইস্ট ব্যাংকের নওগাঁ শাখা থেকে ব্যবসার জন্য ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এক ব্যবসায়ী দম্পতি। ব্যবসায়ী

বাব-দাদার দান বলে স্কুল মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

image

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান নিজের নিচু

শিবচরে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীতে খুঁজে পাওয়া যায় না ১৯’শ কোটি টাকা!

প্রতিনিধি, শিবচর (মাদারীপুর)

image

শিবচরে শেখ হাসিনা তাঁত পল্লীতে কোটি টাকার দুর্নীতি অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণও মিলেছে। ক্ষতিপূরণের তালিকায় বেশকিছু

নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্য হুমকি উপেক্ষা করে মৎস্য ঘেরে মুরগির খামার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

image

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছের খাদ্য হিসেবে বরিশালের অধিকাংশ

sangbad ad