• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

 

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি : ১৫ নারী ও শিশুর মৃত্যু

নিউজ আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সংবাদ :
  • জসিম সিদ্দিক, কক্সবাজার/নুরুল হক, টেকনাফ
image

অবৈধভাবে পাচারকালে বঙ্গোপসাগরে উদ্ধারকৃত ট্রলার আরোহীরা-সংবাদ

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে পাচারকালে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ১৫ নারী ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন এলাকার অদূরে বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলারডুবির ঘটনায় ৭২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের উদ্ধাকারী জাহাজ। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ মায়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ট্রলারডুবির ঘটনায় মারা যাওয়া নারী ও শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করে তীরে আনা হলে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। এদিকে, ট্রলারে এসব নারী-পুরুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে টেকনাফ বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ার ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), টেকনাফ সদরের সৈয়দ আলম (২৭), উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিম (৩০) ও বালুখালীর ওসমানকে (১৭) আটক করা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সভায় এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন, এডিএম মো. শাজাহান আলী, সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরের অদূরে মালেশিয়াগামী একটি বোট সাগরে ডুবে যাওয়ার খবর দেয় সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড। এ খবরে সিজি স্টেশন টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই উদ্ধারকাজে কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক, একটি কাটের ও ৮টি স্পিড বোট নিয়ে কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ভাসমান অবস্থায় ৭২ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব মৃতদেহের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৩ জন শিশু। জীবিতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী, ৪ জন শিশু ও ২২ জন পুুুুরুষ। উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ ছাড়াও ট্রলারডুবিতে উদ্ধারে যায় বিমানবাহিনীর ২টি হেলিকপ্টার।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় চার পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, টেকনাফ বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ার ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), টেকনাফ সদরের সৈয়দ আলম (২৭), উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিম(৩০) ও বালুখালী ক্যাম্পের ওসমান(১৭)। তিনি আরও জানান, এই উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড জাহাজ ও স্থানীয়রাও অংশ নেয়। তবে এখনও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। উদ্ধার লাশ ও জীবিতসহ আটক পাচারকারীদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উদ্ধার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. জুবাইর জানায়, মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে ক্যাম্প থেকে নিয়ে আসে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ার সৈয়দ আলম ও নুরুল আলম। তারা আমাদেরকে একদিন জুমপাড়া পাহাড়ে রাখে। ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে তাদের এলাকা দিয়ে একটি ছোট বোটে করে বড় ট্রলারে তুলে দেয়। এ ট্রলারে ১৩৮ জন মতো লোক ছিল। ভোরে সেন্টমার্টিনের অদূরে, পশ্চিমে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ফেটে গিয়ে পানি ঢুকতে থাকে। তবে এ ঘটনাটি সকালের দিকে হওয়ায় অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের কথা চিন্তা করে, উন্নত জীবনের আশায় এ পথে যেতে চাইলাম মালয়েশিয়া, কিন্তু যেতে গিয়ে সব শেষ হয়ে যেত।

উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্পের আনোয়ারা বেগম জানান, তাদের মায়ানমারের রাখাইনে বাড়ি-ঘর ও পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব ভালো অবস্থা ছিল। সেসব ঘর-বাড়ি রেখে এখন ঠাঁই হয়েছে উখিয়ায় পাহাড়ের ঝুঁপড়িঘরে। এনজিওর দেয়া ত্রাণে চলছে পরিবার। তিনি বলেন, ‘তার এক ভাই মালয়েশিয়া রয়েছে। তার কথামতো দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলাম। কিন্তু মালয়েশিয়ার স্বপ্নপূরণ দূরে থাক, আল্লাহ প্রাণে রক্ষা করেছেন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি টেকনাফ বাহারছড়া উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া পাচারকালে ২২ জনকে আটক করে পুলিশ। তার মধ্যে ১৮ নারী, ১ শিশু ও ৩ পুরুষ ছিল। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এর কয়েকদিন আগে উখিয়া-টেকনাফ উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া পাচারকালে ৭০ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৮ জন নারী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২০-এর মধ্যে। এতে চার দালালকে আটক করা হয়। তারা হলেন, টেকনাফের মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, মো. হুমায়ুন, মো. মামুন ও উখিয়ার আবদুল কাদের।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার শফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভাসমান অবস্থায় ৭১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলারে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল। উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। এখনও অর্ধশতাধিকের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে। তবে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনা শুনেছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে মানব পাচারকারী চক্র এবার পাচারের জন্য রোহিঙ্গা শিবিরকে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। এসব পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদেরই একটি দালাল চক্র। ২০১৭ সালের আগস্টে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতনের কারণে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এছাড়া আগে থেকেই বাংলাদেশে চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১২ লাখের মতো, যারা কর্মহীন দিন কাটাচ্ছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে পাচারকারী চক্রগুলো আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে সমুদ্রপথে পাচার কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা দালাল। তাদের দেয়া তথ্যমতে, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবপাচারকারী চক্রের অনেক সদস্য জড়িত। তাদের মধ্যে, হাফেজ ছলিম, আতাত উদ্দিন, মোহাম্মদ আলম, আবদুর করিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ কবির, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ফয়েজ, নূর হোসেন, মোহাম্মদ রশিদ, হাসিম উল্লাহ, মোহাম্মদ শাহ ও মোহাম্মদ হামিদ। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। সূত্র জানায়, ২০১০ সালে টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে মানব পাচার শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের পর থেকে পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে কয়েক লাখ বাংলাদেশি ও মায়ানমার নাগরিক মালয়েশিয়া পাড়ি জমায়। মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মারা যান। আবার সে সময় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উপকূলে অসংখ্য গণকবর আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবরের সন্ধানের পর আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তখন সাগরপথে মানবপাচার বন্ধে ব্যাপক তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। ওই সময় টেকনাফে পুলিশ ও মানব পাচারকারীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ শাহপরী দ্বীপের ধুলু হোসন, সাবরাং কাটাবনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম ও হারিয়াখালীর জাফর আলম নিহত হয়েছিল।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)

দুদক নিজস্ব ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করছে না : টিআইব’র গবেষণার তথ্যে একমত দুদক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত অনুসন্ধান

উদ্বোধন করেই শেষ!

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

image

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিগত ৪ বছর ধরে রাস্তা বিহীন একটি সেতু পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। সেতুটি আসছে না মানুষের কোন কাজে।

sangbad ad

খালসংলগ্ন ফসলি জমি, পাকারাস্তা এবং বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি

প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)

image

চরফ্যাশনের আসলামপুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের আমিরুদ্দির খালে ড্রেজার বাসিয়ে মাটি কেটে বিক্রির ফলে খালসংলগ্ন ফসলি জমি

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল পূনঃনিরীক্ষায় প্রকাশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল পূনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়া গ্রেফতার : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে

পাপিয়া ১৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়ার অর্থ ও ক্ষমতার

কারাবন্দী সেন্টুর মাদক ব্যবসা পরিচলানায় একাধিক স্ত্রী ও সিন্ডিকেট

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

image

কারাগারে বসেই মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক সম্র্রাট শাকিল খান সেন্টু। বরিশাল ও ঝালকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন থানায়

খাল ভাঙনের কবলে পড়েছে প্রায় ৫০ পরিবার

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

image

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি খাল ভাঙনের কবলে পড়েছে প্রায় ৫০ পরিবার। ভাঙন থেকে রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের

sangbad ad