• banlag
  • newspaper
  • epaper

ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

 

রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণার পর

অনিশ্চয়তার মুখে মধুপুর গড় অঞ্চলের ২০ হাজার আদিবাসী

নিউজ আপলোড : ঢাকা , শুক্রবার, ১০ আগস্ট ২০১৮

সংবাদ :
  • মোস্তাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল থেকে ফিরে

মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নের গায়রা গ্রামের অধিবাসী হেমুতী নকরেট। বয়স ষাটের অধিক। এই এলাকায় শত বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছে তার পরিবার। ভিটেসহ সব জমি পড়েছে সরকার ঘোষিত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতায়। তাই বনাঞ্চল ঘোষণার পর থেকেই উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন হেমুতী নকরেটের পরিবার। অনেকটা ক্ষোভের স্বরেই বললেন, ‘শুনেছি, আমাগো উচ্ছেদ করবো। আগেও করতে চাইল। ছেলেরা রক্ত দিয়েছে। কেউ যাইনি। এই বারও যাইব না। মাটি কাইমড়ে থাকব। জীবন গেলেও ছাইড়ব না।’

শুধু গায়রা গ্রামের হেমুতী নকরেটই নয় এমন আতঙ্কে ভুগছেন অরণখোলা ইউনিয়নের গারো, বর্মণ, কোচসহ হাজার হাজার আদিবাসী। তবে নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল কার্যকরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তাদের। তাদের অভিযোগ, অনেকটা অজান্তেই পরিচালিত হয়েছে সংরক্ষিত বনভূমি কার্যক্রম। যেখানে যুগ যুগ ধরে এতগুলো মানুষের বসবাস, সেখানে কোন ধরনের সংলাপ-আলোচনা ছাড়াই বিস্তীর্ন এলাকাকে সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ভূমির ওপর কোন দাবি-দাওয়া নেই উল্লেখ থাকায় নিজভূমি থেকে অচিরেই চিরতরে উচ্ছেদ হয়ে যাবে বলেও মনে করছে তারা।

সম্প্রতি মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ও আদিবাসী অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য থাকলেও এলাকাটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে অবকাশ ও বিনোদন কেন্দ্র, বাংলো মতোর বিভিন্ন স্থাপনা। বনে ‘ইকো ট্যুরিজম’ এলাকা ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বন বিভাগ এছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকাকে ঘিরে দেয়ালও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে তাদের ভূমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। আর যেহেতু সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয়েছে তাই স্বাভাবিকভাবেই এক সময় অরণখোলা ইউনিয়নের গ্রামগুলো থেকে আদিবাসীদের সরিয়ে দেয়া হবে বলে মনে করছেন সেখানকার আদিবাসী নেতারা।

একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ‘আচিক মিচিক সোসাইটি’ এর নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং। প্রতিষ্ঠানটির সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদকে বলেন, ‘এই ভূমির ওপর আদিবাসীদের যুগ যুগ ধরে বসবাস। ভূমির সাথে জরিয়ে রয়েছে আদিবাসীদের জীবন-মরণ। এই ভূমিকে ঘিরে আমরা নানা স্বপ্ন দেখি। এখন সেই ভূমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে। এটা কোন সভ্য রাষ্ট্রেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এই আদিবাসী নেত্রী সুলেখা আরও বলেন, হাজার হাজার আদিবাসীকে বাস্তুহারা করে বিনোদনের জায়গা নির্মাণ করা হবে। তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

সেখানকার জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক সংবাদকে বলেন, ‘এর আগেও একবার ইকোপার্ক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আমাদের রক্তাক্ত আন্দোলনে সেই উদ্যোগ থেমে গিয়েছিল। এতে জীবন দিতে হয়েছে পীরেন স্নাল, চলেশ রিছিলকে। উৎপল নকরেকসহ অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এখন আবার সেই ইকোপার্কের আদলেই সব কিছু করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সরকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকেই এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে। আশা করি, সরকার এবিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। আর নয়তো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আবারও আন্দোলন নামবেন তারা।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক গেজেটের মাধ্যমে মধুপুর গড় এলাকার ৯ হাজার ১৪৫ একর জমিকে চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করে। এই জমিগুলোর মধ্যেই আদিবাসীদের ১৩টি গ্রাম পড়েছে। গ্রামগুলো হচ্ছে- গায়রা, জলই, টেলকি, সাধুপাড়া, জালাবাদা, কাঁকড়াগুনি, বেদুরিয়া, জয়নাগাছা, বন্দরিয়া, কেজাই, পনামারি ও গাছাবাড়ি। এসব গ্রামের ১ হাজার ৮৩টি আদিবাসী পরিবারের ৬ হাজার ৭৭ জনের বসতবাড়ি এবং তাদের আড়াই হাজার একর চাষাবাদের জমি রয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২২টি মসজিদ-গির্জা-মন্দির-তীর্থস্থান, ৭টা বাজারসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব গ্রামে যুগ যুগ ধরেই গারো, বর্মন, কোচসহ আরও বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ২০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঘোষিত বনভূমি এলাকায় কারও কোন দাবি-দাওয়া উপস্থাপিত হয় নাই, তবে কয়েকটি দাবি-দাওয়া থাকলেও তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

আাদিবাসী নেতারা বলছেন, সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিস্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংবিধানের #২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল বলে গণ্য হবে। #২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না। রাষ্ট্র আদিবাসীদের জন্য তাদের চিরাচরিত ভূমি অধিকার সংরক্ষণসহ যে কোন বিশেষ সংবিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। #৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতেক নাগরিকের তার নিজের সম্পদ বা সম্পত্তির উপর ভোগ, অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অনভাবে বিলিল্টবস্থা করার অধিকার থাকবে। কোন সম্পত্তি জোরপর্বক গ্রহণ বা দখল করা যাবে না।

আদিবাসী নেতাদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের অনুস্বাক্ষর রয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৫৭ সালের আদিবাসী ও জনজাতি বিষয়ক কনভেনশনে। এর ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ঐতিহ্যগতভাবে অধিকৃত ভূমির ওপর যৌথ কিংবা ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার স্বীকার করতে হবে।’ রাষ্ট্র আইএলও’র ১০৭নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের চিরাচরিত বা প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতিও দিয়েছে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এটি দৃশ্যমান, ১৯২৭ এর বন আইনের ২০ ধারার অধীনে মধুপুর অরণখোলা ইউনিয়নের হাজার হাজার আদিবাসীদের সঙ্গে সংলাপহীনভাবে, সংরক্ষিত বন ঘোষণাটি সংবিধান ও আইএলও কনভেনশনের লঙ্ঘন। প্রজ্ঞাপনে ভূমির ওপর কারও কোন দাবি-দাওয়া উপস্থাপিত হয়নি উল্লেখ করার অর্থ, যুগ যুগ ধরে বসবাসরত আদিবাসীদের তাদের ভূমি থেকে বিতারিত করার একটি গোপন চক্রান্ত বলেও অভিযোগ তাদের।

মধুপুর গড় অঞ্চলের ২০ হাজারের অধিক আদিবাসী রিজার্ভ ফরেস্ট (সংরক্ষিত বন) ঘোষণার ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন জানিয়ে গত সোমবার বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করা। মধুপুর গড়ে গারো, কোচসহ আদিবাসীদের ভূমিতে ঘোষিত রিজার্ভ ফরেস্ট বাতিল করার দাবি জানান।

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সমাহিত হলেন গোলাম সারওয়ার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও

ঈদ উপলক্ষ্যে ফোকালুর ব্র্যান্ডে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

সাজসজ্জায় নারী জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ফোকালুর’ এখন ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডিস্থ মেট্রো শপিং মলে। ফোকালুর

ঝিনাইদহের নদী খাল বিল থেকে বাঁধ অপসারণ

জেলা বার্তা পরিবেশক, ঝিনাইদহ

image

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নদীতে অবৈধভাবে দেয়া বাঁধ অপসারণ

sangbad ad

যানজট এড়াতে খুলে দেয়া হচ্ছে ধেরুয়া উড়াল সেতু

প্রতিনিধি, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

image

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অন্যতম যানজট প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ধেরুয়া রেল

আউশের বাম্পার ফলন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কৃষক

সংবাদ জাতীয় ডেস্ক

image

বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও কুড়িগ্রামে আউশের বম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর ধানের ফলন ভালো

পেট্রোবাংলার সাত কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির কয়লা লুটের ঘটনায় পেট্রোবাংলার সাত

থামছে না সড়ক হত্যা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শেষ হওয়ার পর ফের বেপরোয়া সড়কের দানবরা। থামছে না সড়কে হত্যা! বুধবার (১৫ আগস্ট) রাজশাহী

দা-ছুরি চাপাতির বাজার জমজমাট

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

কোরবানি ঈদের বাকি মাত্র ৬ দিন। ইতোমধ্যে পশুর হাটের মতো জমে উঠেছে দা-ছুরি চাপাতির বাজার। কামারপাড়ার লোহা পেটানোর

৫২ মামলায় ৯৯জন উস্কানিদাতা গ্রেফতার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের

sangbad ad